বাউফলে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের ঘর ভাঙচুরের অভিযোগ

0
6

আব্দুল আলিম খান, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর বাউফলে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে চলাচলের রাস্ত দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের পর বুধবার রাতে নিজেরা ভেঙে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেশবপুর ইউনিয়নের বাজেমহল গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক শিকদারের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে ওই অভিযোগ করেন তাঁরই আপন ভাগ্নে মাওলানা মাসুদুর রহমান।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের বাজেমহর গ্রামের আব্দুর হাকিম শিকদার প্রায় ২০ বছর পূর্বে মারা যান। হাকিম শিকদার মৃত্যুর পরে ২ ছেলে আব্দুর রাজ্জাক শিকদার ও আবুল কালাম শিকদার এবং দুই মেয়ে আনিচা ও মোর্শেদা বেগম ওয়ারিশ থাকে। আব্দুর রাজ্জাক শিকদার সবার বড় হওয়ায় জমা জমির সমস্ত কাগজপত্র তার কাছে থাকায় অন্য ভাই ও বোনদের তার ইচ্ছা মতো জমি ভোগ দখল করাতো। বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক শিকদারের কথা মতো তার বোন আনিচা বেগমে পাশেই কিছু জমি নিয়ে একটি আলাদা বাড়ি করে বসবাস ও রাস্তা বেধে চলাচল করে আসছে। আনিচা বেগমের বড় ভাই আব্দুর রাজ্জাক শিকদার সেই চলাচলের রাস্ত দখল করে কয়েক মাস পূর্বে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ওই নির্মাণ কাজে বাধা দিলে রাজ্জাক শিকদার ক্ষিপ্ত হয়। পরে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন সাথে নিয়ে পাকা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করে।

কোন উপায় না পেয়ে আনিচা বেগমের ছেলে মাওলানা মাসুদুর রহমান বাদী হয়ে গত ২৩ মার্চ পটুয়াখালী আদালতে একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ওই জায়গায় ১৪৪ ধারা জারিসহ আসামীদের প্রতি সমন ও বাউফল থানা পুলিশকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করতে আদেশ দেন। ওই আদেশের প্রেক্ষিতে পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দিলেও কয়েক দিন পরে আবারও নিষেধাঞ্জা অমান্য করে নির্মাণ কাজ শুরু করেন আব্দুর রাজ্জাক শিকদার। পরবর্তীতে বাদীপক্ষ আদালতের নিষেধাঞ্জার কাগজপত্র নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাছে অভিযোগ করলে নির্বাহী অফিসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বাউফল থানার ভারপ্রপপ্ত কর্মকর্তকে (ওসি) বলেন। তিনি উভয়পক্ষকে থানায় উপস্থিত থাকতে বলে। বাদীপক্ষ উপস্থিত হলেও বিবাদী আব্দুর রাজ্জাক শিকদার পক্ষ উপস্থিত হননি। পরে বুধবার মধ্য রাতে আনিচা বেগমদের ফাঁসাতে আব্দুর রাজ্জাক শিকদারের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন লোক ওই পাকা স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় আনিচা বেগমের ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তারা চলে যায়।

এ ব্যাপারে আব্দুর রাজ্জাক শিকদারের কাছে ০১৭৩১১৪৭৮৭০ নাম্বারে কল দিলে তার মেয়ে সালমা বেগম রিসিভ করে বলেন, আমাদের ঘর আমরা কেন ভাঙবো। আমার ফুপাতো ভাই জুলকার নাইম তার লোকজন নিয়ে আমাদের ঘর ভাঙছে।

এ বিষয়ে কেশবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন লাভলুর সাথে কথা বললে, তিনি জানান এখানে তাঁর ভুমিকা রাখার সুযোগ নাই।

এ ব্যাপারে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, ঘটনাটি জানার পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আসলে সঠিক তথ্য জানা যাবে।’

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here