চামড়া ক্রয়ে ব্যাংক ঋণ ২৩০ কোটি টাকা

0
4

দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ

কোরবানির চামড়া ক্রয়ে ২৩০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে সরকারি চার ব্যাংক। কিন্তু ব্যাংকগুলো এ খাতে ঋণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৬০০ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক প্রস্তুত থাকলেও ভালো গ্রাহকের অভাবে কোরবানির চামড়া কিনতে কোনো ঋণ দিতে পারেনি।

বিশ্ববাজারে বিক্রি কমে যাওয়া এবং কাঁচা চামড়া কিনতে পর্যাপ্ত ব্যাংক ঋণ না পাওয়ায় কোরবানির চামড়া সংগ্রহ ব্যাহত হচ্ছে বলে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন। বিপরীতে খাতটিতে আগের দেয়া ঋণের মধ্যে বেশির ভাগ খেলাপি হয়ে পড়ায় নতুন করে বেশি ঋণ দেয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান কয়েকজন ব্যাংকার। তাদের মতে, ভালো গ্রাহক না পাওয়ায় এবার বেশি ঋণ দিতে পারেনি ব্যাংকগুলো।

বিভিন্ন ব্যাংক সূত্র জানায়, এ বছর চামড়া ক্রয়ে সোনালী ব্যাংক ১০০ কোটি, জনতা ব্যাংক ১৮০ থেকে ২০০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ১৮৫ কোটি এবং রূপালী ব্যাংক ১৫৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সোনালী ব্যাংক ২৫ কোটি, জনতা ব্যাংক ১২০ কোটি, অগ্রণী ব্যাংক ৫১ কোটি এবং রূপালী ব্যাংক ৩৪ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এছাড়া বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক ভালো গ্রাহকের অভাবে ঋণ দিতে পারেনি। এমনকি একজন ভালো গ্রাহক প্রথমে ঋণের আবেদন করেছেন। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ দেখে শেষ পর্যন্ত তিনি আর ঋণ নেননি।

জানতে চাইলে সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম কামাল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, কোরবানির চামড়া কিনতে একজন গ্রাহক ২০ কোটি টাকার আবেদন করেছিলেন। আমরা ১৫ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছি। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ দেখে তিনি অনুমোদিত টাকাও নেননি।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চামড়ায় ঋণ দিতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু ভালো গ্রাহক না পাওয়ায় ঋণ দিতে পারিনি।

জানা গেছে, গত বছর থেকে রাস্তায়, গলিতে, বৃষ্টির পানিতে পচে নষ্ট হচ্ছে রফতানি খাতের চামড়া সম্পদ। সরকারের দাম নির্ধারণ, রফতানির সুযোগ করে দেয়া, কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ও পুনঃতফসিল সুবিধা দিয়েও কোনোভাবেই শৃঙ্খলায় আসছে না এ সম্পদের ব্যবস্থাপনায়। ব্যবসায়ীরা জানান, বৈশ্বিক বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ায় প্রতি বছরই অর্ধেক চামড়া অবিক্রীত থাকছে। এতে অর্থ সঙ্কটে পড়েছেন বলে দাবি ট্যানারি মালিকদের।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলোকে বলেছিলাম আমাদের সবকিছুর ওপর লক্ষ্য দিয়ে আমাদের ফ্রেশ ঋণ দিতে। কিন্তু ব্যাংক সে পথে হাঁটেনি। যার কারণে সময়মতো আমরা আমাদের ঋণগুলো পরিশোধ করতে পারছি না।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here