1. admin@dipkanthonews24.com : admin :
সোমবার, ১৫ অগাস্ট ২০২২, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কলাপাড়ায় জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কৃষক লীগের আলোচনা সভা ও দোয়া ৭১ এর পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিভিন্ন চক্রান্ত করে যাচ্ছে – এমপি শাওন পটুয়াখালীতে অধ্যক্ষের অপসারণ দাবিতে টায়ার জ্বালিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চরফ্যাশনের ছিদ্দিক এখন হাইকোর্টের আইনজীবী পিরোজপুরে গরম ডালে ঝলসে যাওয়া শিশুর মৃত্যু বাউফলে প্রবাসীর উপর আতর্কিত হামলা, কারাগারে ইউপি সদস্য উন্নয়ন ও গণতন্ত্রবিরোধী চক্রের সকল অপতৎপরতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে- এমপি শাওন বাউফল জিও ব্যাগ ফেলে নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প উদ্ভোধন স্মরণে রিন্টুর বড় বোন এমপি সুলতানা নাদিরা শোক দিবসের এই দিনে  রিন্টুকে মনে পড়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে একটি কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে-পুলিশ কমিশনার

একজন কিশোর মুক্তিযোদ্ধা

মো. নুরুল আমিন
  • আপডেট : রবিবার, ৩ জুলাই, ২০২২
  • ৪১ বার পঠিত

দ্বীপ জেলা ভোলার কৃতিসন্তান বরেণ্য সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমানের হৃদয়ের রংতুলিতে মিশে আছে রূপসি বাংলাদেশ। তার মনের আকাশে উড়ে লাল-সবুজের পতাকা। তিনি স্বচ্ছ, সৃজনশীল ও মানবিক হৃদয়ের একজন মানুষ। ছোটবেলা থেকেই তিনি সমাজের কল্যাণ ও মানব সেবামূলক কার্যক্রমের সাথে জড়িত। সমাজে মানবহিতৈষী কাজের পাশাপাশি তিনি গভীরভাবে দেশকে ভালোবাসেন। জন্মভূমিকে নিয়ে তিনি অনেক স্বপ্ন দেখেন।। রূপসি বাংলার অপরূপ প্রকৃতি, মাটি ও মানুষের প্রতি তার হৃদয়ের দুরন্ত টান। মাতৃভূমির প্রতি অগাধ ভালোবাসার টানে তিনি জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জেগে ওঠেন এবং মুক্তিযুদ্ধে যান।
ভোলার তজুমুদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের  খামার রামদেবপুর গ্রামে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে ১৯৫৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৌলবি আছমত আলি ও মাতা মোহসেনা বেগম। তার পিতা ঢাকার কলতা বাজার বড় মসজিদের ইমাম ছিলেন।  তিনি ভালো মানুষ ছিলেন। সৎ ও নীতিবান ছিলেন। অত্যন্ত সাদামাটা জীবন যাপন করতেন। মানুষের কল্যাণে তিনি কাজ করতেন। তার মা ছিলেন খুব ধার্মিক, পর্দানশীন ও সাদাসিধা আদর্শ এক মহীয়সী নারী। মানুষের বিপদে এগিয়ে যেতেন। তার পিতামাতা দুজনেই খুব দয়ালু ও মানবিক হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। সমাজে তাদের খুব সম্মান ও সুনাম ছিল। তিনি তার পিতামাতার মতো বিনয়ী ও উদার মনের একজন সমাজ সেবক ও দেশপ্রেমিক।
