জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া

0
5

রিপন শান

বাংলা সাহিত্য সঙস্কৃতির অন্যতম অভিভাবক,  বিশ্ববরেণ্য শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক, ভাষাসংগ্রামী, বাংলা একাডেমির সভাপতি, সংবিধানের অনুবাদক , ইমেরিটাস অধ্যাপক , জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান চিরায়ত প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী মহিমান্বিত পার্থিব জীবনের পাঠ চুকে পাড়ি জমালেন সেই অমর্ত্যলোকে ; যেখান থেকে আর কেউ কোনোদিন ফিরে আসেনা ।
মহীয়ান গরীয়ান এই মনীষীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে- বাঙালি সাংস্কৃতিক বন্ধন, বাংলার মুখ, সারগাম ললিতকলা একাডেমি,  বাংলাদেশ রোদসী কৃষ্টিসংসার, পদক্ষেপ বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ, জাতীয় সাংস্কৃতিক ধারা, বাংলাদেশ শিশুসাহিত্যিক ফোরাম, বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এসোসিয়েশন, অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, অনলাইন প্রেস ইউনিটি, লালমোহন মিডিয়া ক্লাব, লালমোহন উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি, ভোলা থিয়েটার, ভোলা আবৃত্তি সংসদ, জীবনপুরাণ আবৃত্তি একাডেমি, তোলপাড় কৃষ্টি সংসার সহ দেশের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ।
১৯৩৭ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাটে এক উচ্চশিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ড. আনিসুজ্জামান। তার বর্ণাঢ্য শিক্ষাজীবন শুরু হয় কলকাতার পার্ক সার্কাস হাই স্কুল থেকে। কৈশোরে পরিবারসমেত বাংলাদেশে চলে আসলে খুলনা শহরের এক স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে ঢাকার প্রিয়নাথ হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৫৩ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। সেখানে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান অর্জন করে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। স্নাতক জীবনে তিনি শিক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এবং ড. মুনীর চৌধুরীর মতো কিংবদন্তি শিক্ষকদের, যাদের সান্নিধ্যে তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন। ১৯৫৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি শুরু করেন এবং ১৯৬৫ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করেন। অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য বিভিন্ন সময়ে তিনি বেশ কিছু বৃত্তি লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শরণার্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ছিলেন। এছাড়াও তিনি জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্পে অংশ নেন এবং ‘কমনওয়েলথ অ্যাকাডেমি স্টাফ ফেলো’ হিসেবে লন্ডন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করেন। শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য একাধিক পুরস্কার লাভ করেছেন তিনি। প্রবন্ধ গবেষণায় অবদানের জন্য ১৯৭০ সালে তিনি বাংলা বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। শিক্ষায় অবদানের জন্য তাঁকে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে ভারত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মভূষণ পদক প্রদান করা হয়। সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তাকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
এদিকে , জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে এক শোক বিবৃতিতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন- ভোলা ৩ আসনের সংসদ সদস্য, লালমোহন উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক আলহাজ্ব নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন । অন্য এক শোকবার্তায় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন- অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সভাপতি, দৈনিক ইউরো সমাচার সম্পাদক ও লালমোহন মিডিয়া ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান এবং অস্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম কবির
SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here