চরফ্যাশনে অবাধে নিধন হচ্ছে মাছের পোনা

0
49

কে হাসান সাজু, চরফ্যাশন

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভোলায় মেঘনা নদীতে বন্ধ হচ্ছে না বাগদা রেনু শিকার। এক শ্রেণির মুনাফালোভী জেলে চক্র মশারি জাল দিয়ে বাগদা শিকার করেই চলছেই। এতে যেমনি ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় মাছ ও নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র।

ওই জালে বাগদা রেনুর সঙ্গে উঠে আসছে বিভিন্ন দেশি প্রজাতির মাছের পোনা। যা বাগদা শিকারিরা নদী তীরেই ফেলে যাচ্ছেন। ফলে শুধু বাগদাই নয়, হুমকির মুখে পড়ছে অন্যান্য প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা ও ডিম। নির্বিচারে ডিম ও পোনা ধ্বংস করায় কমে যাচ্ছে নানা জাতের দেশি মাছের উৎপাদন। ফলে বাজারে দেশী মাছের সরবরাহ কমে বাড়ছে দাম।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীর তীর ঘেঁষে কিংবা চরের মধ্যে মশারি জাল দিয়ে প্রতিদিন চলছে বাদগা রেনু শিকার করেছে ব্যবসায়ীরা। সঙ্গে উঠছে নানা জাতের মাছের পোনা ও ডিম আর বিভিন্ন প্রজাতির পোকা-মাকড়। এরপর বিশেষ পাত্রে বাগদা রেনু রেখে বাকিগুলো বাইরে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। ফলে অন্যান্য প্রজাতির মাছ ধ্বংসের পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে জীববৈচিত্র।

চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া, সামারাজ, খেজুর গাছিয়া, নতুন স্লুইজ, চরকচ্ছপিয়া, ঢালচর, দুলারহাটের বাংলাবাজার, ঘোষেরহার, কাছিয়াখালি, হাজিরহাটের রাস্তার মাথায়, ভাড়ানীখাল, মজিবনগর এলাকায় চরফ্যাশনের ২০/২২টি পয়েন্টে অবাধে রেনু শিকার চলছে। আহরিত একেকটি পোনা ২/৩ টাকা করে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন তারা। যা পাইকাররা পরে কৌশলে পাচার করেন ঘের ও হ্যাচারি মালিকদের কাছে।

চরফ্যাশনের মেঘনা ও তেঁতুলিয়া বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধে বাগদা শিকার চললেও তা বন্ধে নেই কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ। এতে অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন শিকারিরা।

বাগদা রেনু আহরণ ঠিক নয় স্বীকার করে কয়েকজন শিকারি বলেন, জৈষ্ট থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত বাগদা রেনু পাওয়া যায় নদীতে। ইলিশ বা অন্যান্য মাছ ধরতে হলে নদীর গভীরে যেতে হয়, দরকার পড়ে নৌকার, ইঞ্জিন চালিত নৌকার জন্য আবার জ্বালানি তেল লাগে, সব মিলিয়ে তাতে খরচ ও শ্রম দুই-ই লাগে অনেক বেশি। আর বাগদা রেনু শিকার করা যায় নদীর তীর ঘেঁষেই, সঙ্গে একটা মশারি জাল আর পাত্র হলেই চলে।

অন্য মাছ ধরার চেয়ে অনেক সহজে ও বিনা পুঁজিতে শিকার করা যায় বাগদা রেনুর পোনা। আর দামও পাওয়া যায় ভালো। একেকজনের প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে হাজার টাকা আয় হয়, তাই ছেলে-বুড়ো সবাই নেমে পড়েন বাগদা শিকারে। বাগদা রেনুর মৌসুমে অনেক জেলেই অন্য মাছ ধরা বাদ দিয়ে রেনু শিকার করেন। তবে রেনু শিকারের সময় অন্যান্য প্রজাতির পোনাও জালে উঠে আসে। বাগদা রেনু রেখে বাকি পোনাগুলো নদী তীরেই ফেলে দেওয়া হয়। যা নষ্ট হয় সেখানেই।

জানা গেল যায়, অন্য জেলায় চেয়ে ভোলায় দু‘পাশে মেঘনা ও তেতুঁলিয়া নদী বেষ্টিত থাকায় বাগদা রেনুর চাহিদা বেশী। সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বেশি মুনাফার আশায় অনেক জেলে বাগদা শিকারে নেমে পড়েছেন।

চরফ্যাশন ক্ষুদ্র মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি মো. নান্নু মিয়া বলেন, আমরা জেলেদের বাগদা শিকার করতে নিষেধ করেছি, কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেন না। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

চরফ্যাশন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. এারুফ হোসেন মিনার বলেন, বাগদা শিকার বন্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে, এছাড়া প্রচারণাও ব্যপক হয়েছে। অনেক জেলেকে ডেকে এনে বাগদা শিকার করতে নিষেধ করা হচ্ছে। এদিকে বাগদা রেনু শিকার বন্ধ করে দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষার দাবি চরফ্যাশন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here