লালমোহনের হোগলাশিল্প হতে পারে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক যোগানদাতা।

0
25

সাব্বির আলম বাবু,লালমোহন

ভোলার লালমোহনের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্নবিত্ত পরিবার বিশেষ করে সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের প্রায় অধিকাংশ সদস্যরাই বংশপরম্পরায় হোগলা তৈরীর পেশার সাথে জড়িত। কিবর্তমানে মহাজনদের দৈারাত্য ও হোগলা চাষের জমি কমে যাওয়ায় এই শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। অথচ প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠোপোষকতায় এটি হতে পারে দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক যোগানদাতা।
হোগলা পাতার ইংরেজি নাম সিগ্রাসআ সামুদ্রিক ঘাস। উপকুলীয় এলাকার মানুষদের কাছে এই হোগলা সংসারের দৈনন্দিন কর্মকান্ডের পাশাপশি বাড়তি আয় রোজগারের মাধ্যম। এক সময় হোগলাপাতার ব্যবহার সীমাবদ্ধছিল শুধু চাটাই তৈরীতে। সময়ের পরির্বতনে এই পাতার নানা মাত্রিক ব্যবহার হচ্ছে। হোগলা পাতা দিয়ে বিছানা, দড়ি, ফ্লোরম্যাট, টেবিল, রান্নার সামগ্রী রাখার ঝুড়ি, লন্ড্রি বাসকেট, ওয়েট পেপার, ট্রে, ফলের ঝুড়ি, শো-পিস সহ বিভিন্ন পন্য দেশের গন্ডি পেড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। বেত ও বাঁশের চেয়ে দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এসকল সামগ্রী তৈরীতে খরচও কম। পাশাপাশি পচনশীল ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় হোগলার দড়ি দিয়ে তৈরী নান তৈজষপত্র আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমেই স¤প্রসারিত হচ্ছে। সুযোগ বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রা আহরনের। উপজেলার বালুরচর গ্রামের হোগলা শিল্পী মরন দাস জানান, এক সময় হোগলার মাদুর ছিল সৌখিনতার প্রতীক। কিন্তু হোগলাপাতার সরবরাহ কম, আধুনিক পন্য সামগ্রীর আধিপত্য ও প্রয়োজনীয় পুঁজির অভাবে অনেকেই এ পেশা ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। শীতের দিনে হিন্দু পরিবারগুলো হোগলার পন্য তৈরির কাজে নেমে পড়তোসংসারের বাড়তি আয়ের আশায়। গ্রামের কৃষক, দিনমজুর, মুচি সহ অনেকেই এ পেশার সাথে জড়িত। এ সকল কুটির শিল্পিদের অভিযোগ বর্তমানে হোগলাপাতার দাম বৃদ্ধি ও মুজুরির ন্যায্যমূল্য তারা পাননা বিধায় এ কাজে তারা উৎসাহ হারাচ্ছেন। চরলক্ষী গ্রামের হোগলার কারিগড় প্রভাত দাস জানান, সাধারনত ফাল্গুন-চৈত্র মাসে হোগলা পাতার কাদিডগা লাগানোর উপযুক্ত সময়। জমি চাষ দিয়ে তৈরী করে ছাই, গোবর বা সবুজ সার দিয়ে অন্যত্র থেকে সংগ্রহ করা হোগলা পাতার কাদিডগা এক-দেড় ফুট ফাঁকে ফাঁকে লাইন করে লাগানো হয়। ১৫-২০ দিন পর কাদিডগার গোড়ায় গোড়ায় চারা গজাতে শুরু করে। এই চারা ১০-১২ ইঞ্চি লম্বা হলে নিড়ানি দিয়ে আগাছা পরিষ্কার করে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করলে পাতা মোটা ও ১০-১৫ ফুট লম্বা হয়। পৌষ মাসে পাতা কেটে ভালো করে রোদে শুকিয়ে আটি বাধা হয়। একবার কোন জমিতে হোগলা পাতার চাষ করলে ঐ জমিতে নতুন আর চারা লাগানোর দরকার হয় না। কালমা গ্রামের রামদাস বলেন, বাজারে সাধারনত ৫ হাত দৈর্ঘ ও ৪হাত প্রস্থ হোগলার বিছানা পাওয়া যায়। একেকটি বিছানার দাম ৪০-৫০ টাকা, আর দড়ি তৈলীর জন্য বড় এক বান্ডেল হোগলা পাতার দাম ৩০০/৪০০ টাকা যা থেকে ৭ হাজার হাতের বেশী দড়ি তৈরী হয় এবং প্রতি হাত দড়ি ১০/১২ টাকা বিক্রি করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here