পটুয়াখালীতে ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত পরিবেশ

0
0

দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ

পটুয়াখালীতে ব্যাঙের ছাতার মতো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া গ্রামে অপরিকল্পিতভাবে বিসমিল্লাহ ব্রিকস্ নামে ইটভাটা চলছে বহু বছর ধরে।

যার পাশেই রয়েছে হাই স্কুল, সরকারি প্রাইমারী স্কুল এবং বাজার। পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালীয়া নদীর তীরে রয়েছে নামবিহিন ২টি ইটভাটা যার পাশেই দোকান এবং বসতঘরের অবস্থান।

এছাড়াও বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী ইটভাটা, দুমকি-বগা প্রধান সড়কের পাশে নামবিহিন অসংখ্য অবৈধ ইটভাটায় প্রতিনিয়ত পোড়ানো হচ্ছে কাঠ।

এসকল ইটভাটার চারদিকে ফসলী জমি এবং গুছানো পরিবেশ প্রকৃতি থাকলেও কাঠ পোড়ার কাঁলো ধোয়ায় অধিকাংশ ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ।

পটুয়াখালী সিটিজেন হেলথ কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাঃ মিঠুন চন্দ্র বলেন, অবৈধ ইটভাটায় সৃষ্ট দূষণে বয়স্ক ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইটভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে মানুষের ফুসফুসের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত নানা রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পটুয়াখালী সচেতন নাগরিক কমিটি(সনাক) এর সাবেক দলনেতা সোলায়মান হোসেন বলেন, পটুয়াখালীর ইটভাটাগুলোতে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে জ্বালানি কাঠ।

এতে উজাড় হচ্ছে গাছপালা। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনে (২০১৩) নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বেশির ভাগ ভাটাই স্থাপন করা হয়েছে বা হচ্ছে লোকালয় তথা মানুষের বসতবাড়ি, গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দরের অতি সন্নিকটে, কৃষি জমিতে, নদীর তীরে।

সরেজমিনে পটুয়াখালীর বিভিন্ন নদীর তীর ঘুরে দেখা গেছে, ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে আবাদি জমির উপরিভাগ, নদীর তীর এবং লোকালয়ের মাটি যা আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সম্প্রতি নীতি নির্ধারকদের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে গ্রামবাংলার গৌরব উজ্জ্বল সৌন্দর্য হারাতে বসেছে মনে করেন এসকল এলাকার স্থাণীয় বাসিন্দারা।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, পটুয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ইটভাটার সন্ধান পাওয়া গেছে। এসকল ইটভাটা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরুপ। তাই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অধিকাংশ ইটভাটা ধ্বংস করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও অভিযান পরিচালনা অব্যহত থাকবে।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here