নলছিটিতে মেয়রসহ ৬জনের বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

0
18

দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ

ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলা পৌরসভার মেয়র সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে ১৭টি প্রকল্পের ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দূর্নীতি দমন কমিশন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।

চলতি বছরের ২৯ জুলাই নলছিটি পৌরসভার সাইদুল ইসলাম, মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও হাফছা আক্তার এই অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্তরা হলেন, নলছিটি পৌরসভার মেয়র আঃ ওয়াহেদ খান, সচিব এ.এইচ.এম রাশেদ ইকবাল, উপ সহকারী প্রকৌশলী মুঃ আবু সায়েম, কর আদায়কারী প্রধান সহকারী গোলাম মোস্তফা, সুইপার মিরাজুল ইসলাম প্রিন্স, ঠিকাদার খন্দকার পারভেজ।

অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, সরকার কতৃক বরাদ্দকৃত উন্নয়ন তহবিল, এডিপি খাত এবং বিশেষ বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ ও পৌরসভার রাজস্ব খাতসহ বিভিন্ন খাতের অর্থ দূর্নীতি, সেচ্ছাচারিতা ও বিধি বর্হিভূত ভাবে অসুদুপায় অবলম্বন করে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এর মধ্যে পৌরসভার বিভিন্ন স্টাফ এর নামে ভুয়া অগ্রিম বিল ভাউচার করে ৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। যেই টাকা মেয়র , সচিব ও উপ সহকারী প্রকৌশলী নিজেরা আত্মসাৎ করেছেন।

সরকার থেকে বরাদ্দ ডেঙ্গু ও মসক নিধন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলার জন্য বরাদ্দকৃত ২লক্ষ ৮৮ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

২০২০-২১ অর্থ বছরে এডিপি বরাদ্দ থেকে দরপত্র টেন্ডার আহবানে স্থানীয় সরকার বিভাগ পৌর ১ পৌর ২ কতৃক ২০১৯ সালের ৪ জুলাই তারিখে টেন্টার আহবান করা হয়। কিন্তু অভিযুক্তরা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী মের্সাস খন্দকার ব্রাদাস এর নামে চলতি বিল দেখিয়ে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে।

গুরুত্বপূর্ন নগর অবকাঠামো প্রকল্প ২ শীর্ষক যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় উক্ত অর্থ কেবল নগর উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের কাজেই গৃহীত স্কীমের বিপরীতে প্রদান করা হবে।

কিন্তু মেয়র ও সচিব মিলে ইচ্ছামত বিভিন্ন খাতে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে। এদিকে নলছিটি পৌরসভায় মেয়রের আপন বড় ভায়রার ছেলে পৌরসভার দুই তিনটি পদ দখল করে আছেন। মোটকথা নলছিটি পৌরসভায় বিএনপি’র লোকজন দখল করে আছে।

অপরদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরাধীন নগর উন্নয়নের প্রকল্পের টাকা সংশ্লিষ্ট প্রকেল্পে ব্যায় না করে উক্ত টাকা বে আইনি ভাবে আত্মসাৎ এর লক্ষে নলছিটি শাখার মেঘনা ব্যাংক থেকে সরাসরি ব্যালেন্স ট্রান্সফার াদিয়ে নলছিটি শাখার সোনালী রব্যাংকে নিয়ে মের্সাস খন্দকার ব্রাদার্স এর নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে।

লিখিতভাবে মোট ১৭টি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের পত্রগুলো স্থানীয সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, দূর্নীতি দমন কমিশন দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দেওয়া হেেয়ছে।

অভিযোগকারীরা জানান, নলছিটি পৌরসভা এখন দূনীতির আখড়া। এখানে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা উল্লেখিতরা বিভিন্ন ভাবে আত্মসাৎ করেছে। তারা বলেন, আমরা সুস্পস্টভাবে অভিযোগ তুলে ধরেছি। যদি সঠিকভাবে তদন্ত করা হয় তবে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়াযাবে। পাশাপাশি সরকারের প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ কারীরা আইনের আওতায় আসবে।

এবিষয়ে নলছিটি পৌরসভার মেয়র আঃ ওয়াহেদ খান বলেন, চার পাঁচদিন আগে আমার দপ্তরের হিসাব রক্ষক মহিলা কর্মকর্তা আমার স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করতে গেলে জালিয়াতের দায়ে গ্রেপ্তার হয়।

ঐই চক্রের সদস্যরাই আমি সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যায়গায় অভিযোগ দায়েরর কথা আমি জানতে পেরেছি। এতে আমি বিচলিত নই। যেকোন দপ্তর তদন্তে আসলে আমি সব কাগজপত্র দেখাতে পারবো।

এসময় তিনি আরো বলেন, আমি মাত্র ৩ মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে এত টাকা দূর্নীতি করা সম্বব কিনা ! পৌরসভার অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন , অপর সদস্যরাই আমাকে চেক জালিয়াতির কাছ থেকে আমাকে রক্ষা করেছে। তাই তাদের প্রতিও ক্ষিপ্ত ওই চক্রটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here