কিশোর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মাহবুব (২য় পর্ব)

0
10

নুরুল আমিন

৩.
মেঘনা নদীর পাড়ের সবুজ-শ্যামল, সুজলা-সুফলা, ছায়াঘেরা-মায়াভরা ছবির মতো সুন্দর  খামাররামদেবপুর গ্রামের আলো-বাতাসে তিনি বড় হয়েছেন। এখানেই কেটেছে তার শৈশব-কৈশর। এই গ্রামের কাদামাটিতে মিশে আছে তার হৃদয়। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা মেঘনার জলে তিনি সাতার কাটতেন। তিনি  খামাররামদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন। এরপর মির্জাকালু হাই স্কুলে ভর্তি হন। লালমোহনের শাহবাজপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন নিয়ে অনার্স পাস করেন। পরিবারে ভাই-বোন তিনজনের মধ্যে তিনি বড়। তাদের পরিবার যেন সুখেভরা একটি চাঁদের হাট।
৪.
দেশে ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তখন তিনি অষ্টম শ্রেণিতে পড়েন। ছাত্র হিসেবে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। বিজ্ঞান বিষয়ে তার আগ্রহ ও পারদর্শিতা ছিল প্রশংসনীয়। তাছাড়া তিনি সংস্কৃতিমনা। ছোটবেলায় সমাজের দুঃস্থ-অসহায় মানুষের সেবক হিসেবে সমাজে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তিনি তার গ্রামকে মায়ের মতো ভালবাসেন। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করার স্বভাব তার ছোটবেলা থেকেই গড়ে ওঠে। কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে তিনি ভয় পেতেন না।
৫.
তিনি সততা, সত্যবাদিতা ও ন্যায়নিষ্ঠার গুণে গুণান্বিত গুণী এক তারুণ্য। তিনি বিনয়ী, উদার মনের, সদালাপী ও মুক্ত চিন্তার মানুষ। হাসি যেন তার মুখে লেগেই থাকে। গ্রামের সব মানুষ তাকে ভালবাসে এবং আদর-স্নেহ করে। গ্রামের মাটি ও মানুষের সাথে তার হৃদয়ের নিবিড় সখ্যতা তিলে তিলে গড়ে ওঠেছে। তাইতো দেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো, তখন দেশপ্রেমিক মাহবুব থেমে থাকতে পারেননি। তাদের গ্রামে হানাদার বাহিনী এসেছে শুনে তার মন কেঁদে ওঠে। মুক্তি পাগল জনতার সাথে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। (৩য় পর্ব দেখুন।)

লেখকঃ সাংবাদিক, কলামিস্ট, কথাসাহিত্যক, কবি ও প্রাবন্ধিক। লালমোহন, ভোলা। nurulamin911@gmail.com. 01759648626.

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here