হিজলায় গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় শ্বশুর গ্রেফতার

0
5

দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ

পরকীয়া প্রেমের প্রতিবাদ করায় দুই সন্তানের জননী ও তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) তাকে উপজেলার খুন্না গবিন্দপুর ট্যাকের বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত শ্বশুর দেলোয়ার হোসেন বেপারী উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের ট্যাকের বাজার এলাকার মুদি ব্যবসায়ী।

তবে গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার ঘটনার মূল হোতা স্বামী মহাসিন রেজা, ভাসুর মোস্তফা এবং পরকীয়া প্রেমিকা শাহনাজ বেগম আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন হিজলা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) অসীম কুমার সিকদার।

এদিকে গৃহবধূ ইসরাত জাহান ইমা (২২) এর আগুনে পুড়ে মৃত্যুর ঘটনা ভিন্ন দিকে মোড় নিয়েছে। মৃত্যুর পূর্বে ইমার দিয়ে যাওয়া ১৩ মিনিট ১২ সেকেন্ডের অপর একটি ভিডিও রেকর্ড নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। প্রথম ভিডিওতে তাকে হত্যার ইঙ্গিত দিলেও দ্বিতীয় ভিডিও বলছে দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে। ফলে ইমার অপমৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে অধিকতর এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে উভয়ের পরিবার। যদিও আসামি পক্ষের আবিষ্কার করা দ্বিতীয় ভিডিও রেকর্ডটি এখনো পুলিশের হাতে গিয়ে পৌঁছেনি বলে দাবি ওসি’র।

জানাগেছে, ‘গত ১১ জুন হিজলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের খুন্না গবিন্দপুর ট্যাকের বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মহসিন রেজার স্ত্রী দুই সন্তানের জননী ও তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ ইসরাত জাহান ইমা আগুনে দগ্ধ হন। ওই দিনই তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে বরিশাল শেল-র-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে একই দিন রাতে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ জুন মৃত্যুবরণ করেন ইসরাত জাহান ইমা।

এদিকে মৃত্যুর পরে আইনী প্রক্রিয়ায় পরিবারের ইচ্ছাতেই ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের অনুমতি দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ। ফলে ওই দিনই ইমার মৃতদেহ হিজলায় নিয়ে এসে দাফন করা হয়। যদিও ইমার পরিবারকে বিভিন্ন অপপ্রচার এবং ভুল বুঝিয়ে লাশ ময়না তদন্ত ছাড়াই ঢাকা থেকে হিজলায় এনে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের অভিযোগ রয়েছে।

অপরদিকে তার দাফনের কদিন না যেতেই মৃত্যুর পূর্বে ইমার স্বীকারক্তিমূলক একটি ভিডিও রেকর্ড ভাইরাল হয়ে যায়। ৭ মিনিট ৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিও রেকর্ডে বলা হয় তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর এবং অচেতন করে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন স্বামী। এর পর পরই ২১ জুন হিজলা থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত ইমার বাবা সফিকুল ইসলাম মামুন। ওই মামলার আসামি ইমার শ্বশুর দেলোয়ার হোসেন বেপারীকে গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করে পুলিশ।

তবে তার আগেই মামলা দায়েরের পর পরই ছড়িয়ে পড়ে ১৩ মিনিট ১২ সেকেন্ডের অপর একটি ভিডিও। যে ভিডিও তার স্বামীকে নির্দোষ বলে ইঙ্গিত করে। ভিডিওতে বলতে শোনা যায় ইমা তার স্বামীকে বলছেন, গ্যাসের চুলা থেকে আমার গায়ে আগুন লেগেছে। আমার মৃত্যু হলে বাবা তোমাকে হয়রানী করতে পারে। এমন কিছু হলে ওই ভিডিও রেকর্ড হিসেবে রাখতে বলেছেন স্বামীকে।

এদিকে মৃত্যুর পূর্বে গৃহবধূ ইমার দুই ধরনের ভিডিও রেকর্ড নিয়ে কিছুটা হলেও বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়েছে পুলিশকে। কেননা একটি ভিডিও হত্যার ইঙ্গিত দিলেও অপর ভিডিওটি দুর্ঘটনা বলে জানান দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিহতের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলন পরবর্তী ময়না তদন্ত এবং পুলিশের সুষ্ঠু তদন্তই ইমা’র রহস্যজনক মৃত্যুর জট খুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে হিজলা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) অসীম কুমার সিকদার বলেন, ‘হত্যা সংক্রান্ত একটি ভিডিও রেকর্ড আমাদের হাতে এসেছে। তবে আসামি পক্ষ দাবি করছে তাদের কাছেও একটি ভিডিও রেকর্ড আছে। সেটা এখনো আমাদের হাতে এসে পৌঁছেনি। তাছাড়া মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়না তদন্তের প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে।

ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ হলেই মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে। পাশাপাশি বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘ইমা হত্যা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।

SHARE

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here