অষ্ট্রিয়ার সাড়া জাগানো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত, লালমোহনের সন্তান তরুন রাজনৈতিকবিদ মাহমুদুর রহমান নয়ন।

0
149

 বিশেষ প্রতিনিধি অষ্ট্রিয়াঃ (পর্ব-১)

মাহমুদুর রহমান নয়ন এর জন্ম ১৯৯৫ইং ভিয়েনায়। মাত্র ১ বৎসর বয়সে পরিবারের সাথে পারি জমান বাংলাদেশে। ৫ম শ্রেণী অতিক্রম করে চলে আসেন পরিবারের সাথে আবার ভিয়েনায়। বাংলাদেশের সাড়া জাগানো তরুন এই রাজনীতিবিদের শৈশব,শিক্ষা, এবং অষ্ট্রিয়ার রাজনীতিতে বেড়ে উঠার কাহিনী জেনেছেন আমাদের অষ্ট্রিয়ার বিশেষ প্রতিনিধি। বাংলাদেশের এই বিস্ময়কর যুবক অষ্ট্রিয়ায় চলে আসার পর বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। অষ্ট্রিয়ায় আসার পর ভর্তিহন স্থানীয় একটি হাইস্কুলে। এখানের পড়ালেখা করতে হয় জার্মান ভাষায় কিন্তু এই ভাষা তার মোটেও জানা ছিলনা। ক্লাসের অন্যান্য পড়ার সাথে তাকে ভীষণভাবে জার্মান ভাষা আয়ত্ত করতে হয়। ক্রমাগতভাবে তার স্কুলে শুনাম ছড়িয়ে পরে পুরো স্কুলে।হাইস্কুলে যখন ফাইনাল পরীক্ষা হয়,তখন ঐ স্কুলে সে প্রথম স্থান অর্জন করেন। স্কুলের ডিরেক্টর তাকে মডেল হিসেবে ঘোষণা এবং সম্বর্ধনা দেন। এরপর মাহমুদুর রহমান নয়ন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য ভর্তি হন ভিয়েনার একটি নামকরা Higher Technical College এ (HTL)। এখানে ভর্তি হয়েই কলেজের নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন, চাইতেন কলেজের নিয়ম কানুনের পরিবর্তনের। এক পর্যায়ে প্রতিবাদী ছাত্র হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেন কলেজে, নেতৃত্ব দেন তরুণদের। সেই সুবাদে কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা তাকে পর পর দুই বার ঐ কলেজের ছাত্র সংসদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেন। এর পর আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। কলেজের উন্নয়ন এবং ছাত্র ছাত্রীদের নানা বিষয়ে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে এক সময় নয়ন অষ্ট্রিয়ার কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। (পত্রিকায় চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বের জন্য)

অষ্ট্রিয়ার সাড়া জাগানো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত, ভোলা জেলার লালমোহনের সন্তান তরুন রাজনৈতিকবিদ মাহমুদুর রহমান নয়ন। (পর্ব-২ )

 

নয়ন কলেজের সভাপতি থাকা অবস্থায় অষ্ট্রিয়ার তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী Mrs. Claudia Scmied ঐ কলেজে পরিদর্শনে আসেন এবং ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে এক সভা করেন।নয়ন কলেজের নিয়ম কানুনের পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রীকে অনুরুধ করেন, শিক্ষাত্রিদের মুহুর মুহুর করতালি দিয়ে নয়ন কে সমর্থন করেন এবং মন্ত্রী দাবীগুলি মেনে নেন। এটা ছিল ঐ কলেজের এক মাইল ফলক। ইতিমধ্যে নয়ন অষ্ট্রিয়ান যুব পিপলস পার্টির নেতৃতে চলে আসেন।এর কিছুদিন পর নয়ন যখন অষ্ট্রিয়ার কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সভাপতি, তখন নয়ন কে স্বাগত জানাতে ঐ কলেজে আসেন তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী Sabastian Kurz ।কলেজের সব ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে করেন একটি মত বিনিময় সভা। ঐ সভাতেই পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাহমুদুর রহমান নয়ন কে প্রস্তাব দেন অষ্ট্রিয়ান ইন্ত্রিগেশন এম্বাসেডর হওয়ার জন্য। নয়ন সাদরে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং এ পদে এখনও বহাল আছেন। নয়ন ঐ কলেজের ফাইনাল পরীক্ষায় Software Engineering এ অষ্ট্রিয়ান গ্রেড অনুযায়ী Excellent Result করেন। উচ্চশিক্ষার জন্য নয়ন ব্রিটেনে চলে যান। সেখানে ভর্তি হন University of Central Lancashire(UCLan) Software Engineering Department এ। ব্রিটেনে থাকলেও অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টির যুব ইউনিটের তার সম্পৃক্ততা ছিল বেশ জোরাল।ব্রিটেনে অধ্যায়ন কালীন সময়ে প্রথম বারের মত নয়ন পিপলস পার্টি থেকে ভিয়েনা ডিসট্রিক্ট কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন পান। বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়াকালীন অবস্থায় নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হতে না পারলেও, নির্বাচনী ক্যাম্পেইন এবং বিপুল সংখ্যক তরুণদের সক্রিয়তায় রাজনীতিতে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন তিনি। চলে যান আবার ব্রিটেনে।এরপর নয়ন B.Sc.Hon`s in Software Engineering এ Frist Class পেয়ে উত্তীর্ণ হন। তারপর ভর্তি হন একই বিশ্ব বিদ্যালয়ে এম এস সি তে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ম্যানেজমেন্টে। (পত্রিকায় চোখ রাখুন পরবর্তী পর্বের জন্য)

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here