মনপুরায় বিদ্যুতের ভেলকিবাজীতে ৮ শতাধিক গ্রাহকের চরম দূর্ভোগে

0
73

মোঃ ছালাহউদ্দিন,মনপুরা

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় গত ২৬ দিন ধরে বিদ্যুৎ সমস্যা চলছে। বড় ২টি মেশিন একসাথে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উপজেলার ৮ শতাধিক গ্রাহকের ভোগান্তি চরম আকারে পৌছেছে। দ্রুত এ সমস্যা সমাধান করে গ্রাহকদের ভোগান্তি লাঘবের দাবী স্থানীয়দের।
জানা যায়, উপক‚ল ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচীর আওতায় ১৯৯১ সালে ৪ শত কিলোওয়াটের ২টি মেশিন দেওয়া হয় এই উপজেলায়। তখন থেকে উপজেলা পরিষদ এলাকা, উপজেলা শহরের বাজারসহ অল্প কিছু সংখ্যক গ্রাহকের মাঝে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো।
পরে এক মেঘাওয়াটের ১টি এবং ৫শত কিলোওয়াটের আরো ১টি মেশিন সংযুক্ত হলে মনপুরায় বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যাও বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা থেকে বিরতিহীনভাবে রাত দেড়টা পর্যন্ত সরবরাহ করা বিদ্যুতেই এখানকার মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে বড় এই দুটি মেশিনই নষ্ট হয়ে গেছে।
গত ২৬ই মে থেকে বড় মেশিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সেই থেকেই গ্রাহকদের ভোগান্তি শুরু হয়। গ্রাহকরা ভেবেছিল এক সপ্তাহের মধ্যে হয়তো এই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু ২৬ দিন অতিবাহিত হতে চললেও বিদ্যুৎ সমস্যার কোন সমাধান হয়নি।
বর্তমানে পুরনো ছোট ২টি মেশিনে বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করলেও এই বিদ্যুতে গ্রাহকের তেমন কোন উপকারে আসছেনা। বর্তমানে পালাক্রমে গ্রাহকদের অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।
একটি লাইনে সন্ধ্যা থেকে ১০টা এবং অন্য লাইনে ১০টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করলেও এই সময়ের মধ্যে কয়েকবার লোডশেডিং এর আওতায় থাকে গ্রাহকরা। আর ছোট মেশিন দিয়ে সরবরাহ করা এই বিদ্যুতে বাতি মিটিমিটি করে জ¦লে। ফ্যান, টিভি, ফ্রিজ, মটরসহ বিদ্যুৎ চালিত কোন কিছুই চালানো যাচ্ছেনা। অল্প কিছু সময় মোটামুটি আলোকিত থাকলেও বাকিটা সময় অন্ধকারেই কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন গ্রাহকরা।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, দরপত্র আহবানের মাধ্যমে মেসার্স ডেটা টেক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ২জন বর্তমানে কাজ করছে। এতবড় মেশিনের সমস্যা সমাধানে মাত্র ২জন লোক কাজ করার বিষয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যেখানে দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকরা ভোগান্তিতে আছে, সেখানে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আরো লোক পাঠিয়ে কাজ করালে এই সমস্যার সমাধান দ্রæতই হতো বলে মনে করছেন গ্রাহকরা।
এব্যাপারে মনপুরা উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসেমবিøর কাজ চলছে। জনবল আরো আসবে। চলতি মাসের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here