বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াই

0
4

নুরুল আমিন

আমাদের দেশে প্রায় প্রতিবছর বন্যা হয়। ছোট বা বড় বন্যার মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য আমাদের তৈরি থাকতে হয়। পূর্ব প্রস্তুতি যতই থাকুক, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে মানুষ অসহায়। তবুও প্রকৃতির বৈরিতার সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাদের টিকে থাকতে হয়। বন্যায় যেমন অনেক ক্ষতি হয়, তেমনি অনেক দুর্গতি হয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে নিরাপদে থাকা মানুষগুলো এগিয়ে আসা উচিত। মানুষ যদি মানুষের বিপদে আপদে এগিয়ে না আসে, তাহলে সে মানুষ কেন? বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং তাদের জন্য কিছু করতে হবে। দুর্দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানুষের কাজ। মানুষের জন্য মানুষের মানবতা জেগে উঠতে হবে। উদার মনে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। কারণ মানুষ মানুষের জন্য। বন্যা কবলিত এলাকায় অনেক মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়ে। তাদের থাকা, খাওয়া, ওষুধ, চিকিৎসা ও বিশুদ্ধ পানির খুব অভাব দেখা দেয়। নদীর পানি যখন বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন রাস্তা ঘাট, ঘরবাড়ি সব পানির নিচে তলিয়ে যায়। বানভাসি মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না। তাদের নিয়ে যেতে হয় নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে। অনেকে উঁচু টিলা, রাস্তা, বেড়িবাঁধ, নৌকা, ভেলা, মাচা, ঘরের চালে, ছাদে কিংবা দালানে আশ্রয় নেয়। অনেক জায়গায় গবাদিপশু ও মানুষের সহাবস্থান দেখা যায়। মানুষের জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ হয়ে যায়। কত বেলা যে না খেয়ে কাটে! কত রাত নির্ঘুম কাটে!! কে আর এত হিসাব রাখে! মানুষ খুব মানবেতর জীবনযাপন করে। অনেকের কাছে চাল আছে। কিন্তু রান্না করার সুযোগ নেই। সব দিকে থই থই পানি। বিশুদ্ধ পানির অভাবে বন্যার দূষিত পানি পান করে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণের জন্য হাহাকার চলে। তাদের জন্য শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা একান্ত প্রয়োজন। বন্যার্ত দুস্থ অসহায় মানুষগুলো জীবন বাঁচাতে ত্রাণের আশায় তাকিয়ে থাকে। দুঃসময়ে একটুখানি সহযোগিতা পেলে অনেক বড় উপকার হয়। সামান্য সাহায্যে প্রাণে বাঁচতে পারে অনেক জীবন। বন্যার পানিতে ভেসে যায় পুকুরের মাছ, নষ্ট হয় শত সহস্র একর জমির ফসল, ধ্বংস হয়ে যায় কত শত খামার, হাজারো হাঁস, মুরগী, গরু, ছাগল ও পশুপাখি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মারা যায়। অনেক প্রতিষ্ঠান ধ্বসে পড়ে। অনেক মানুষ মারা যায়। আধা মরা হয়। বন্যায় কোটি কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায়। বন্যা যত বেশি সময় স্থায়ী হয়, দুর্গতি, ক্ষয়ক্ষতি ও জীবনহানি তত বেশি হয়। বন্যার শেষের দিকে এক ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়। কলেরা, ডায়রিয়া ও নানা অসুখ বিসুখ ব্যাপকহারে দেখা দেয়। মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। খুব অভাব-অনটনে মানুষের মধ্যে হাহাকার জাগে। বন্যার সময় নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বেশি কষ্ট ও শঙ্কা হয়। বন্যার পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা জোরদার করা দরকার। বন্যার্তদের পূনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া একান্ত প্রয়োজন। দুর্গত মানুষের কষ্ট ভাগাভাগি করে নিতে হবে। মানবিক কারণে এগিয়ে আসতে হবে। এমন বিপদ একদিন আমাদেরও হতে পারে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে আমাদের দেশে বান বন্যা বেশি হয়। তাছাড়া নদী মাতৃক দেশ হওয়ার কারণে আমাদের দেশে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে থাকে। দেশের বন্যা কবলিত এলাকায় সরকারি উদ্যোগে চিকিৎসা সেবা, ত্রাণ ও অন্যান্য সাহায্য সহযোগিতা দেয়া হয়। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। একা সরকারের পক্ষে ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব নয়। তাই দেশের বিত্তবান ও স্বচ্ছল মানুষেরা বন্যার্তদের জন্য খাদ্য, পানি, ওষুধ, কাপড়, কম্বল, ত্রাণ ও সেবার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে। আমাদের সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় বন্যা দুর্গত মানুষেরা অতি অল্প সময়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। তাই আসুন, আর দেরি না করে সবাই মিলে সকল ভেদাভেদ ও সঙ্কীর্ণতা ভুলে বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াই। আশাহত মানুষের বুকে আবার জাগিয়ে তুলি আশার আলো।
লেখক : নুরুল আমিন, সাংবাদিক, কলামিস্ট, কবি, কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক, লালমোহন, ভোলা। nurulamin911@gmail.com, 01759648626.
SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here