প্রধানমন্ত্রীর উপহারের নতুর ঘর পাচ্ছেন কলাপাড়া সেই রুবিনা

0
2

রিমন সিকদার, কলাপাড়া

পলিথিন তালপাতায় ঘেরা ঝুপড়ি ঘর ছেড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া নতুন ঘরে উঠবে কলাপাড়ার সেই রুবিনা। ইতিমধ্যে রুবিনার নতুন গৃহের জন্য দুই শতাংশ জমি নির্ধারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই জীর্ণ ঘর ছেড়ে নতুন ঘরে ওঠার স্বপ্ন দেখছে ছোট্র রুবিনা। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের শিকলবন্দী মাকে নিয়ে নয় বছরের রুবিনার মানবেতর জীবনযাপন শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রুবিনাকে একটি নতুন ঘর দেয়ার আশ্বাস দেয় কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
এদিকে রুবিনাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর রুবিনার পাশে দাড়িয়েছে বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন। রুবিনার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া ছাড়াও রুবিনার অসুস্থ্য মা ডলি বেগম ও খালা ফাতেমা বেগমের চিকিৎসা শুরু করেছে সেচ্ছাসেবী সংগঠন অরেঞ্জ বিডি। এছাড়া কলাপাড়া সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে রুবিনা নানীকে বয়স্ক ভাতা, মা ও খালাকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়া হচ্ছে। নতুন শিক্ষা বৃত্তির আওতায় এসেছে রুবিনা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সমাজসেবা অধিদপ্তর পটুয়াখালী জেলার ডিডি শিলা রানী দাস।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক জানান, রুবিনার পরিবারের জন্য দুই শতাংশ জায়গার উপর প্রধানমন্ত্রীর উপহারের গৃহ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। টুঙ্গিবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এ নতুন ঘর নির্মাণ হবে। এছাড়া তাকে সরকারীভাবে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। তার মা, খালা ও নানী প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক পাচ্ছেন। রুবিনাকে শিক্ষা বৃত্তির জন্য নাম তালিকাভ‚ক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দানশীল মানুষ রুবিনা শিক্ষাজীবন যাতে বন্ধ না হয় এজন্য তাকে আর্থিকভাবে সহায়তা ও তার অসুস্থ্য মায়ের চিকিৎসার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, পলিথিন ও তালপাতার বেড়া ও ছাউনী দেয়া ছোট্র কুঁড়ে ঘরে নয় বছরের রুবিনার সংসার। এই ঘরে শুয়ে শুয়েই তালপাতার ছাউনির ফাঁকা দিয়ে দেখা যায় চাঁদের আলো। বিদ্যুতের আলো নেই, তাই অমাবশ্যার মতো ঘোর অন্ধকার তার নিত্য সঙ্গী। বর্ষায় বৃষ্টির প্রথম ফোঁটায় প্রতিরাতেই বৃষ্টি¯øাত হয় সে। স্যাঁতসেতে মাটির ঘরে পলিথিন বিছিয়ে শতছেড়া কাপড়,কাঁধা বিছিয়ে শিকলবন্দী মাকে বুকে আগলে তার রাত কাটলেও দিনের যুদ্ধ শুরু হয় ফজরের আজানের পর। রুবিনা রুবির সংসারে মানসিক ভারসাম্যহীন শিকলবন্দী মা. মানসিক ভারসাম্য খালা ও সত্তোরোর্ধ নানী। যাদের পুরো দায়িত্ব তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর রুবিনার কাঁধে। রুবিনার স্বপ্ন একটি ঘরের। মায়ের উন্নত চিকিৎসা করানোর। কিন্তু রুবিনার সব স্বপ্নই সাদা মেঘের মতো উড়ো যায় দূর আকাশে। রুবিনাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ মানবিক প্রতিবেদন প্রচার হলে সরকারিভাবে রুবিনাকে নতুন ঘর দেয়া ও রুবিনার পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দেয় উপজেলা প্রশাসন। যা এখন বাস্তবায়নের পথে।
নতুন ঘরের জন্য জমি নির্বাচনে খুশি রুবিনা জানায়, প্রধানমন্ত্রী ঘর দিছে। আর আমাকে তাল পাতার ছাউনির নিচে বৃষ্টিতে ভিজতে হবে না। রাতে বৃষ্টির ফোটা গায়ে পড়বে না। নতুন ঘরে নতুন বিছানায় মাকে জড়িয়ে ঘুমাতে পারবো। মাটিতে ছালা পেতে না, টেবিল-চেয়ারে বসে পড়তে পারবো। মাকে ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ্য করতে পারবো। এজন্য রুবিনা প্রধানমন্ত্রী ও তাকে সহায়তাকরা দানশীল ব্যক্তিদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here