লালমোহনে পোলট্রি শিল্পের প্রসার , মিলছে বেকারদের কর্মসংস্থান

0
40

সাব্বির আলম বাবু,লালমোহন

ভোলার লালমোহনে পোল্ট্রিশিল্প দ্রুত প্রসার লাভ করছে। পাশাপাশি সৃষ্টি হচ্ছে বেকারদের কর্মসংস্থানের পথ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল¬া দিয়ে বাড়ছে মাংস ও ডিমের চাহিদা। এভাবে দেশের যুব সমাজের  চাকরীর পেছনের সময় নষ্ট না করে পোল্ট্রি শিল্পকে হাতিয়ার হিসাবে নিয়ে ঘোড়াতে পারে দেশের অর্থনৈতিক চাকা। পরিসংখ্যানে দেখা যায় বিপিআই এর গবেষণা মতে বর্তমানে জনপ্রতি ৫ কেজি ২০১৫ সালে হবে ৭ কেজি ৫০ গ্রাম এবং ২০২১ সালে হবে ১২ কেজি। এখন সামগ্রিক ভাবে মাংসের চাহিদা ৭ লাখ ৫ হাজার টন। ২০১৫ সালে ১২ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন এবং ২০২১ সালে তা ১৮ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছতে পারে। অপরদিকে বর্তমানে মুরগীর ডিম খাওয়ার পরিমান মাথাপিছু বার্ষিক ৬০টি। এ সংখ্যা ২০১৫ সালে ৯০টি এবং ২০২১ সালে ১২০টিতে রূপ নিতে পারে। সার্বিক ভাবে দেখা যায় দেশজুড়ে লেয়ার মুরগীর ডিমের চাহিদা বার্ষিক ৯০০কোটি। এ সংখ্যা ২০১৫ সালে ১ হাজার ৪৮৫ কোটি এবং ২০২১ সালে ২ হাজার ১৬০ কোটি হতে পারে।

উপজেলার পোল্ট্রি ব্যবসায়ী সুজন আলম জানান, পোল্ট্রি শিল্পে বর্তমানে বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা থাকলেও ঠিকমতো পৃষ্টপোষকতা পেলে এর সামনে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। তবে সরকারের বার্ডফ্লুর টিকা আমদানির অনুমতি দিতে হবে। এই টিকা পর্যাপ্ত পরিমানে না পাওয়ায় লাখ লাখ মুরগী মেরে ফেলা হচ্ছে।

১৯৯০ সালে সরকার ঋনের মাধ্যমে এ শিল্প বিকাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেও এখন অনেকটা উদাসীন। অথচ বিপিআইরপরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ সালে এই খাতে বিনিয়োগ বেড়ে হবে ৬০ হাজার কোটি টাকা এবং পোল্ট্রি খামারের সংখ্যা হবে অন্তত ৩ লাখ। তখন দেশের এ শিল্পে এক কোটিরও বেশী লোকের কর্মসংস্থানের পথ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে এই শিল্পে বার্ষিক কেনা বেচার পরিমান ৩০ হাজার ৪২ কোটি টাকা। তা ২০১৫ সালে ৩৭ হাজার ১৬১ কোটি টাকা এবং ২০২১ সালে ৪৭ হাজার ৫০২ কোটি টাকা হবে। উপজেলার আরেক পোল্ট্রি ব্যবসায়ী অমৃত বৈদ্য জানান, ব্রয়লারের মাংশ থেকে বিভিন্ন প্রকৃয়াজাত খাবার তৈরী হয়। ফাষ্ট ফডের দোকানে চিকেন স্যান্ডউইচ, চিকেন বার্গার, মিটবল, চিকেন প্রেডের মতো খাবার গুলো ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি তরুন প্রজন্মও এর দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে। পুষ্টি চাহিদা পুরনে মাছের পরেই পোল্ট্রি শিল্পের ব্যাপক চাহিদা আছে। অপরদিকে দেশের অর্থনীতিতেও এ শিল্প হতে পারে অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি। গুটি কয়েক সমস্যা যেমন- বার্ড ফ্লু, পোল্ট্রি খাদ্যের মূল্যেবৃদ্ধি, বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন পর্যাপ্তভাবে না পাওয়া এবং ব্যাংক গুলোর পোল্ট্রি শিল্পে ঋণ দিতে অনীহা ইত্যাদি যদি সমাধান করা যায় তাহলে লালমোহনে এ শিল্প বিকাশে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। পোল্ট্রি ব্যবসায়ী রাধু মাঝি বলেন, আগে লেয়ার মুরগীর বাচ্চা প্রতি পিচ ৮/১০ টাকা করে কিনতাম সেখানে বর্তমানে ৪০/৪৫ টাকা করে কিনতে হচ্ছে বিদেশ থেকে আমদানি করার কারনে। আমাদের বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই পর্যাপ্ত পরিমানে ব্রয়লার ও লেয়ার প্রজাতির মুরগীর বাচ্চা উৎপাদন করানো যায় তাহলে অনেক দিক দিয়ে সাশ্রয় হবে। সমগ্র দেশে যদি একইভাবে পোল্ট্রি শিল্পকে কাজে লাগানো যায় তাহলে দেশের অভ্যন্তরিন চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও মুরগী ও ডিম রপ্তানি করা যাবে। ফলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here