চরফ্যাশনে গৃহবধু হত্যা । অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ৫২দিন পর মামলা

0
10

কে হাসান সাজু, চরফ্যাসন

ভোলা চরফ্যাশন সরকারি কলেজের অফিস সহায়ক গৃহবধু খাদিজা নাসরিনের মৃত্যুর ৫২দিন পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমান পাওয়ার পর নিহতের ভাই রুবেল বাদী হয়ে স্বামী কামাল দেওয়ানসহ ৬ জনকে আসামী করে চরফ্যাশন থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

গত ২২ নভেম্বর পুলিশ স্বামীর বসত ঘরের দরজা বন্ধ শোয়ার ঘর থেকে নিহতের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন। তখন থেকেই নিহতের পরিবার তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে আসছেন। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠান। ৫২ দিন পর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমান পাওয়ায় পুলিশ এঘটনায় হত্যা মামলা নেয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ এবং মামলা সুত্রে জানাযায়, দেড় বছর আগে পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের আবুল হোসেন দেওয়ানের ছেলে কামাল দেওয়ানের সাথে নাছরিন খাদিজার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর পরিবারের সদস্যরা যৌতুক দাবী করে আসছিলেন। এনিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিলো। স্বামী পরিবারের দাবীকৃত যৌতুকের ওই টাকা না দেয়ায় নাছরিন খাদিজাকে নির্যাতন করতেন স্বামীসহ তার পরিবারের সদস্যরা। গত ২২ নভেম্বর নাসরিন খাদিজার একটি নবজাতক শিশুর জম্ম হয়। পরদিন ২৩ নভেম্বর বিকালে ১ দিন বয়সী নবজাতক শিশুসহ নাছরিনকে হাসপাতাল থেকে স্বামীর বাড়িতে নেয়ার পথে নাসরিন নবজাতক শিশুকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে না গিয়ে বাবার বাড়ি যেতে চাইলে এনিয়ে স্বামীসহ তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তর্কবিতর্ক হয়। এর জের ধরে ওই দিন বিকালে নাসরিন খাদিজাকে স্বামীসহ তার পরিবারের সদস্যরা স্বামীর বাড়িতে দফায় দফায় মারধর করেন। মারধরে অসুস্থ হয়ে পরলে রাতে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বসত ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেয়।

এসময় নবজাতক শিশু সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি না যেতে পেরে অভিমানে নাছরিন খাদিজা আত্মহত্যা করেছেন বলে স্বামীর পরিবারের সদস্যরা জানান দেন। পরে চরফ্যাশন থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেন এবং এঘটনাায় অপমৃত্যু মামলা নেন।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here