ভোলায় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা এখনও পৌঁছায়নি ৯ হাজার ৫শ পরিবারের মোবাইলে

0
131

আকতারুল ইসলাম আকাশ,ভোলা

করোনায় দরিদ্রদের সহায়তায় ৫০ লাখ পরিবারকে ১২৫০ কোটি টাকা নগদ অর্থ সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। তার অংশ হিসেবে ভোলা সদর উপজেলায় ১৩ হাজার পরিবারের তালিকা নিবন্ধন করা হয়। ঈদুল ফিতরের আগে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের কাছে নগদ ২৫’শ টাকা পৌঁছানোর কথা থাকলেও পেয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৫০০ পরিবার। তবে মানবিক সহায়তা না পাওয়া পরিবারের সদস্যদের মোবাইল একাউন্টে পর্যায়ক্রমে এ অর্থ পৌঁছে যাবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

দেশে করোনা সংক্রমণরোধে গত মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এতে সারা দেশের ন্যায় ভোলায়ও কাজ হারিয়ে আয় বন্ধ হয়ে যায় লাখ লাখ মানুষের। কর্মহীন এসব পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তা শুরু করে প্রশাসন। যার পাশাপাশি ঈদ উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে সদর উপজেলায় ১৩ হাজার পরিবারকে ২৫শথ টাকা করে সরাসরি দেওয়া হবে নগদ অর্থ সহায়তা।

কিন্তু অসহায় মানুষগুলো কাঠ খড়ি পুড়িয়ে নিজের নামটি নিবন্ধন করতে পারলেও সেই সহায়তা এখনও পৌঁছায়নি তালিকায় থাকা ৯ হাজার ৫০০ পরিবারের মাঝে। ফলে একদিকে তালিকা প্রস্তুতকারী জনপ্রতিনিধিরা হচ্ছেন বিড়ম্বনার শিকার। অন্যদিকে করোনা ভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা না পাওয়ার হতাশা।

কথা হয় মানবিক সহায়তার তালিকায় থাকা উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের দক্ষিণ চরপাতা গ্রামের আব্দুল হকের সাথে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিকের কাজ করতেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাড়িতে এসে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, সেলিম মেম্বারের কথা মতে ছবি ও আইডি কার্ডের কপি দিয়েছি। শুনেছি ২৫শথ টাকা করে মোবাইলে আসবে।

কিন্তু এখনও টাকা পাইনি। করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া একই ইউনিয়নের রফিক, ইউছুফ, আনোয়ার, বারেকসহ আরও কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের কেউ কৃষি কাজ করেন আবার কেউ চায়ের দোকান চালিয়ে সচল রাখেন পরিবারের চাকা। অসহায় এসব পরিবার মানবিক সহায়তার খবর পেয়ে লকডাউনের মধ্যে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে ছবি এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি দেন জনপ্রতিনিধিদের হাতে। কিন্তু আজও সেই সহায়তার টাকা মোবাইলে আসেনি।

তবে সৌভাগ্য ক্রমে যারা এই ঈদ উপহার আগে ভাগে পেয়েছেন তারা সরকার প্রধানকে জানিয়েছেন আন্তরিক অভিনন্দন। কিছুটা হলেও ভালো কেটেছে তাদের ঈদ আনন্দ। এই প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন বলেন, অনেক কষ্ট করে লকডাউনের মধ্যে অল্প সময়ের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যে আমাদের, করোনা ভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত বেশিরভাগ জনগণ এখনও টাকা পায়নি। মানবিক সহায়তার নগদ অর্থ যাতে দ্রুত পাওয়া যায় সে বিষয়ে সরকার প্রধানের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলায় ১৩ হাজার পরিবারকে মানবিক সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্যে নিবন্ধন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তালিকায় থাকা ৩ হাজার ৫০০ জন এ সুবিধা পেয়েছেন। পর্যায়ক্রমে সুবিধা বঞ্চিত পরিবারের মোবাইল একাউন্টে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে ঈদুল আজহার আগেই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here