কাজী ফারজানা ইসলাম
দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের চিকিৎসা সংকট নিরসনে ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জোর দাবি উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও নাগরিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণ একসুরে বলছেন এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে।
স্থানীয়দের দাবী, উন্নয়ন হলেও স্বাস্থ্যসেবায় এখনো মারাত্মক ঘাটতি রয়ে গেছে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়ে ভোলা সদর, বরিশাল কিংবা ঢাকাতে যেতে হয়। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জন্য সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, ফলে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ রোগও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতে, মেডিকেল কলেজ না থাকায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা শিক্ষার জন্য দূর-দূরান্তে যেতে হচ্ছে, যা অনেক পরিবারের জন্য আর্থিকভাবে কষ্টকর। লালমোহনে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন হলে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা শিক্ষা বিস্তার লাভ করবে এবং নতুন প্রজন্ম চিকিৎসা পেশায় এগিয়ে আসতে উৎসাহিত হবে।
সামাজিক ও নাগরিক সংগঠনগুলোর দাবি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় লালমোহনে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। তাদের মতে, এটি শুধু একটি উপজেলার জন্য নয়—পুরো ভোলা জেলার একটি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন। তারা মনে করেন, দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে লালমোহনে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
উল্লেখ্য, ভোলা জেলা বরিশাল বিভাগের বৃহত্তম জেলা এবং এর ভৌগোলিক অবস্থান বিচ্ছিন্ন ও নদীবেষ্টিত। জেলার প্রায় মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত লালমোহন উপজেলা যোগাযোগের দিক থেকে তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। আশপাশের চরাঞ্চল ও চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষের জন্যও এটি সহজে পৌঁছানো যায়—যা একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।
এদিকে, সাধারণ জনগণ দ্রুত এই দাবি বাস্তবায়নে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের ভাষায়, “আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু তার আগে জীবন বাঁচানোর নিশ্চয়তা চাই।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক বাস্তবতা ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় লালমোহনে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান বহুগুণে উন্নত হবে এবং রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসা চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সব মিলিয়ে, লালমোহন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি এখন আর শুধু একটি স্থানীয় উদ্যোগ নয়—এটি হয়ে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য ও প্রাণের দাবি।