মানবতার ফেরিওয়ালা এমপি শাওন

0
18

নুরুল আমিন

জনসেবার মহতী অঙ্গনে উদারতা ও ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ভোলা-৩ আসনের এমপি আলহাজ্ব নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন। মানব সেবার বিচিত্র অঙ্গনে মহান কর্মের মধ্য দিয়ে মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকার চির স্বপ্ন বুকে নিয়ে তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি মানব সেবায় নজিরবিহীন কিছু কাজ করেছেন, যার দৃষ্টান্ত বিরল।
লালমোহন ও তজুমুদ্দিন উপজেলায় এমপি শাওন মানবতার এক ফেরিওয়ালা। তিনি ২০১০ সালে ১৭ এপ্রিল একটি উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে পদার্পণ করেন। অবশ্য তিনি এর আগেও দুঃস্থ অসহায় অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সেবা করার জন্য লালমোহন এসেছিলেন।
তিনি অত্র এলাকা থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর ঘূর্ণিঝড়, সুনামি, আইলা, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা ইত্যাদি সকল দুর্যোগে জনগণের পাশে থেকেছেন। প্রচন্ড তুফানে কারো ঘর পড়ে গেলে খবর পেলেই তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে গভীর রাতে দুর্গম পথে দুর্যোগের মধ্যে নিজেই উদ্ধার কাজে ছুটে যান। গৃহহারা মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা ও গৃহের ব্যবস্থা করে দেন। এমনকি প্রতিটি ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় উৎসবে তিনি এলাকায় থেকে জনগণের সঙ্গে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেন।
দ্বীপবন্ধু খ্যাত এমপি আলহাজ্ব নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন তার নির্বাচনী এলাকায় কারো বিপদে খবর পেলেই অস্থির হয়ে ওঠেন। দেশে রাজনৈতিক দলমত ও মতবিরোধ আছে এবং থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে এমপি শাওন দলমতের উর্ধ্বে ওঠে মানুষের পাশে থেকে সেবা করার জন্য এগিয়ে যান। তিনি সবাইকে ক্ষমা সুন্দর নজরে দেখেন।
এমপি শাওনের রাজনীতির একটা বড় গুণ হচ্ছে তিনি ক্ষমা করতে ভালবাসেন এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি তিনি পছন্দ করেন না। তিনি বিশ্বাস করেন ক্ষমা মহৎ গুন। ক্ষমার মধ্য দিয়েই মানুষের প্রকৃত ভালবাসা পাওয়া সম্ভব।
তিনি ছোট বেলা থেকেই মুজিব আদর্শে বিশ্বাসী। তার প্রয়াত পিতা হাজ্বী নুরুল ইসলাম চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে মুজিব কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে জনসেবা করতে শুরু করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি গণতন্ত্রের মানস কন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে মনেপ্রাণে অনুসরণ করে আসছেন। এক সময় নেত্রীর নজরে আসেন। তিনি ছাত্রলীগ থেকে ভিপি হয়েছেন। পরে ঢাকা মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। এরপর কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হয়েছেন। সংসদ সদস্য হয়েছেন। তিনি তৃণমূল থেকে উঠে আসার কারণে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তৃণমূলের মানুষের কদর বোঝেন এবং বিপদ-আপদে তাদের সেবা করেন।
মানুষের সেবা করে ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেছেন মানবতার এক ফেরিওয়ালা। গরীব, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের উন্নয়ন ও  কল্যাণে নিবেদিত প্রাণে কাজ করে যাচ্ছেন।
দেশে করোনা দুর্যোগে লক ডাউনের মধ্যে দীর্ঘ একটি সময় তিনি কর্মহীন শ্রমজীবী অসহায় মানুষের পাশে থেকে সেবা করেন। নিজের জীবন বাজি রেখে দিনরাত তিনি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ছুটে চলেছেন। এমনকি গভীর রাতে তিনি তার এলাকায় অনাহারী গরীব মানুষের ঘরে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে হাজির হয়েছেন এমন বাস্তব চিত্র অনেক আছে।
২০২০ সালের ১২ মে রাত তখন ১১টা বাজে। নিজ বাসভবনে নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি জরুরি একটা মিটিং করছিলেন। এমন সময় এক মুরুব্বি ফোন করে বললেন, আমরা খুব গরীব মানুষ স্যার। আমাদের বুঝি দেখার কেউ নেই! শুনি আপনি রাতে ঘুমান না। বিভিন্ন বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে সবার ভালমন্দ খবর নেন। যদি দয়া করে আমাদের বাড়ীতে আসতেন!
বৃদ্ধের সাথে কথা শেষ হলে উপস্থিত আলোচনা সভা সমাপ্ত করে ওই বৃদ্ধের বাড়িতে ছুটলেন। আর মনে মনে ভাবতে লাগলেন, আমাকে দয়া করে আসতে হবে কেন! আমার দায়িত্ব-ই এটা। সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য একটি জনপদকে শান্তির নীড়ে রুপান্তর করে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষেই জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এ অঞ্চলে পাঠিয়েছেন। এই পথ মোটেও মসৃণ নয়। বন্ধুর এই পথ পাড়ি দিতে আমাকে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। প্রথমে এ অঞ্চলে পদার্পণ করার পর আমি খুবই থমকে গিয়েছি। কিভাবে এই মানুষগুলো এখনো বেঁচে আছে! মানুষের জানমালের ছিল না। কোন নিশ্চয়তা ছিল না।
