দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ
ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিডওয়াইফ হিসেবে যোগদান করেন সোনালী খানম। একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, দরদি ও মানবতাবাদী স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। তিনি ২০২১ সালে যোগদানের পর থেকেই হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ বিভাগের সেবার মানে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ, নিষ্ঠাবান এবং দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতায় তিনি সাধারন রোগী ও স্থানীয়দের আস্থার প্রতীক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। হাসপাতালের সেবায় তাঁর উপস্থিতির ফলে নরমাল ডেলিভারি বা স্বাভাবিক প্রসবের হারে এক অভাবনীয় সাফল্য আসে।
তাঁর যোগদানের পূর্বে স্বাভাবিক প্রসবের মাসিক গড় ছিল প্রায় ৩০-৩৫টি।তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা ও দক্ষতার ফলে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ অতিক্রম করে। স্বাভাবিক প্রসব বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি আনুষ্ঠানিক সম্মাননা ও স্বীকৃতি অর্জন করেন।
কেবল চিকিৎসা সেবা প্রদানই নয়, রোগীদের মানসিক আশ্বস্তকরণ বা 'কাউন্সেলিং'-এর ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনন্য। তাঁর অমায়িক ব্যবহার এবং রোগীদের প্রতি মমত্ববোধ তাঁকে পুরো লালমোহনবাসীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তুলেছিল। সেবা নিতে আসা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের আস্থা অর্জনে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
সোনালী খানম ছিলেন একজন আদর্শ ও নীতিবান মানুষ। কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হলেও তিনি তাঁর সততা ও কর্মস্পৃহা থেকে বিচ্যুত হননি। তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব এবং সেবার মনোভাব সহকর্মী ও জনসাধারণের নিকট তাঁকে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
সোনালী খানম চলে যাওয়ায় লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি যা স্থানীয় রোগীদের মাঝে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে । একজন নিবেদিতপ্রাণ সেবিকা হিসেবে তাঁর অবদান স্থানীয় জনস্বাস্থ্য ইতিহাসে স্মরনীয় হয়ে থাকবে। লালমোহনবাসী প্রসূতি ও স্ত্রী রোগ বিভাগের শুন্যতা পূরনে উপস্থিতি কামনা করছে। প্রসূতি রোগীদের স্বজনরা জানান, যদি সুযোগ থাকে তাহলে শত কষ্ট হলেও সোনালী খানমকে (মিডওয়াইফ) আমরা লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখতে চাই। আমরা তার জন্য সব সময় দোয়া করি, সে যেখানেই থাকুক না কেন আল্লাহ যেন তাকে ভালো ও সুস্থ রাখেন।