প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ১১:১২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২৪, ২০২৬, ১১:২৫ পি.এম
বাউফলে তরমুজের ট্রাক প্রতি ৭শ’ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

তৌহিদ হোসেন উজ্জ্বল , বাউফল
পটুয়াখালীর বাউফলে তরমুজের ট্রাক থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার আলগী নদীর কালাইয়া বানিজ্য বন্দরের ধানেরহাট এলাকা দিয়ে ট্রলার ও নৌকা থেকে তুলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর উদ্দেশে লোড দিতে হাটের খাজনা আদায়ের ট্রাক প্রতি ৭শ’ টাকা হারে ওই দাঁদা আদায় অভিযোগ ইজারাদারের লোকজনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় লোকজন, ভূক্তভোগি তরমুজ চাষী ও পাইকার সুত্রে জানা গেছে, বিচ্ছিন্ন চন্দ্রদ্বীপের চর ফেডারেশন, চর নিমদী, ধানদী, চর আলগী, রায়সাহেবের চর, চর ওয়াডেলসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে তেঁতুলিয়া পাড়ি দিয়ে কালাইয়া বানিজ্য বন্দরের আলগী নদীর ধানের হাট পয়েন্টে এসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর উদ্দেশে ট্রাকে লোড দেয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ওইসব চর থেকে আসা তরমুজগুলো কালাইয়া হাটে বিক্রি না করলেও হাটের খাজনা আদায়ের নামে প্রকাশ্যে ট্রাক প্রতি ৭শ’ টাকা হারে চাঁদা দিতে হয় হাটের ইজারাদারের লোকজনকে।
চন্দ্রদ্বীপের চাষী মো. আনসার উদ্দিন জানায়, ক্ষেত থেকে তুলে ট্রলারে বোঝাই দিয়ে প্রতিদিন কালাইয়া ধানের হাট এলাকায় নিয়ে যশোর, রাজশাহী, দিনাজপুর, ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রির উদ্দেশে ট্রাকে তরমুজ লোড দিতে হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় তেঁতুলিয়া নদী পাড়ি দিয়ে কালাইয়া ধানের হাট এলাকায় পৌঁছলেই খাজনার নামে ইজারাদারের লোকজনকে ট্রাক প্রতি ৭শ’ টাকা হারে চাঁদা দিতে হয়। টাকা দিতে হয় ঘাটে (ভেড়ানোর জন্য) বার্থিংয়ের নামে ট্রলার প্রতি আরো ৩শ’-থেকে ৪শ’ হারে। কালাইয়া বন্দরে তরমুজ বিক্রি না করলেও এখানে তরমুজের ট্রলার থামলেই ওই নির্ধারিত হারে টাকা না দিলে ইজারাদারের লোকজনের অত্যচারের খরগ নামে চাষীদের ওপর।
সরেজমিন গতকাল সোমবার (২৩ মার্চ) দেখা যায়, দাশপাড়া এলাকার মো. রিপন নামের এক ব্যাক্তি চন্দ্রদ্বীপ এলাকার তরমুজ চাষী মো. আনছারের কাছ থেকে খাজনা বাবদ ৭শ’ টাকা ও ট্রলার নোঙর করায় আরো ৩শ’ মিলে মোট ১হাজার টাকা আদায় করে নিচ্ছেন। রীপনও স্বীকার করছেন খাজনা ও গয়না তীরে ভেরানোর জন্য এই টাকা নিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে কালাইয়া হাটের ইজারাদারের দায়িত্বে থাকা মো. রিপন বলেন হাট ইজারাদার মো. ইকবাল মিয়া তাদের তিন জনকে নিয়োগ দিয়েছেন এই খাজনা উত্তোলনের জন্য।
কালাইয়া হাটের ইজারাদার মো. ইকবাল মিয়া মোবাইলফোনে বলেন, এ বিষয়ে আমি সঠিক কিছু জানিনা তবে এটা যদি বেয়াইনি হয় সেখান থেকে আমরা খাজনা উত্তোলন করা থেকে বিরত থাকবো।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সালেহ আহমেদ বলেন,এ বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
Copyright © 2026 দ্বীপকন্ঠ নিউজ || Dipkantho news. All rights reserved.