রমজানে প্রস্তুত লালমোহনের মুড়ির বাজার

0
15

সাব্বির আলম বাবু, লালমোহন

রমজান উপলক্ষ্যে ভোলার লালমোহনের মুড়ির বাজার সরগরম হয়ে উঠছে। মুড়ি তৈরীর মালিকদের বাড়ী ও কারখানায় ধুম লেগেছে মুড়ি তৈরীর। ইতিমধ্যে বাজারের মুড়ি ব্যবসায়ীরা  মিল মালিকদের কাছ থেকে মুড়ি কিনে দোকানে নানা রকম মুড়ির পসরা সাজিয়ে রেখেছেন। ভিন্ন ভিন্ন দামের মুড়ি আগে থেকেই কেজি মেপে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। যাতে ক্রেতাদের কাছে দ্রুত মুড়ি বিক্রি করা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মুড়ি তৈরীর কারিগররা বেশ কিছুদিন আগে থেকেই ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় মুড়ি যোগান দিচ্ছে। সাধারনত হিন্দু পরিবারের সদস্যরাই এ পেশার সাথে বেশী জড়িত। চরলক্ষি গ্রামের মুড়ি তৈরীর কারিগড় রাশিদা বেগম জানান, মোতা, গিওচ, মূলক স্বর্ণা, আউস, ইরি ধান থেকে মুড়ি তৈরি হয়। মুড়ি গ্রামে নারী-পুরুষরা মুড়ি ব্যবসার পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন কাজের সাথে জড়িত। হাতে ভাজা মুড়ির ব্যবসায়ীদের সাথে আলাপ করলে জানা যায়, পুরুষরা হাট থেকে ধান কেনা, ভাঙ্গানো ও বাজারজাত করণে এবং নারীরা ধান সেদ্ধ, শুকানো, চাল থেকে মুড়ি বানানো কাজে ব্যস্ত থাকে। বালুরচর গ্রামের কাজল দাস জানান, তারা মুড়ি তৈরিতে কোন রকম কেমিক্যাল বা ইউরিয়া ব্যবহার করেন না। কিন্তু ভালো মুড়ি তৈরিতে ধান ছাড়াও জ্বালানি খরচ সবচেয়ে বেশি পড়ে। সে তুলনায় মুড়ির দাম বৃদ্ধি না পাওয়ায় তারা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। রোদ আর আগুনের আঁচে পুড়ে সারা দিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর যে উপার্জন হয় তা দিয়ে কোনমতে চলছে তাদের জীবন যাপন। মুড়ি শ্রমিক বিপ্ল¬ব দাস জানান, এক মন ধান হতে ২২/২৩ কেজি মুড়ি হয়। সব খরচ বাদ দিয়্ েএক মন ধানের মুড়ি বিক্রি করে তাদের হাতে থাকে একশ থেকে ১২৫ টাকা। কারণ হিসেবে জানা যায়, নিজস্ব পুঁজি না থাকায় মুড়ি শ্রমিকের অনেকে এনজিও বা দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে লোন নিয়ে এ ব্যাবসায় নেমেছে। এই লোনের চড়া সুদের পরিশোধের কারণে তাদের অবস্থার পরিবর্তন আসছে না। অপরদিকে বাজারে ইদানিং মেশিনে তৈরী কেমিকেল মিশ্রিত মুড়ির আধিপত্য বেড়েছে। যার ফলে দেশী হাতে ভাজা মুড়ির প্রসার কমে গেছে। মেশিনে ভাজা এলসি মুড়ি আকারে বড় দেখতে সাদা ও সুন্দর ঝরঝরে হওয়ায় এবং কেজি প্রতি ৪৫-৫০ টাকা হওয়ায় সাধারন ক্রেতারা সেগুলো কিনতে বেশি আগ্রহী হয়। পাশাপাশি দেশী মুড়ি কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকা হওয়ায় বাজারে ক্রেতা হারাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় প্রাচিন ঐতিহ্যবাহী এ মুড়ি শিল্পের পেশাটি অচিরেই হারিয়ে যাবে এবং তার স্থান দখল করবে এলসি মুড়ি । বিশেষজ্ঞদের মতে, সার মিশ্রিত এই বিষাক্ত মুড়ি খেয়ে জটিল সব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে কিডনি, লিভারসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ন অঙ্গ অকেজো সহ ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগের শিকার হতে পারে। ক্রেতাদের দৃষ্টি নন্দন মচমচে, ফুরফুরে মুড়ি তৈরি করতে ব্যবহার করা হচ্ছে এক ধরণের কেমিক্যাল ও ইউরিয়া। রমজানে মুড়ির বাজারকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীদের মুড়ির বাজার দখল করতে ভেজাল মুড়ির মজুদ করতে দেখা যাচ্ছে। রোজাদারের ইফতারের পে¬টে মচমচে মুড়ির তৃপ্তি জোগায় বলে মুড়ির বাজারে রোজাদারদের উপস্থিতি থাকে শতভাগ। এখন মুড়ি বাজারে গেলে শোনা যায়, “ভাই এলসি মুড়ি নেভেন না দেশী মুড়ি নেভেন।” কিন্তু দেশী মুড়ি দেখতে অতটা দৃষ্টি নন্দন না হওয়ায় ও দাম বেশী হওয়ায় তা ব্যবসায়ীকভাবে মার খাচ্ছে, অপরদিকে ভেজাল মুড়ি ব্যবসায়ীরা চুটিয়ে ব্যবসা করছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here