মায়ের অদম্য ইচ্ছা শক্তির জোরেই কলাপাড়ার নূর আলম বিসিএস কর্মকর্তা

0
77

আব্দুল আলিম খান, পটুয়াখালী

কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রী কলেজে কর্মরত আয়ার ছেলে বিসিএস কর্মকর্তা হয়ে মায়ের স্বপ্ন পুরণ করেছে। বিসিএস কর্মকর্তা নুর আলমের এমন সাফল্যে গর্বিত হয়েছেন কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা। অদম্য ইচ্ছা শক্তিতেই আজ নুর আলম বিসিএস কর্মকর্তা হতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

জানা যায়, একমাত্র পুত্র সন্তান নূর আলমের জন্মের পর পরই সংসার ভাঙ্গে মা আম্বিয়া বেগমের। চাকরির টাকায় ছেলেকে লেখাপাড়া শিখাবেন এমন অদম্য সাহস শক্তি নিয়ে জীবন যুদ্ধে নামেন আম্বিয়া। ২০০০ সালে বিনা বেতনে কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের আয়া (এমএলএস) চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদে যোগদান করেন। ছেলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়াশুনা করার সময় ১ হাজার ৪০০ টাকা বেতনভাতা পেতে শুরু করেন আম্বিয়া।

পুরো টাকাই ব্যয় করতেন ছেলের পড়াশুনাও ভরণ পোষনে। নুরআলমের প্রবল ইচ্ছা আর  মনোবল মা আম্বিয়াকে আরও উদ্যামী করে তোলে। সন্তান বড় হবার সাথে সাথে ব্যয় বাড়তে থাকলে কলেজে চাকুরি শেষে বিকেলে ও রাত জেগে জাল বুননের কাজ করতো আম্বিয়া। এমনই হত দরিদ্র মায়ের সন্তান নুর আলম ২০০৬ সালে মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ৪.৩৮ পায়। উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হয় মায়ের কর্মস্থল কুয়াকাটা খানাবাদ কলেজে। ব্যবসা শিক্ষা শাখা থেকে ২০০৮ সালে জিপিএ ৫ পায়।

মায়ের সামান্য আয়ে এক পোষাকে ঢাকা ওঠেন নুরআলম। বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং করা নুর আলমের সামর্থ্যরে বাইরে ছিল। তাই ভর্তি পরীক্ষার বই কিনে পড়াশুনা করেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম কেনার সামর্থ্য না থাকায় মেধা তালিকায় জায়গা করে নেয় ঢাকা কলেজে ।

পরে মায়ের বেতন বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫০০ টাকা হলে সবটুকু টাকাই সন্তানের পড়াশুনাও থাকা খাওয়ায় মা পাঠিয়ে দিতেন। বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়া আম্বিয়া দীর্ঘ ২০ বছর ধরে প্রতিদিন ২ কি.মি. দূরত্বের কর্মস্থলে পায়ে হেঁটে আসা যাওয়া করতেন। মায়ের অপ্রতুল আয়ের পুরো টাকাই পড়াশুনায় ব্যয় করে বিবিএও এমবিএ ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে ফাষ্ট ক্লাস পায় নূর আলম।

এতে নুরআলমের ভীত আরোও মজবুত হয়। ২০১৪ সালে এমবিএ পাশ করলে নানা প্রতিকুলতা পিছনে ফেলে পুরোপুরো মনোনিবেশ করেন বিসিএস পরীক্ষায় অংশ গ্রহনে। ২০১৭ সালে প্রথম ৩৮তম বিসিএসসের প্রথম আবেদন করে। ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারী, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। ২০২০ সালে নভেম্বর নুরআলম মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে।

সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)  মঙ্গলবার (৩০ জুন ) ৩৮তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করলে নুরআলমের নাম আসে। এমন খবরে আনন্দে আবেগ আপ্লুত হয় মা আম্বিয়া বেগম, নানীও তার নিকট আত্মীয়সহ মায়ের কর্মস্থলের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

৩৮তম বিসিএস কর্মকর্তা নুরআলমের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর গ্রামে। নুরআলমের দুরন্ত শৈশব ও কৌশোর কেটেছে আলীপুর বাজারে নানা বাড়িতেই। স্কুল কলেজে বরাবরই প্রথম ছিলেন ওই বিসিএস কর্মকর্তা নূর আলম।

জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়া নূর আলম বলেন, ’মা আমার কাছে স্বর্গ। মায়ের আর্শীবাদ ও ত্যাগ আমার জীবনে এ সফলতা বয়ে এনেছে। মা খেয়ে না খেয়ে সব সময় আমাকে উচ্চ শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখতেন।’

মা আম্বিয়া বেগম বলেন, আর্থিক কষ্টের কারণে ছেলেকে ভাল খাবার ও পোশাক দিতে পারিনি। নামাজ পড়ে শুধু আল্লাহ্র কাছে ছেলের সফলতা চেয়েছি। আল্লাহ দয়া করেছেন।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here