চাপ সামলাতে কতটা প্রস্তুত স্বাস্থ্য বিভাগ

0
82

দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুতে প্রতিদিনই রেকর্ড হচ্ছে। কিন্তু আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না চিকিৎসার সুবিধা। গতকাল শনিবার পর্যন্ত দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজার ছাড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ হাজার জন সুস্থ হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ছয়শ’র বেশি মানুষের। প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ এখনও সংক্রমণ বয়ে চলেছে। অথচ সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারাদেশে করোনা রোগীদের জন্য মাত্র ১৪ হাজারের মতো শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় মাত্র ৩১ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং ঢাকার বাইরে ২৩ দশমিক ২৩ শতাংশ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে পেরেছে। অন্যরা বাসাবাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। ঢাকায় এখন মাত্র ৩৭০টি শয্যা খালি আছে। প্রয়োজন থাকার পরও অধিকাংশ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। বাসায় থেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া কয়েকজন হাসপাতালে যাওয়ার পথেই মৃত্যুবরণ করেছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময়ের বুলেটিনে জানানো হয়।

দেশে এখন করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণ চলছে। দীর্ঘ ৬৬ দিন ছুটির পর আজ রোববার থেকে খুলছে অফিস-আদালত। কাজে যোগ দিতে গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ এরই মধ্যে ঢাকায় ফিরেছে। আক্রান্তের সংখ্যা সামনের দিনগুলোতে আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা। এ অবস্থায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ অনেক বেড়ে যাবে। সেই চাপ স্বাস্থ্য বিভাগ কতটুকু সামাল দিতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, সবকিছু খুলে দেওয়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়বে। কিন্তু সে তুলনায় চিকিৎসা সুবিধার সম্প্রসারণ হচ্ছে না। এতে করে আক্রান্ত সব ব্যক্তির চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। চাপের মুখে তীব্র সংকটে পড়বে চিকিৎসা ব্যবস্থা। কারও কারও মতে, করোনার মতো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা স্বাস্থ্য বিভাগের নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

করোনা প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা সমকালকে বলেন, করোনার সর্বোচ্চ সংক্রমণের এই সময়ে সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিজ্ঞানসম্মত নয়। এ অবস্থায় আক্রান্তের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়বে। কারণ, মানুষ কর্মক্ষেত্রে পরস্পরের সংস্পর্শে যাবে; সড়কে-গণপরিবহনে পরস্পরের কাছাকাছি আসবে। এতে সংক্রমণ বাড়বে এবং এই বৃদ্ধির ধারা দীর্ঘ হবে। এটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে। সেই চাপ স্বাস্থ্য বিভাগ কতটুকু সামাল দিতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে টেকনিক্যাল কমিটির পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারলে হয়তো কিছু মানুষকে চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

যে কারণে সংকট তৈরি হবে :

আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তির চাপ বাড়ছে। কিন্তু সবাইকে ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার অনেকের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনও হচ্ছে না। চাপ বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের ইনচার্জ ডা. মুহম্মদ আসাদুজ্জামান সমকালকে বলেন, করোনা আক্রান্ত একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তির পর সুস্থ হয়ে তার বাড়ি ফিরতে ২২ দিন লাগে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, করোনা পজিটিভ হওয়ার পর কেউ হাসপাতালে ভর্তি হলে ১৫ দিনের মাথায় তাকে দ্বিতীয়বার নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। সেটি নেগেটিভ হলে আবার সাত দিন পর তৃতীয়বার নমুনা পরীক্ষা করতে হবে। পরপর দুটি পরীক্ষায় নেগেটিভ হলে একজনকে করোনামুক্ত ঘোষণা করা হয়। এ সময়ের মধ্যেই আরও রোগীর চাপ তৈরি হয়। এ কারণে চাহিদা থাকার পরও রোগীদের ভর্তি করা সম্ভব হচ্ছিল না। এরপর ওই প্রক্রিয়ার পরিবর্তন করে হাসপাতালে থাকার সময়কাল কমিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু তাতেও একজন রোগী গড়ে ১০ দিন করে হাসপাতালে অবস্থান করছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা সমকালকে বলেন, রোগীর চাপ বাড়ার পরপরই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসার একটি গাইডলাইন তৈরি করেছেন। সে অনুযায়ী আক্রান্ত ব্যক্তির পরপর তিন দিন জ্বরসহ অন্যান্য উপসর্গ না থাকলে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তিনি বাসায় গিয়ে পরে নির্ধারিত সময়ে নমুনা পরীক্ষা করাবেন। কিন্তু এতেও একজন রোগীকে হাসপাতালে গড়ে ৮ থেকে ১০ দিন অবস্থান করতে হয়। এ সময়ে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ে। এসব বিষয় চিন্তা করে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসায় যুক্ত করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৫০ শয্যা ও এর বেশি শয্যার হাসপাতালগুলোতে রোগীরা সেবা পাবেন।