ওই বৃদ্ধের বাড়ির দিকে এমপি শাওনের গাড়ি ছুটে চলছে। মৃদু বাতাস বইছে। এই অঞ্চল নিয়ে নানান কথা তার হৃদয়ের আকাশে ভেসে ওঠে। তিনি এই লালমোহনের সম্ভ্রান্ত মুজিবুর রহমান পঞ্চায়েত বাড়ির সন্তান। ব্রিটিশ আমলেও এই অঞ্চলের সামাজিক বিচার-আচার তাদের পরিবার করতো। তার পূর্ব পুরুষেরা এই অঞ্চলে মানুষের সেবা করেছেন। তিনিও করছেন। গণমানুষের সেবার কাজ তিনি অব্যাহত রাখতে চান। সেবার মহিমায় তিনি বেঁচে থাকতে চান।
কেন্দ্রীয় যুবলীগের দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি লালমোহন এসে তোপের মুখে পড়েছিলেন। সেই দুঃসহ স্মৃতি তাকে তাড়া করে। তিনি এইটুকু বুঝতে পেরেছেন যে এখানে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। এখানে তখনও থেকে আওয়ামী লীগের দক্ষ নেতৃত্ব এবং সুসংগঠিত সাংগঠনিক রূপ ছিল না। তিনি এখানে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর দল ঢেলে সাজান। সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে তিনি সেবা ও ভালবাসা দিয়ে সন্ত্রাস নির্মূল করে সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে ছুটে চলেছেন অবিরাম। এই অঞ্চলে তিনি মানবতার ফেরিওয়ালা হিসেবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
চলতে চলতে হঠাৎ তার মনে পড়লো কানাডার কোন এক প্রদেশের ষোড়শ শতকের রাজা হার্ডিংকের কথা। তিনি নির্দয় শাসক ছিলেন। প্রতিপক্ষ দমন-পীড়নে ছিলেন সিদ্ধহস্ত। রাজা হার্ডিংক ক্ষমতার মসনদে বসার পর পূর্বের রাজা উইলিয়াম ভিনটেকের শাসনামলের উজির থেকে শুরু করে ঝাড়ুদার পর্যন্ত ২৭৭ জন রাজদরবারের লোককে একসাথে রশি দিয়ে পেঁচিয়ে জলন্ত ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। হেন কোন অপরাধ নেই যেটা তারা করেননি। রাজা হার্ডিংক নেই। কিন্তু তার দুঃশাসনকালের দুঃসহ বেদনার স্মৃতি রয়ে গেছে।
এমপি শাওন ভাবেন, এখানকার কত মানুষ নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। আমরা রাজা হার্ডিংক এর মত হতে পারিনি। আর পারিনি বলেই আমি নির্বাচিত হবার পর সকলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেছি। আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কখনো প্রতিশোধ নিতে শিখেনি। অপরাধীদের বারবার ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন ক্ষমা মহৎ গুন। ক্ষমার মধ্য দিয়েই মানুষের প্রকৃত ভালবাসা পাওয়া সম্ভব। মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব।
ভাবতে ভাবতে রাতের গভীরতা বেড়ে যায়। এক সময় ওই বৃদ্ধের বাড়িতে পৌঁছে যান। এত রাতে এই নিস্তব্ধ প্রহরে হতদরিদ্রের বাড়িতে মানবিক সেবা নিয়ে এমপি শাওনের আগমনী বার্তা এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লো। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে গেলো। বেরিয়ে এলো অনেক মানুষ।
তিনি বলেন, খুবই খারাপ লাগলো। কিছু মানুষের জীবন কত দুর্বিসহ এখানে না আসলে অনুমান করতে পারতাম না। ঘরের সবার সাথে কথা বললাম। সকলকে খাবারের প্যাকেট ও কিছু নগদ অর্থ তুলে দিলাম। তারা মহাখুশি। বুড়ো মুরুব্বী বললেন, সাহায্য দূরের কথা, কখনো কোন এমপিকে চোখে দেখিনি। আজ আপনি আমার মনের স্বাধ মিটিয়ে দিলেন। আমি পরম মমতায় বাড়ীর সবাইকে আপন করে নিলাম। এখানেই আমার প্রশান্তি। ওদের চোখের পানিতে নিজেকে অশ্রু সংবরণ করতে পারিনি। কষ্টের নয়, এটা ভালবাসার অশ্রু।
বুদ্ধ মানুষটিকে দেখে মানবতার ফেরিওয়ালা এমপি শাওন পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের আসমানী কবিতা অনুসারে বলেন,
নিভৃত পল্লীর এই গরীব
বৃদ্ধ মানুষটির বেরিয়ে থাকা বুকের কয়খান হাড়।
স্বাক্ষী দিচ্ছে অনাহারে কয়দিন গেছে তার।
আমি এদের প্রতিনিধি
এদের দেখা দায়িত্ব আমার।
দুখী মানুষের কষ্ট যদি
তোমরা বুঝতে চাও।
আরাম-আয়েশ ছেড়ে
ওই পল্লীতে ছুটে যাও।
স্বাক্ষী থেকো রাতের আঁধার
সেবা করছি দুঃস্থ জনতার।
সুনাম যেন রাখতে পারি
জননেত্রী শেখ হাসিনার।
এসময় ওই এলাকার আরো কয়েকজন দুঃস্থকে ত্রাণ বিতরণকালে এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বির্ণিমানসহ আমার নির্বাচনী এলাকা লালমোহন-তজুমদ্দিনের প্রতিটি মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষে আমি নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।
জনতার ভালবাসায় সিক্ত হয়ে মানবতার ফেরিওয়ালা এমপি শাওনের মানবিক সেবা সম্প্রসারিত হোক। মানব সেবায় নিরন্তর জেগে থাকুক এমপি শাওনের হৃদয়, বয়ে আসুক সফলতা, গড়ে উঠুক স্বপ্নের সোনার বাংলদেশ এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট, কবি ও প্রাবন্ধিক। লালমোহন, ভোলা। nurulamin911@gmail.com, 01759648626.

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here