লালমোহনে অসহায় পরিবারের জমির উপর ভুমি খেকো চক্রের শকুনি দৃষ্টি

0
150

আরশাদ মামুন, লালমোহন 

 ভোলা লালমোহন উপজেলার গজারিয়া এলাকায় অজ্ঞতা, মূর্খ আর দারিদ্র্যতার সুযোগ নিয়ে একটি পরিবারকে হয়রানীর মধ্যে ফেলে তাদের মূল্যবান সম্পদ জবর দখল করে ভোগ করছে প্রতিবেশী প্রভাবশালী একটি পরিবার। দীর্ঘ দিন ধরে লোক চক্ষুর সামনে এমন ‘জোর যার মুলুক তার ’ ঘটনা চলতে থাকলেও প্রতিবাদের যেন কোনো ভাষা নেই দরিদ্র ওই পরিবারটির। উপরন্তু এলাকার কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল জবর দখলকারীর পক্ষ নিয়ে দরিদ্র পরিবারটিকে নানা ধরনের উপহাস করে তাদের মনোবল ভেঙে দিয়ে কোণঠাসা করে রাখছে বলেও জানান ভুক্তভোগী পরিবারটি। এ অবস্থায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ দাবী করছেন পরিবারটির সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য চম্পা বিবি জানান, উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে তিনি পৈত্রিক সূত্রে প্রায় আড়াই একর জমির মালিক হন। বহু বছর ধরে বংশ পরম্পরায় এই জমি ভোগ দখল করে চলেছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা। ওই জমির আরএস, এসএ এবং সর্ব শেষ বিএসও রেকর্ডও তাদের নামে। কিন্তু গত কয়েক বছর আগে হঠাৎ করে সামাজিক প্রভাবের জোরে চম্পা বিবির ভোগ দখলীয় জমির বাগান ও পুকুর দখলে নেন প্রতিবেশী সিরাজ ফরাজি গং। এতে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন চম্পা বিবির স্বামী ও ছেলে-মেয়েরা। সিরাজ ফরাজির এসব অমানবিক জুলুম অত্যাচারের বিচার করছেন না সমাজপতিরাও। ধারাবাহিক এসব অত্যাচার নির্যাতনের ব্যাপারে আদালত কিংবা পুলিশ প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে দরিদ্র চম্পা বিবির পরিবারের উপর নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায় বলে জানান চম্পা বিবির রুগ্ন স্বামী রফিজল ইসলাম ও তার ছেলে ইকবাল।
চম্পা বিবির ছেলে ইকবাল জানান, মূল্যবান সম্পদ গায়ের জোরে খাওয়ার জন্য আমার বৃদ্ধ মা চম্পা বিবিকে মানসিক রোগী পাগল মাথা খারাপ ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে নানা ধরনের নিপীড়ন ও হয়রানী করে চলেছেন সিরাজ ফরাজি। দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা এই অবস্থা থেকে উত্তরণের যেন কোনো উপায় নেই আমাদের। সিরাজ ফরাজির মামলা হামলার ভয় আর বিভিন্ন হুমকী অহর্নিশ তাড়া করে বেড়াচ্ছে আমাদেরকে। নানা যন্ত্রণা আর উৎপীড়ন নিপীড়ন সহ্য করে আমরা রীতিমত এলাকায় বসবাস করতে পারছি না। মাঝে মধ্যেই এলাকার বাইরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছি।
ইকবাল আরো জানান, গত প্রায় দেড় বছর আগে সিরাজ ফারজির এহেন কর্মকা-ের বিচার চেয়ে লালমোহন থানায় লিখিত অভিযোগ করি। পরে সিরাজ ফরাজিকে থানায় ডাকলে সে কোনো ধরনের কাগজ পত্র দেখাতে পারেনি। এক পর্যায়ে থানা পুলিশ গত ২২/৬/২০১৯ইং সালে একটি নন জি আর মামলা করে আদালতে কপি পাঠালেও তার কোনো প্রতিফলন পাইনি আমরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সিরাজ ফরাজির গং আমাদের পরিবারের উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং আমাদের একটি পুকুর বেদখল করে চতুর্দিকে কাঁটা তারের বেষ্টনী দেয়। এ ঘটনায় ১৫ দিন আগে আবারও আমরা থানার দ্বারস্থ হয়ে কোনো সুবিচার পাইনি। সর্বশেষ অভিযোগের তদন্ত কারী কর্মকর্তা লালমোহন থানার এএসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিরাজ ফরাজিকে কাঁটা তঁরের বেষ্টনী খুলে দিতে বলেছি এবং কাগজপত্র নিয়ে থানায় ডেকেছি। কিন্তু তাতে সাড়া দেননি সিরাজ ফরাজি। এ ব্যাপারে সিরাজ ফরাজি বলেন, আমরা খরিদা সূত্রে ভোগ দখলে আছি। তবে কার কাছ থেকে কী পরিমাণ জমি তিনি কিনেছেন তা পরিষ্কার করে বলতে পারেননি সিরাজ ফরাজি। এছাড়া চম্পা বিবির পরিবারকে নির্যাতন ও হয়রানীর বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।
তবে স্থানীয় অনেকে জানান, সিরাজ ফরাজির ছেলে জহিরুল, এলাকার উঠতি বয়সের বখাটে ছেলে পেলেদের নিয়ে চম্পা বিবির পরিবারকে প্রায় প্রতি দিনই নানা ধরনের উৎপীড়ন করে থাকেন। এ ঘটনায় মুখ খোলার সাহস পায় না চম্পা বিবির পরিবার। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এলাকার অনেকে জানান, দরিদ্র পরিবারটিকে সহায়তা করতে কেউ এগিয়ে আসছে না। সবাই নগদ টাকা আর শক্তির কাছে ধরা। কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপেই জবর দখলকারীদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে বাঁচতে পারবে পরিবারটি।
SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here