ভোলায় ১ হাজার ৫১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

0
8

আকতারুল ইসলাম আকাশ,ভোলা

ভোলা জেলার সাত উপজেলার প্রায় পনেরোশো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার নেই। প্রতিবছর ২১-শে ফেব্রুয়ারী মাস এলে কিছু কিছু এলাকায় সচেতন মহলের উদ্যোগে বাঁশ ও কলা গাছের অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে শহীদ দিবস পালন করা হয়। এতে পল্লী অঞ্চলের মানুষ জানেনা শহীদ দিবস কি? এতে করে একদিকে ৫২থর ভাষা আন্দোলন ও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এসকল অঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলায় মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৬১৭টি। এর মধ্যে কলেজ রয়েছে ৪৩টি, মাধ্যমিক ও নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২৬৪ টি, মাদ্রাসা ২৪৬ টি, প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১০৪৭টি।
এরমধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় শহীদ মিনার রয়েছে ২০টি, দৌলতখানে ১২টি, বোরহানউদ্দিনে ১৪টি, তজুমদ্দিনে ৯টি, লালমোহনে ১৭টি, চরফ্যাশনে ২৪টি ও মনপুরা উপজেলায় ৯টিসহ ছোট বড় মোট ১০৫টি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে।
বাকি ১ হাজার ৫১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা ভাষা আন্দোলন  ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ জানে না ভাষা আন্দোলন ও শহীদ দিবস কি?  বাঙালি জাতিসত্তার গৌরবোজ্জ্বল ও স্মৃতিবিজড়িত বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের স্মরণে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়।
সরকারি ছুটির দিন হলেও, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয় খোলা থাকে এই দিনে। ভাষা শহীদদের স্মরণে সর্বস্তরের মানুষ একুশে ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরিতে বের হন শহীদ মিনারে ফুল দিতে।
যেসব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই, সেখানে তৈরি করা হয় অস্থায়ী শহীদ মিনার। ভাষা শহীদদের স্মরণে বিদ্যালয়গুলোতে দিনব্যাপী আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা সবাই মিলেই বিদ্যালয়গুলোতে উদযাপন করে থাকেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
ভোলা সদর উপজেলার ১৫নং দক্ষিণ চরপাতা সেলিনা সুলতানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫০। শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী রকি জানায়, ২১শে ফেব্রুয়ারি তাঁরা বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। কিন্তু, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার না থাকায়, ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয় না।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাছনুর বেগম জানান, জায়গা না থাকায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ মিনার তৈরি করা যাচ্ছে না। এ চিত্র শুধু সেলিনা সুলতানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই নয়। ভোলা জেলার ১ হাজার ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েই শহীদ মিনার নেই।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র হালদার বলেন, যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, সে সকল প্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরকে বলা হয়েছে নিজেদের উদ্যোগে ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য। আর যাঁদের নির্মাণের সামর্থ্য নেই তাঁরা যেন আশেপাশে যেখানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয় সেই খানে গিয়ে শহীদের সম্মান জানায়।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাধব চন্দ্র দে বলেন, জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। তাঁর জানা মতে শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি কোন ফান্ড (তহবিল) না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানে তা নির্মাণ করা হচ্ছেনা।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here