‘লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধ করুন’

0
11

দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ

করোনা মহামারীর এই দুর্যোগের মধ্যে লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি। এ সময়ে লঞ্চ ভাড়া বাড়ানো ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ বলেও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, যে কোনো সংকটে বা অজুহাতে দেশে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ালে তা স্বাভাবিক সময়েও কমানোর সক্ষমতা সরকারের নেই। দেশের ইতিহাসে দীর্ঘদিন ছুটিতে থাকা ও সীমিত আকারে জরুরি সেবাদানকারী অফিস খোলা রাখায় করোনা মহামারীতে কর্ম হারিয়ে সাধারণ মানুষজন এখন এক ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়েছে। কর্ম না থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলো থেকে গ্রামে ছুটছে। ইতিমধ্যে বাসের ভাড়া এক লাফে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে গণপরিবহনগুলো চরম যাত্রী সংকটে পড়েছে। লঞ্চে এখনও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে প্রায় প্রতিটি রুটে গাদাগাদি করে যাত্রী বহন অব্যাহত রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পৃথিবীর ২০৫টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত হলেও কোনো দেশে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানো নজির নেই। আমাদের পাশের দেশ ভারতেও বাস-লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির জন্য মালিকদের পাতানো ফাঁদে পা না দিয়ে সে দেশের সরকার কঠোরতম অবস্থান নেয়ার কারণে কোনো পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি হয়নি। তাই এ সব দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে স্বাস্থ্যবিধির অজুহাতে লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা জরুরি ভিত্তিতে বন্ধের দাবি জানান মোজাম্মেল হক। একই সঙ্গে এই সংকটকালে লঞ্চ ও ফেরিঘাটে টোল-ইজারা বন্ধ রাখারও দাবি জানান তিনি।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বিশ্ববাজারে বহু আগেই তেলের দাম কমেছে। লঞ্চ পরিচালনার ক্ষেত্রে একমাত্র উপকরণ জ্বালানি তেলের মূল্য কমানো হলে ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে গড় বোঝাইয়ের অর্ধেক যাত্রী নিয়েও লাভজনকভাবে যাতায়াত করা সম্ভব। তাই করোনা সংকটকালে গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেল আমদানি মূল্যে সরবরাহ করে লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের পাশাপাশি বাসের বর্ধিত ভাড়া প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here