কলাপাড়ায় ভুমিহীনদের বসতঘর ভাংচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ

0
3

রিমন সিকদার, কলাপাড়া 

কলাপাড়ার মহিপুর নজিবপুর অসহায়, ছিন্নমুল,গৃহহীন ও ভুমিহীনদের বসতঘর ভাংচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনায় মহিপুর রেঞ্চ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার শিববাড়িয়া মৌজার সরকারী খাস ভুমিতে হাওয়া বেগমসহ ২৩ ভুমিহীন পরিবার ১৪ বছর ধরে বসবাস করে আসছে। ওই খাস জমি থেকে ভুমিহীনদের উচ্ছেদ করার জন্য বিভিন্নভাবে হয়রানী করে আসছে মহিপুর বনবিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ। পরে ভুমিহীন ২৩ পরিবার ওই ভুমি বন্দোবস্তো চেয়ে জেলা প্রশাসক পটুয়াখালী গত ৩ মার্চ আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক পটুয়াখালী, ভুমিহীনদের আবেদনখানা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসে গত ১৫ মার্চ ৩১.১০.৭৮০০.০০৯.০৬.৬৬৮.১৫-৫০৩ নং স্ণারকে প্রেরন করেন। ভুমিহীনদের বন্দোবস্ত আবেদনের বিষয়ে জেনে মহিপুর বনবিভাগের কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ ৫০/৬০ জনের একদল ফরেষ্টারসহ দলবল নিয়ে দেশী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অসহায় ভুমিহীন পরিবারের উপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ৪ টি বসতঘর ভাংচুর ও দুই লাখ টাকার মালামাল লুট করে ট্রলার যোগে নিয়ে য়ায়। এসময় ভমিহীন হাওয়া বেগম, সোহেল, ফরিদা বেগম, শাহানাজ বেগম,আনোয়ার, সুমন, আবদুল সত্তার হাওলাদার ও ইসমাইল মাঝী বাঁধা দিতে গেলে তাদেরকে শারীরিকভাবে নির্যাতন চালায়। তাদেরকে রক্ষা করতে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে রেঞ্জ কর্মকর্তা তার দলবলসহ মালামাল নিয়ে ট্রলার যোগে চলে য়ায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে মহিপুর কুয়াকাটা চিকিৎসা করায়। এ ব্যাপারে হাওয়া বেগম ১২ এগ্রিল সোমবার কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল কালাম আজাদ, বিট কর্মকর্তা মোঃ ইসা মিয়া, ফরেষ্টার মিজানুর রহমানসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৬০ জনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন। এছাড়া মহিপুর বনবিভাগের কর্মকর্তা ২০১২ সালে ভুমিহীনদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করলে বনবিভাগ কোন কাগজপত্র বিচারকের কাছে উপস্থাপন করতে না পারায় বিচারক মামলাটি থেকে অভিযুক্তদের খালাসের আদেশ প্রদান করেছেন বলে মোঃ দুলাল জানান।
এ ব্যাপারে মহিপুর বনবিভাগের কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে বিট কর্মকর্তা মোঃ ইসা মিয়া র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই জমি ভুমিহীনদের নয, জমি বনবিভাগের রিজার্ভ বন। আমরা ভুমিহীনদের ঘর নির্মাণ বন্ধ করতে গিয়েছি। তবে চারটি ঘরের মালামাল আমরা নিয়ে এসেছি। কাউকে মারপিট করিনি।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here