২০২০ সালে উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদেরদের প্রতি-

0
81

মোঃ কামাল হোসেন শাহীন

২০২০ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সকলকে অভিনন্দন। ফলাফল পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা যখন ভর্তির জন্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন ও জীবনের এক নতুন অধ্যায়ের স্বপ্ন দেখার কথা, তার পরিবর্তে বৈশ্বিক দুর্যোগে অলস সময় উৎকন্ঠা নিয়ে অতিবাহিত করছে সবাই। ঢাকা শিক্ষাবোর্ড ও আন্ত শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান বলেছেন, এ মাসের ১৫ তারিখের পারে ভর্তি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সারাদেশে এইচএসসিতে প্রয়োজনের অধিক আসন থাকাতে বেশি দুশ্চিন্তার কারন নেই। এ বছর শুধুমাত্র অনলাইনে মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা যাবে। বিগত বছরগুলোর মতো একাধিক অপশন থাকবে ভর্তির আবেদনে। পূর্বের কয়েকবছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার বাইরে কিংবা অজান্তে তাদের রোলনম্বর ও মোবাইল নং সংগ্রহ করে আবেদন করে দিয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের এক অংশ নানাবিধ কারনে অপছন্দের প্রতিষ্ঠানে পড়তে বাধ্য হয়। যারা ঐ সকল প্রতিষ্ঠানে পড়তে চায়নি, তাদেরকে শিক্ষাবোর্ডগুলোতে গিয়ে পরিবর্তন করতে হয়েছে। এক্ষেত্রে বাড়তি খরচের সম্মুখীন হতে হয়েছে ভুক্তভোগীদের। শিক্ষার্থীদের প্রতি উপদেশ, যেহেতু এখনও ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি, তাই অন্যকে নিজের কাগজপত্রের কপি ও মোবাইল নং না দেয়া। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে নিজেই পছন্দের প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কিংবা নিজ দায়িত্বে আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে বিকল্প অপশন নিজে ঠিক করে রাখতে হবে শিক্ষার্থীকে। যাতে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে সুযোগ না হলে দ্বিতীয় অপশনে ভর্তি হওয়া যায়। বিগত বছরগুলোতে দেখেছি, শিক্ষার্থী নিজেই জানে না, তার প্রথম পছন্দ ও দ্বিতীয় পছন্দ কি ছিল। কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লোকজন কিংবা দোকানদার শিক্ষার্থীর ভর্তির পছন্দের ক্রম ঠিক করে দিচ্ছে, বিষয়টা লজ্জার নয় কি? শিক্ষার্থীদের একটা সংখ্যা ভর্তি পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠান কিংবা পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারেনা। মাঝেমধ্যে অবিভাবকের অর্থনৈতিক সাপোর্টের কারনেও অনেক শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করে এলাকায় চলে আসতে হয়। কাজটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ হওয়ার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বেশ ব্যহত হয় এই সময়টিতে। তাই ভর্তিপূর্ব সময়ে সকল বিষয় বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে হবে। মনে রাখতে হবে শুধু নামীদামী প্রতিষ্ঠান হলেই হবে না, ঐ প্রতিষ্ঠানের সাথে খাপখাওয়াতে পারবে কিনা। থাকাখাওয়াসহ সকল বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিষয় মাথায় নিয়ে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে হবে। শুধু ভর্তিতে চান্স পাওয়াই যথেষ্ট নয়, ভর্তি হয়ে ঝামেলাহীনভাবে দুইবছর নিরবিচ্ছিন্নভাবে ঐ প্রতিষ্ঠানে থেকে পড়াশোনা শেষে ভালো ফলাফল না করতে পারলে সবই বৃথা যাবে। উচ্চমাধ্যমিকের এই সময় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এক্ষেত্রে কোন ভুল সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ জীবনে স্থায়ী বিপর্যয় আনতে পারে। হাতে যেহেতু পর্যাপ্ত সময় আছে ভর্তি বিষয়ে সবদিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারো প্ররোচনা কিংবা নিজের অগোচরে অন্য কেউ যেন ভর্তির আবেদন না করতে পারে। যদি কেউ এধরনের ঘটনার মুখোমুখি হবেন, তাতেও হতাশ হওয়ায় কিছু নাই। শিক্ষাবোর্ডগুলো শিক্ষার্থীদের ইচ্ছার বিষয়কে প্রাধান্য দিবে। ভর্তি বিষয়ে যদি কোন শিক্ষার্থী নিজে কিংবা তার অভিভাবকসিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তবে তা তো বড় লজ্জার ঘটনা।

মোঃ কামাল হোসেন শাহীন প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগ নাজিউর রহমান কলেজ ভোলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here