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি :

গতকাল পর্যন্ত সারাদেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৬০৮ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬১০ জনের। সুস্থ হয়েছে ৯ হাজার ৩৭৫ জন। মোট আক্রান্তের মধ্যে রাজধানীতে ২৬ হাজার ৯২৬ জন এবং ঢাকার বাইরে সারাদেশে ১৭ হাজার ৬৮২ জন। ঢাকায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আট হাজার ৫২৭ জন। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের মধ্যে ৩১ দশমিক ৬৬ শতাংশ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। বাকি ৬৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ মানুষ বাসাবাড়িতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিয়েছে। ঢাকায় মোট আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪০৫ জনের। আর সুস্থ হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৬২ জন। আর ঢাকার বাইরে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে পাঁচ হাজার ৬১ জন। মোট আক্রান্তের মধ্যে মাত্র ২৮ দশমিক ৬২ শতাংশ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বাকি ৭১ দশমিক ৩৮ শতাংশ মানুষ বাসাবাড়িতে অবস্থান করছে। ঢাকার বাইরে সুস্থ হয়েছে চার হাজার ১৯৭ জন। মৃত্যু হয়েছে ২০৫ জনের। সুস্থ ও মৃত মানুষের কতজন হাসপাতালে এবং কতজন বাসাবাড়িতে ছিলেন, তার সুনির্দিষ্ট কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি।

সারাদেশে করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য শয্যা রয়েছে ১৩ হাজার ৯৬৪টি। এর মধ্যে আইসিইউ ৩৯৯ এবং কিডনি ডায়ালাইসিস ১০৬টি। রাজধানী ঢাকায় সতা হাজার ২৫০টি শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউ শয্যা ১৩৭টি, কিডনি ডায়ালাইসিস শয্যা ১০১টি। রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলায় এক হাজার ৩৯৬, চট্টগ্রাম বিভাগের এক হাজার ১১৮, ময়মনসিংহ বিভাগে এক হাজার ৮০, বরিশাল বিভাগে ৪১৩, সিলেট বিভাগে ৩৪৮, রাজশাহী বিভাগে ৯২৪, খুলনা বিভাগে ৭১৩, রংপুর বিভাগে ৭২২টিসহ মোট ছয় হাজার ৭১৪টি শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ২০০ শয্যার বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ১৬৪ জন, ৫০০ শয্যার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ২৬১ জন, ৫০০ শয্যার ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ৪৮৬ জন, ৫০০ শয্যার মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ২৭৮ জন, রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ৯৫১ জন, ৫০ শয্যার উত্তরা ও মিরপুর রিজেন্ট হাসপাতালে যথাক্রমে ২১ ও ৩৯ জন, ৫০ শয্যার সাজেদা ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ৪০ জন, ১৫০ শয্যার ঢাকা মহানগর হাসপাতালে ৫১ জন, ২০০ শয্যার মিরপুর লালকুঠি হাসপাতালে ৭৭ জন, ৪০ শয্যার রেলওয়ে হাসপাতালে ১৬ জন, ৪০০ শয্যার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ২১৪ জন, ২০০ শয্যার আনোয়ার খান মডার্নে ৮৫ জন রোগী ভর্তি আছে। এই তিন হাজার শয্যার বিপরীতে দুই হাজার ৬৩০ জন রোগী ভর্তি আছে। মাত্র ৩৭০টি শয্যা ফাঁকা আছে। তবে পুলিশ হাসপাতাল পুলিশ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত। এ ছাড়া ২৫০ শয্যার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, দুই হাজার শয্যার বসুন্ধরা, এক হাজার ৫০০ শয্যার উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ৫০০ শয্যার গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এখনও কোনো রোগী ভর্তি করা হয়নি। সংশ্নিষ্টরা বলেছেন, চার হাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালগুলো করোনা ডেডিকেটেড ঘোষণা করা হলেও চিকিৎসার জন্য এখনও তৈরি হয়নি।

