চরফ্যাশন শশীভূষনে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবী‘ জমির মালিককে উচ্ছেদের চেষ্টা

0
142

দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভুষন থানার রসুলপুর ইউনিয়নের ২ নং ওযার্ডে শশীভুষন থানার সামনে মেইন সড়কের সাথে চরশশীভূষন মৌজার, ২১৩৪ নং খতিয়ানে, ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগ দখলে আছেন বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের কাঞ্চন মাতাব্বরের ছেলে মোঃ নুরুদ্দিন মাতাব্বর। ক্রয়কৃত ৪ শতাংশ জমির মালিক নুরুদ্দিনের বাড়ী বোরহানউদ্দিন উপজেলায় হওয়ায় স্থানীয় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের কবলে পড়েন নুরুদ্দিন মাতাব্বর। ভুক্তভোগী নুরুদ্দিন মাতাব্বর অভিযোগ করে বলেন, চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষন থানার রসুলপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ নুরইসলামের ছেলে সোহাগ (২২), ফুহাদ হোসেন (২৮) ও পারভেজসহ স্থানীয় আরো অজ্ঞাত ৫ জন দীর্ঘ দিন যাবত চাঁদা দাবী করেন। আমি তাদের হাত থেকে রক্ষার্থে নগদ ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দেই। কিন্তু তারা আমার কাছে আরো ১ লক্ষটাকা চাঁদার দাবীতে আমাকে হত্যার হুমকি ও আমার জমি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করেন তারা। পরে চাঁদাবাজদের কবল থেকে বাচতে নুরুদ্দিন বাদী হয়ে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন ভোক্ত ভোগী নুরুদ্দিন। লিখিত অভিযোগটি চরফ্যাশন উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিষয়টি মিমাংসার জন্য নির্দেশ দেন এমপি আব্দুল্লা আল ইসলাম জ্যাকব। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিষয়টি তদন্ত করেন। নুরুদ্দিনের কাছ থেকে পারভেজ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া ও একাধিক বার টাকা চাওয়ার কথা রোয়েদাদ শালীস নামায় বলা আছে। পরে বিষয়টির একটি শালিসী রোয়েদাদ নামা ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপির বরাবর প্রতিবেদন দেন। শালিসী রোয়েদাদ নামা প্রতিবেদনটি শশীভূষন থানার ওসিকে বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ করেন এমপি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। তৎকালীন শশীভূষন থানার ওসি মনিরুল ইসলাম স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে নিয়ে উভয় পক্ষের কাগজ পত্র দেখেন। গত ২২-১২-১৯ ইং তারিখে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদেরকে নিয়ে নুরুদ্দিনের জমি চাঁদা বাজদের কবল থেকে উদ্ধার করে গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নুরুদ্দিনকে তার জমি বুঝিয়ে দেন ওসি মনিরুল ইসলাম। পরে নুরুদ্দিন তার জমি ভোগ দখল করে আসছেন। নুরুদ্দিন তার ক্রয়করা জমিতে ইট দিয়ে বাউন্ডারী ওয়াল করেন। গত ০১-০৬-২০২০ ইং তারিখে শশীভূষন থানার ওসি মনিরুল ইসলাম বদলী জনিত কারনে লালমোহন সার্কেলে যোগদান করেন। ওসি মনিরুল ইসলাম শশীভূষন থানা থেকে লালমোহন সার্কেলে যোগদান করায় চাঁদা বাজরা আবার বেপরোয়া হয়ে গত ০৪-০৬-২০২০ ইং তারিখে জমির উপরে নুরুদ্দিনের কাছে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেন। এবং নুরুদ্দিনের জমির দায়িত্বে থাকা জামালকে মারধোর করতে তার বাড়িতে যান চাঁদা বাজরা। নুরুদ্দিন বাদী হয়ে ওই তারিখে চাঁদা বাজদের বিরুদ্ধে জামালকে মারধোর করার চেষ্টার ঘটনায় শশীভূষন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার সকাল ১০ টায় শশীভূষন থানায় (ভার প্রাপ্ত) ওসি তদন্ত রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের কথা শোনেন। পরে (ভার প্রাপ্ত) ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন আগের ওসি স্যার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন সেই সিদ্ধান্ত বহাল আছে। এবং নতুন ওসি স্যার আসলে বিষয়টির সমাধান দিবেন। এব্যপারে অভিযুক্ত সোহাগ ,ফুহাদ ও পারভেজ এর কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের বাবা নুরুদ্দিনের কাছে ৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেছে। আমরা নুরুদ্দিনের ৪ শতাংশ জমি বুঝ দিয়েছি। নুরুদ্দিনের জমির সামনে মেইন সড়কের সাথে চার লাইন সড়কের জন্য সরকার যে জমি একোয়ার করেছে সেই জমি নুরুদ্দিন ব্যবহার করলে আমাদেরকে টাকা দিতে হবে। নাহলে সরকারী জমিসহ ৪ শতাংশ জমি বুঝ নিতে হবে। স্থানীয় হারুন মেম্বার বলেন, নুরুদ্দিনের জমি পাকা রাস্তার সাথে, সেখানে কিছু জমি চার লাইন সড়কের জন্য সরকার একোয়ার করেছে। সেই একোয়ারের জমি নুরুদ্দিন ব্যবহার করলে অভিযুক্তদের সাথে সমযোতা করতে হবে। তিনি আরো বলেন, একোয়ার জমি প্রয়োজনে সরকার ব্যবহার করবে। শশীভূষন থানার সাবেক ওসি মনিরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শশীভুষন থানায় কর্মরত অবস্থায় নুরুদ্দিন আমার কাছে এমপি মহোদয় প্রেরিত একটি শালিসি রোয়েদাদ নামা নিয়ে আসেন ও একটি অভিযোগ করেন। শালিসী রোয়েদাদ নামা ও লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নুরুদ্দিনের জমির কাগজপত্র স্থানীয় গ্যন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে পর্যালোচনা করি। সেখানে নুরুদ্দিনের জমি রাইট থাকায় নুরুদ্দিনের জমি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তাকে তার জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এবং সবাইকে শান্তি পূর্ণ স্ব অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিন মিয়া বলেন, সড়কের জন্য সরকারী একোয়ার জমি কেউ বিক্রি ও স্থাপনা নির্মান করতে পারবে না। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে যানা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here