মেঘনা পাড়ের সবুজ-শ্যামল, সুজলা-সুফলা, ছায়াঘেরা-মায়াভরা ছবির মতো সুন্দর  খামার রামদেবপুর গ্রামের আলো-বাতাসে তিনি বড় হয়েছেন। এখানেই কেটেছে তার শৈশব-কৈশর। এই গ্রামের কাদামাটিতে মিশে আছে তার হৃদয়। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা মেঘনার জলে তিনি সাতার কাটতেন। তিনি  খামার রামদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অর্জন করেন। এরপর মির্জাকালু হাই স্কুলে ভর্তি হন। সেখান থেকে এসএসসি পাস করেন। লালমোহনের শাহবাজপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন নিয়ে অনার্স পাস করেন। পরিবারে ভাইবোন তিনজনের মধ্যে তিনি বড়। তাদের পরিবার যেন সুখেভরা চাঁদের হাট।
দেশে ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তখন তিনি অষ্টম শ্রেণিতে পড়েন। ছাত্র হিসেবে তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। বিজ্ঞান বিষয়ে তার আগ্রহ ও পারদর্শিতা ছিল প্রশংসনীয়। তাছাড়া তিনি সংস্কৃতিমনা। ছোটবেলায় সমাজের দুঃস্থ-অসহায় মানুষের সেবক হিসেবে সমাজে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তিনি তার গ্রামকে মায়ের মতো ভালোবাসেন। বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করার স্বভাব তার ছোটবেলা থেকেই গড়ে ওঠে। কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে তিনি ভয় পেতেন না।
তিনি সততা, সত্যবাদিতা ও ন্যায়নিষ্ঠার গুণে গুণান্বিত গুণী এক তারুণ্য। তিনি বিনয়ী, উদার মনের, সদালাপী ও মুক্ত চিন্তার মানুষ। হাসি যেন তার মুখে লেগেই থাকে। গ্রামের মানুষ তাকে ভালোবাসে এবং আদর-স্নেহ করে। গ্রামের মাটি ও মানুষের সাথে তার হৃদয়ের নিবিড় সখ্যতা তিলে তিলে গড়ে ওঠেছে। তাইতো দেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো, তখন দেশপ্রেমিক মাহবুব থেমে থাকতে পারেননি। তাদের গ্রামে হানাদার বাহিনী এসেছে শুনে তার মন কেঁদে ওঠে। মুক্তি পাগল জনতার সাথে তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
গ্রামের মানুষ পাকবাহিনীর ভয়ে কাঁপছে। অনেকে গোপনে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়েছে। তারা লুকিয়ে থাকে। যুদ্ধ করে। রাজাকার-আলবদরদের সহায়তায় পাকসেনারা গ্রামে ঢুকে মুক্তিসেনাদের খোঁজে। গ্রামের নিরীহ-নিরপরাধ মানুষের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করে। মা-বোনদের সম্মান রাখে না। নারী-পুরুষদের নির্বিচারে খুন করে। সব মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে, অসহায় হয়ে পড়েছে। স্বাধীনতার লাল সূর্যের সন্ধানে এবং বাঁচার তাগিদে বড়রা মুক্তিযুদ্ধে গেছে। ছোটদের নেয়নি। ছোটরা খবর আদান-প্রদানের কাজ করতো।
মাহবুব ছোট হলেও খুব সাহসী। দেশপ্রেম তার সাহস বাড়িয়ে দিয়েছে। অদম্য সাহস বুকে নিয়ে তিনি স্বাধীনতার পথে হাঁটতে শুরু করেন। ছোট্ট ছেলে মাহবুবের অসীম সাহস আর বুদ্ধিমত্তা দেখে মুক্তিযোদ্ধারা অবাক হতো। তিনি মানবিক সেবা দিতেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ভোলা ছিল বরিশালের অধীন একটি মহকুমা। ভোলায় ১৯৭১ সালের ৩ মে হানাদার বাহিনী আসে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো ভোলাতেও পাকবাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার বাহিনী নৃশংস গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুট, ধর্ষণ, নির্মম নির্যাতন ও নিপীড়ন চালায়। সারা দেশের মতো এই অঞ্চলের মানুষ রুখে দাঁড়ায় এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
