পটুয়াখালী প্রতিনিধি।।
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের কক্ষে ওষুধ কোম্পানির মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের (এমআর) প্রবেশকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার পর এ ঘটনা ঘটে। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ও রোগীদের ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্তব্যরত আনসার সদস্য সজিবের দাবি, সকাল সাড়ে ১০টার পর কয়েকজন মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভকে চিকিৎসকদের কক্ষে দেখতে পেয়ে তিনি তাদের বের হয়ে যেতে অনুরোধ করেন। তার ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ের পর রিপ্রেজেনটেটিভদের ডাক্তারদের কক্ষে অবস্থানের কারণে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সমস্যা হচ্ছিল। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন রিপ্রেজেনটেটিভ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. জি এম এনামুল হকের কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। কয়েক মিনিট পর বের হয়ে তারা তাকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন সজিব।
তিনি বলেন, পরে অন্য আনসার সদস্যরা এসে তাকে রক্ষা করেন। তবে ঘটনার পর আরএমও ডা. জি এম এনামুল হক তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে ঘটনার সময় উপস্থিত কোনো মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তাদের সংগঠন ফারিয়ার (ফারিয়া) সভাপতি সোহেল আকনের বক্তব্য নিতে চেষ্টা করা হলেও তিনিও এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডাক্তার জি এম এনামুল হক এর বক্তব্য নিতে চাইলে তিনিও বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন রোগী মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের এমন আচরণের সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও অনেক সময় রিপ্রেজেনটেটিভরা চিকিৎসকদের কক্ষে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। এতে রোগীদের চিকিৎসা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
চিকিৎসা নিতে আসা কুলসুম খানম বলেন, “আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি, ডাক্তারদের রুমে ঢুকতে পারি না। অথচ রিপ্রেজেনটেটিভরা ডাক্তারদের রুমে ঢুকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটান।”
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রোগী পারভীন আক্তার বলেন, “আমরা বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ডাক্তারের রুমের দরজা আটকানো ছিল। হঠাৎ দরজা খুলে তারা বাইরে বের হয়েই আনসারের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।”
এদিকে ঘটনার বিষয়ে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর শহীদুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা মিটিং করেছেন। সেখানে থাকা আনসার সদস্যের আচরণগত সমস্যা ছিল বলে তিনি দাবি করেন। পরে তারা ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।
তিনি বলেন, “মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের বলা হয়েছে, তারা যেন নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ডাক্তারদের সঙ্গে ভিজিট করেন। জরুরি প্রয়োজনে কখনো ৫-১০ মিনিট বেশি সময় প্রয়োজন হলে যেন অন্য কারও সঙ্গে বিবাদে না জড়িয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন।”
হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীদের চিকিৎসার সময়সূচি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে এ ঘটনার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীদের দাবি, চিকিৎসকদের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের নির্ধারিত সময় কঠোরভাবে মানা এবং রোগীর চিকিৎসাসেবা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।