উজিরপুর পৌরসভা নির্বাচনে ভোটারদের সু-দৃষ্টিতে নৌকার প্রার্থী গিয়াস

0
4

দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ

আর মাত্র একদিন পর আগামী ২৮ ডিসেম্বর বরিশালের উজিরপুর পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তীব্র শীতের মধ্যেও এখানে ভোটের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিটি অলিগলির চায়ের দোকান থেকে হাটবাজারে এখন সর্বত্র ভোটের আলোচনা। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে অলিগলি-গ্রাম-রাস্তা-হাট-বাজার। বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক-মহাসড়কে ঝুলছে ব্যানার-পোস্টার। ভোটের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত নেতা-কর্মীদের পদচারণায় দলীয় কার্যালয়গুলো মুখরিত হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠেয় উজিরপুর পৌরসভার এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আর এই নির্বাচনে ভোটাররা পৌরসভার ৯টি ভোট কেন্দ্রের সবগুলোতে ইভিএমে ভোট প্রদান করবেন। তবে ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ নিয়ে কোন কোন প্রার্থীর চোখেমুখে শঙ্কার ছাপ দেখা দিলেও নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীসহ নেতাকর্মীরা বলছেন, ‘ইভিএমে কোন ধরনের জালিয়াতি করা সম্ভব না। তাই শঙ্কার ভাবনা অমূলক।’

জানা গেছে, এ পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণ করছেন- আওয়ামী লীগের মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সদ্য বিদায়ী মেয়র ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন বেপারী, বিএনপির মনোনিত ধানের শীষ প্রতীকের মো. শহিদুল ইসলাম খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনিত হাতপাখা প্রতীকের মো. কাজী শহিদুল ইসলাম। এছাড়া সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ৯ জন ও সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে ২৪ জন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, শনিবার প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনেও প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা ও গণসংযোগ করে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সদ্য বিদায়ী মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন বেপারী তীব্র শীত উপেক্ষা করেও সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দিনভর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। ভোটের আশায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি সব শ্রেণি পেশার মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নৌকা প্রতীকের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। এমনকি গণসংযোগ থেকে গৃহিণীরাও বাদ পড়ছেন না। সেই সাথে বিগত বছরের উন্নয়নমূলক কাজের বরাত দিয়ে ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। অপরদিকে সদ্য বিদায়ী মেয়র গিয়াস উদ্দিন বেপারী পৌরবাসীর কাছে পরিচ্ছন্ন মনের মানুষ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় গণসংযোগকালে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বৃদ্ধ-মধ্য বয়সের নারী ও পুরুষের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছেন। এ সময় আওয়ামী লীগের মনোনিত নৌকা প্রতীকের মেয়রপ্রার্থী উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন বেপারী জানিয়েছেন, ‘এ পৌরসভায় প্রথমবারের মতো ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তাই নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং ভোটারদের মূল্যবান ভোটে পুনরায় নৌকা প্রতীকের বিজয়ের সম্ভবনা শতভাগ।’

এদিকে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে নেই অপর দুই মেয়র প্রার্থীসহ সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীরা। দিনরাত তারাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি উঠান বৈঠক, আলোচনা সভা ও কর্মিসভা করছেন। এরপরেও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে রয়েছে অনেক প্রার্থীর শঙ্কা।

ইভিএমে ভোট গ্রহণে ব্যাপক সংশয় প্রকাশ করে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ‘ইভিএমে ভোটগ্রহণ সম্পর্কে অশিক্ষিত কিংবা অল্প শিক্ষিত ভোটারদের কোন প্রকার ধারণা নেই। তাছাড়া ইভিএমের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হলে ক্ষমতাসীনরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোট ডাকাতি করতে পারে।’ তবে এমন শঙ্কাকে এবার উড়িয়ে দিয়ে ভোটাররা বলছেন, কোন কিছুর বিনিময়ে তারা অযোগ্য মানুষের পক্ষে রায় দিতে রাজি নন। ভোটাররা যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন মনের মানুষকে নিজেদের এলাকার নেতা হিসেবে দেখতে চান। যিনি এ পৌরসভাকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করে সারাক্ষণ পৌরবাসীর পাশে থাকবেন।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here