
ট্রাক ড্রাইভার আলআমিন (৩৩) হত্যাকান্ডর ঘটনায় ছিনতাইকত ৯ মট্রিকটন রড উদ্ধার করছ পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাউফলর দাসপাড়া বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয় একতা এটারপ্রাইজর গোডাউন থেকে রডগুলা উদ্ধার কর বাউফল থানা পুলিশ। একতা এটারপ্রাইজর স্বত্তাআধিকারি মাসুদ রানা রডগুলা আত্মগাপন থাকা ট্রাকের হেলপার হাসানর কাছ থেকে ক্রয় করছিলন বলে জানা যায়। ছিনতাইকৃত রড ক্রয়-বিক্রয়র মধ্যতা করেন দশমিনার মজিবর নামর এক ঠিকাদার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামর আবুল খায়র ইন্ডাট্রিজ এর কারাখানা থেকে ঢাকা মট্রা-ট-১৬-৫১৩৮ নম্বরর ট্রাকটি ১৩ মট্রিকটন রড নিয় বাউফলর কালিশুরী বাজারর উদ্দশ্য রওয়ানা দেয়। পরের দিন ১৮ এপ্রিল কালিশুরীর খান এটারপ্রাইজ রডগুলা আনলাড করার কথা। কিন্তু ১৮ এপ্রিল ট্রাকের ড্রাইভার আল আমিনকে ফোন করে বন্ধ পান তার মামা মা. সবুজ।
২০ এপ্রিল দশমিনার নদীতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেন পুলিশ। পরে মামা সবুজ খাঁজ খবর নিয় জানতে পারেন ওই লাশ তার ভাগনে আল আমিনের। ময়নাতদন্ত শেষে আল আমিনর লাশ পরের দিন চাঁদপুর নিয় দাফন করা হয়। এ ব্যাপার দশমিনা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীদর বিরুদ্ধ একটি হত্যা মামলা দায়র করন আল-আমিনর মামা সবুজ। এরপরই ঘটনার রহস্য উদঘাটনে নামে পুলিশের একাধিক টিম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দশমিনা থানা পুলিশের এসআই আল মামুন বলেন, ট্রাকের ড্রাইভার আল আমিনক খুন করে ঘাতকেরা রডগুলা কালাইয়া বাজারের একতা এটারপ্রাইজর মালিক মাসুদ রানার কাছে নগদ টাকায় বিক্রি কর দেয়। মাসুদ রানা ওই রডগুলা গুদাম রেখ দেন। তাদের একপর্যায় নিশ্চিত হয়েই রডগুলা মঙ্গলবার রাতে ওই গুদাম থেকে জব্দ করা হয়। আর আল আমিন হত্যাকান্ডর মুল নায়ক আত্মগাপন থাকা ট্রাকের হেলপার হাসানকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।
এদিক রড পরিবহনর কাজ নিয়াজিত ট্রাকটি পুলিশ বাকরগঞ্জর বোয়ালিয়া বাহাদুরপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে। আল আমিনর মামা সবুজ বলন, ছোটবেলায় আল আমিনর বাবা মা মারা যান। এরপর থেকে তার কাছেই বড় হন আল আমিন। মামা সবুজর বাড়ি চাঁদপুর জলার মতলব থানার লামছড়ি গ্রাম। বর্তমান তিনি থাকন নারায়নগঞ্জর ফতুল্লা বউবাজার এলাকায়। সবুজ তার ভাগনেকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়ে একটি ট্রাক কিনে দেন। মামার ট্রাক চালিয় আল আমিন আয়রাজগার করতন। ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামর ট্রান্সপার্ট ম্যানজার রনজিৎ মজুমদারর সঙ্গে চুক্তি করে রডগুলা বাউফলের কালিশুরী বন্দরে পৌছে দেয়ার জন্য আবুল খায়ের ইন্ডাট্রিজ এর ফ্যাক্টরী থেকে রওয়ানা দেয় আলআমিন। সঙ্গে ছিলন ট্রাকের হেলপার হাসান । হাসানর বাড়ি পটুয়াখালী হওয়ায় এই রুট তার চেনা ছিল। আল আমিন প্রথম এই রুট ট্রাক নিয় আসেন। সবুজ বলন, আমার এতিম ভাগনেকে নির্মমভাব খুন করা হলো। আমি খুনিদের উপযুক্ত বিচার চাই। এদিক কালাইয়া গুদাম থেকে ছিনতাই হওয়া রড জব্দ করা হলও রহস্যজনক কারন একতা এটারপ্রাইজর মালিক মাসুদ রানাকে আটক করনি পুলিশ। ছিনতাইকৃত রড ক্রয়ের ব্যাপারে মাসুদ রানা সাংবাদিকদর বলেন, আমি মজিবর নামর এক ঠিকাদারর কাছ থেকে রডগুলা ক্রয় করছি। তিনি (মজিবর) আমার পূর্ব পরিচিত। রডগুলা ছিনতাইকৃত কিনা তা আমার জানা ছিল না। আল আমিন হত্যাকান্ডর বিষয় আমি কিছুই জানি না। আমি নির্দাষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশর এক কর্মকর্তা বলেন, আল আমিনক পরিকল্পিতভাব খুনর পর রড ছিনতাই করা হয়েছে। আর ছিনতাইকৃত রড পাওয়া গেছে একতা এটারপ্রাইজে। সুতরাং একতা এটারপ্রাইজর মালিক মাসুদ রানা কোনো ভাবেই দায় এড়াত পারেন না।
বাউফল থানার ওসি শানিত কুমার গায়েন বলেন, বিষয়টি দশমিনা থানার। রড উদ্ধারের সময় আমরা সহযাগীতা করেছি মাত্র। এর বাইর আর কিছুই বলত পারছি না। এ প্রসঙ্গ পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মা. সাইদুল ইসলাম বলেন, মামলার তদন্ত এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি। তদন্তে যারা অপরাধী প্রমানিত হবে তাদের প্রত্যকই আইনের আওতায় আনা হবে। ###