প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ৫:০৬ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ৭:০১ পি.এম
কলাপাড়ায় জমি বিরোধে বিক্ষোভ, স্বাক্ষর জাল করে মামলা প্রত্যাহারের আবেদনের অভিযোগ

এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়াঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে ছালাম নেগাবানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন একটি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিরোধপূর্ণ জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে চলমান মামলায় বিবাদীপক্ষের স্বাক্ষর জাল করে আপসনামা তৈরি এবং ওই নথির ভিত্তিতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করার অভিযোগ তোলা হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, জমি বিরোধের মীমাংসার নামে বিবাদীপক্ষের সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে একটি আপসনামা তৈরি করা হয়েছে। পরে ওই নথির ভিত্তিতে আদালতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
অভিযোগ-সংক্রান্ত কাগজপত্র সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার তেগাছিয়া মৌজার জে.এল. নম্বর ২১/৪৩-এর এসএ ৩৬৭ নম্বর খতিয়ানের ৩৩২৫ ও ৩৩২৬ নম্বর দাগের মোট এক একর জমির মালিকানা ও দখল দাবি করে আদালতে মামলা করেন ছালাম নেগাবান। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে জমির দখল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন আদালত।
অন্যদিকে, বিবাদীপক্ষের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি মূলত ১ নম্বর খাস খতিয়ানের এসএ ২৬০১ নম্বর দাগে বালিয়াতলী নদী চলমান রয়েছে। পরবর্তী সময়ে নদীটির কিছু অংশ ভরাট হয়ে গেলে বিএস জরিপে দাগটি পরিবর্তিত হয়ে ৫০০৪, ৫০০৫ নম্বরসহ অন্যান্য দাগে অন্তর্ভুক্ত হয়। এসব জমির কিছু অংশ তেগাছিয়া মৌজায় এবং কিছু অংশ ডালবুগঞ্জ মৌজায় অবস্থিত বলে দাবি তাদের।
বিবাদীপক্ষের আরও অভিযোগ, ছালাম নেগাবান বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি, গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন থাকার দাবি করলেও সরেজমিনে এসবের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাদের ভাষ্য, ডালবুগঞ্জ মৌজার ভরাট হয়ে যাওয়া জমির কিছু অংশ তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
তাঁদের অভিযোগ, জমি থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে আপস-মীমাংলার একটি রোয়েদাদনামা তৈরি করে তাতে বিবাদীদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে। পরে বিবাদীদের অজ্ঞাতসারে নথিটি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের স্বার্থে মামলা প্রত্যাহারের আবেদনের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে আদালতে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য সময় চাওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি সদস্য মো. আইয়ুব গাজী, রিয়াজুল ইসলাম, মো. বশির উদ্দিন, মো. সাইফুল খান ও নাসির উদ্দিন মোল্লা। তাঁরা দাবি করেন, ছালাম নেগাবানের বাড়ি বালিয়াতলী নদীর পূর্ব পাড়ে অবস্থিত। অন্যদিকে, বিরোধপূর্ণ জমিতে বাড়ি থাকার যে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের জাহিদুল ইসলামের বাড়ি বলে দাবি তাঁদের।
বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, ৪৭.২ নম্বর স্লুইসের মাধ্যমে কয়েক হাজার কৃষক তাঁদের জমির পানি নিষ্কাশন করেন। স্লুইসের বাঁধ দিয়ে পানি আটকে দেওয়া হলে কৃষকদের পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে জমির প্রকৃত অবস্থান, বাড়ির মালিকানা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।
অভিযুক্তের বক্তব্য: স্বাক্ষর জাল করে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করার অভিযোগের বিষয়ে ছালাম নেগাবান বলেন, “কার্ডের জমি পাওয়ার পর চাষাবাদ করতে গেলে যাদের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে, তারা বিভিন্নভাবে আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করেন। এ নিয়ে মামলা হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান। মামলা আপস-মীমাংসার জন্য আমি স্বাক্ষর জাল করে আবেদন করেছিলাম। এটা আমার ভুল হয়েছে।”
Copyright © 2026 দ্বীপকন্ঠ নিউজ || Dipkantho news. All rights reserved.