লালমোহনে আখ চাষে সাফল্যের মুখ দেখছে কৃষক

0
12

সাব্বির আলম বাবু,লালমোহন

দক্ষিনাঞ্চলের অন্যান্য উপকূলীয় এলাকার মতো ভোলার লালমোহনেও আখের চাষাবাদ প্রতি বছরই কমবেশী হয়। তবে এ সকল চরাঞ্চল গুলোতে আখ চাষের অন্যতম প্রধান কারন হচ্ছে এসব অঞ্চলের পতিত জমি ও বন্যাকবলিত এলাকায়ও নির্বিঘেœ এই ফসল ফলানো যায়। সে কারনেই আবাদযোগ্য সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য ও সার্বিক উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রচলিত ফসল বিন্যাসের সঙ্গে আখ আবাদ সমন্বয়ের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলে অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দারিদ্রতা নিরসনে আরো বেশী করে কার্যক্রম পরিচালনা করা দরকার।

তথানুসন্ধানে জানা যায়, আখ এমন একটি ফসল  যা পতিত জমি সহ যে কোন জমিতে ভালো ফলন দেয় এবং চাষীকে খড়া, বন্যা বা জলাবদ্ধতা থেকে ফসলহানির আশংকা নিশ্চিত ভাবে দুর করে। বিশেষ করে বিভিন্ন ফসলের  আবাদ করে চাষীরা যখন বন্যা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক সমস্যার কারনে ফসল ঘরে তুলতে পারে না সেখানে আখ বন্যা সহিষ্ণু এবং লম্বা প্রায় ১২-১৫ ফুট হওয়াতে এসব প্রাকৃতিক সমস্যা মোকাবেলা করতে সক্ষম। আলাপকালে একাধিক চাষীরা জানান, সাধারনত বিভিন্ন জাতের আখ চাষ করেন তারা যার মধ্যে কেবল গুড় তৈরীর জন্য হচ্ছে (আইএসডি) ঈশ্বরদী-১২, ১৪,১৬, ২০ এবং চিবিয়ে খাবার জন্য বাঁশপাতা, গেন্ডারী ও ২০৮। আখের সামান্য কিছু রোগ বালাই যেমন-মাঝড়া পোকা, কান্ডপচা, লালচেরেখা ইত্যাদি যদি সঠিক সময়ে রোধ করা যায় পাশাপাশি সরকারি ভাবে এ ব্যপারে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয় তাহলে আখের ফলন আরো বাড়বে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর খান জানান, লালমোহনে প্রতি বছর ৭৫ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়। সাধারনত নভেম্বর-ডিসেম্বরে আখের চারা রোপন করা হয় এবং পরিপক্ক আখ কাটা হয় সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে । এই ফসলের ফলন পেতে ২৮০-২৯০ দিন লাগে। আখ চাষাবাদের ফলে ফাঁকা জায়গা পুরন, মাটি আগলা করে দেওয়া, আখকাটা, পরিবহন, গুড় তৈরী, বিক্রয়, যা এই অঞ্চলের দারিদ্রতা নিরসনে স্থায়ী ভাবে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here