ঢাকা বিভাগের অন্য ১৩ জেলায় মোট আক্রান্ত ৭ হাজার ৭২২ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হতে পেরেছেন ২ হাজার ১৬৯ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪৩৪ জনের মধ্যে ভর্তি হয়েছেন ৩৬ জন। ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৮৩ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হতে পেরেছেন ২০৩ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় এই বিভাগে আক্রান্ত ২৪ জনের মধ্যে আটজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৩৩৮ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৪৫ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪৩৫ জনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬৯ জন। রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় আক্রান্ত ৮২৪ জন। তাদের মধ্যে ২৩৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪০ জনের মধ্যে ১৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রংপুর বিভাগের আট জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯ জন। তাদের মধ্যে ২৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৫০ জনের মধ্যে কেউ হাসপাতালে ভর্তি হননি। খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে ৪৯৫ জন। তাদের মধ্যে ৯৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় আক্রান্ত ২৪ জনের মধ্যে পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি হতে পেরেছেন। বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় শনাক্ত হয়েছেন মোট ৫০১ জন। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ১৪২ জনকে। চব্বিশ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪৩ জনের মধ্যে ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সিলেট বিভাগের চার জেলায় মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৮১০ জন। তাদের মধ্যে ২১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চব্বিশ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪৮ জনের মধ্যে ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দ্রুত চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের তাগিদ :

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, করোনা সম্পর্কিত সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল করে তুলেছেন। নমুনা পরীক্ষা থেকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা- কোনো কিছুই পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে না। এখন প্রশ্ন জাগে, চীনে সংক্রমণের পর স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা সর্বাত্মক প্রস্তুতির কথা জানিয়ে প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে যে বক্তৃতা করেছিলেন- সেই প্রস্তুতিগুলো তাহলে কী ছিল?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক সমকালকে বলেন, করোনা সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে, তা সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার নেই। এর ওপর স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়হীনতা আরও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। এ মুহূর্তে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ রোগীদের সেবাও নিশ্চিত করতে হবে। আদেশ জারি করে বসে থাকলে এ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাজ করতে হবে, নির্দেশনা দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। এতে আতঙ্ক বাড়ছে।

হাসপাতালগুলো প্রস্তুত নয় :

গত সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে ৫০ শয্যা ও এর ওপরে থাকা শয্যার হাসপাতালগুলোকে কভিড ও নন-কভিড জোনে ভাগ করে চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু ওই নির্দেশনার পর হাসপাতালগুলো এখনও প্রস্তুত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজধানীর একটি সরকারি হাসপাতালের পরিচালক সমকালকে বলেন, রাতারাতি একটি সাধারণ হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব নয়। করোনা রোগীদের প্রত্যেকের শয্যা তিন ফুট দূরত্বে বিন্যাস করতে হয়। এ জন্য পুরো হাসপাতালের শয্যা বিন্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য রোগীর জন্য শয্যা পৃথক ফ্লোরে নিতে হবে। কভিড ও নন-কভিড রোগীদের হাসপাতালে চলাচলের পথও আলাদা করতে হবে, যা অল্প সময়ের মধ্যে করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনা চিকিৎসা নিয়ে বিপাকে পড়েছে। কারণ চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে সরকার তাদের কিছু জানায়নি। বেসরকারি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় ব্যয় অনেক বেশি হবে। যা রোগীর কাছ থেকে আদায় করা সম্ভব হবে না। এ কারণে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পৃথক করোনা ইউনিট চালু করতে অনীহা প্রকাশ করেছে। আবার কেউ কেউ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য :

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পারসন ও অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান খান। গতকাল তিনি সমকালকে বলেন, দেশের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল করোনা চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। ৫০ শয্যা ও তার ওপরে থাকা প্রত্যেকটি সরকারি- বেসরকারি হাসপাতাল কভিড ও নন-কভিড জোনে ভাগ করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় এক লাখ ৪০ হাজারের মতো শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেক শয্যায় করোনা আক্রান্তরা এবং বাকিগুলোতে অন্যান্য সাধারণ রোগী সেবা পাবেন। হাসপাতালগুলো প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। অনেকে পৃথক জোন তৈরির প্রক্রিয়াও শেষ করেছে। কাজেই করোনা চিকিৎসা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here