মাহবুব মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার ব্যাপারে তার মা জানতেন না। প্রতিবেশী একজনের কাছে জানতে পেরে তার মা তাকে জিজ্ঞেস করলেন- মাহবুব, ‘শোনলাম, তুই নাকি যুদ্ধে যাস? তুই এতটুকু ছেলে কীসের যুদ্ধ করবি? আমার খুব ভয় হয় বাবা। যদি তোর কিছু হয়ে যায়…… ।’ মাহবুব তার মাকে থামিয়ে বললো, ‘ভয় নেই মা। তুমি কিচ্ছু ভেবো না, মা। আমার কিচ্ছু হবে না। এই দেশ, এই মাটি, এই দেশের মানুষ একবুক আশা নিয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। পাকিস্তানিরা আমাদের গোলাম বানিয়ে রাখতে চায়। আমরা মুক্তি চাই। গ্রামের মানুষেরা যুদ্ধে গেছে মা। আমিও যুদ্ধে যাই। মা, তুমি বাধা দিও না। আমরা স্বাধীনতা চাই।’ তখন তার মা বললেন, ‘তুই সাবধান থাকিস বাবা।’
তিনি যখন যুদ্ধে যান, তখন তার ছোট ভাই মাহফুজুর রহমান ও বোন সাহিদা বেগম মায়ের কাছে গিয়ে বলতো– ‘মা, ভাইয়া কই যায়?’ মা মোহসেনা বলতেন, ‘যুদ্ধে যায়।’ তারা বলতো – ‘যুদ্ধ কী মা! আমরাও যুদ্ধে যাবো।’ ছোট দুটি অবুঝ ভাইবোনকে বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি বলেন, ‘তোদের মুখে হাসি ফোটাবার জন্য, লাল-সবুজের পতাকার জন্য যুদ্ধ করি। মা তুমি ওদের দেখে রেখো। আদর দিও। বাবা বাড়ি এলে বলিও, আমি ভালো আছি।’
তিনি তার মায়ের কাছ থেকে সাহস ও উৎসাহ পেতেন। মায়ের আদর ও বাবার স্নেহময় পরশে তিনি আলোকিত জীবনে জেগে ওঠেছেন। তিনি অন্যায়ের কাছে মাথানত করতে শিখেননি। তিনি লুকিয়ে লুকিয়ে রেডিও শোনতেন। মুক্তিযোদ্ধাদের শোনাতেন।
তিনি গ্রামে ঘুরে বেড়াতেন। মানুষকে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে প্রেরণা দিতেন। সংঘবদ্ধ করতেন। দেশের গান গেয়ে গ্রামের মানুষকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ করতেন। পাকসেনা ও দেশীয় রাজাকারদের ওপর নজর রাখতেন। খবর সংগ্রহ করতেন। মুক্তিবাহিনীর কাছে খবর পৌঁছাতেন। তাদের জন্য খাদ্য যোগাতেন। নিজের ঘর থেকে চাল-ডাল-টাকা দিয়ে দিতেন এবং গ্রাম থেকে তুলে দিতেন। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিদ্দিকুর রহমানের কাছে কিশোর বয়সী মেধাবী ছাত্র মাহবুবের মুক্তিবাহিনীকে সহায়তা ও যুদ্ধে তার অংশ নেয়ার খবর পৌঁছালে তিনি খুব খুশি হন। মাহবুবকে ছাত্র-জনতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে সিদ্দিকুর রহমানের কাছে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা নিয়ে গেলে তিনি তার কম বয়স, অস্ত্র প্রশিক্ষণের কষ্ট ও ঝুঁকির কথা চিন্তা করে তাকে নিজ গ্রুপে কিছু সময় রেখে শাণিত করে তোলেন। এসময় মাহবুব কাচিয়া, টবগি, বোরহান উদ্দিন, দৌলত খান, বাংলাবাজার, তজুমুদ্দিনসহ ভোলার বিভিন্ন এলাকায় কাজ করেন। এরপর গ্রামে ফিরে আসেন।
তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ ধরে পাকবাহিনীর কাছে যেতেন। মেঘনা পাড়ের গ্রামের ছেলে হওয়ার সুবাদে মাঝিমাল্লার কণ্ঠে শোনতে শোনতে কিছু গান তার মুখস্ত হয়ে যায়। তিনি তাদের সেইসব গান শোনাতেন। তার রংঢং দেখে তারা হাসতো। তিনি তাদের ভেতরের খবর জানার চেষ্টা করতেন। রাজাকার বাহিনী তাকে সন্দেহ করতো। তাতে তিনি পাত্তা দিতেন না। তার গান ও রংঢংয়ে খুশি হয়ে পাকসেনারা তাকে আদর করে ‘বহুত আচ্ছা, বহুত আচ্ছা বলতো।’
রাজাকাররা তাকে সন্দেহ করার প্রধান কারণ ছিল গ্রামের মানুষ জানতো না কে কে রাজাকার। তিনি তাদের চিহ্নিত করে দিয়েছেন এবং তাদের মুখোশ খুলে দিয়েছেন। এক সময় তিনি তাদের বদনজরে পড়ে যান। তখন তাদের এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। দূর হতে নজর রাখেন। তিনি তার গ্রামে ও স্কুলে লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমানের জন্মস্থান খামার রামদেবপুর গ্রামটি এখন আর নেই। এটি মেঘনা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো তার স্মৃতির পাতায় স্মৃতিময় প্রিয় সেই গ্রামটি অমলিন।
মেঘনা নদী দিয়ে পাক হানাদার বাহিনী ভোলায় যাতায়াত করতো। ভোলার ওয়াপদা কলোনিতে পাকবাহিনীর প্রধান ক্যাম্প ছিল। বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিবাহিনী ও নারী-পুরুষ ধরে ভোলায় নিয়ে যেতো এবং অমানুষিক নির্যাতন করে মেরে ফেলতো। পাকসেনারা নদীপথে ভোলা যাওয়ার সময় তার নজরে পড়ে। তিনি দ্রুত খবর পৌঁছালে মুক্তিবাহিনী তাদের অনুসরণ করতে থাকে। খলিল মাঝি বাজার নামক স্থানে প্রতিহত করে। মুক্তিবাহিনী ও গ্রামবাসী মিলে পাকসেনা ও রাজাকারদের ঘিরে ফেলে। তুমুল যুদ্ধ হয় এবং এই যুদ্ধে পাকসেনারা পরাজিত হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধারা কিছু অস্ত্র পেয়ে শক্তি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রামবাসীর সাথে লাঠিসোটা নিয়ে এই যুদ্ধে মাহবুবুর রহমান অংশ নেন এবং সাহসী ভূমিকা রাখেন। এছাড়া তিনি গ্রামবাসীর সাথে গুরুচৌকা খালের যুদ্ধে অংশ নেন। এই যুদ্ধে পাক হানাদার ও রাজাকার বাহিনী শোচনীয় পরাজয় বরণ করে। গুরুচৌকা খাল দিয়ে একদল রাজাকার ও পাকবাহিনী ভোলার দিকে যাচ্ছে এমন খবর মাহবুবুর রহমান থেকে ছড়িয়ে পড়ার এক পর্যায়ে বিভিন্নভাবে কমান্ডার আলী আকবর খবর পান। দলটি সন্দ্বীপ থেকে আসছে বলে জানতে পারেন। পরে মুক্তিবাহিনী সংঘটিত হয়ে পাকবাহিনীর ওপর আক্রমণ করে জয়লাভ করে। কিশোর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। পাকবাহিনীর পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বীর সাহসী মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবদের অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয়। সমগ্র ভোলা ১০ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হয়।
বাংলার প্রতিটি জনপদে পাকিস্তানিদের দুঃশাসনের অবসান ঘটে। স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। স্বাধীন দেশের মাটিতে সোনালি সুন্দর জীবন গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেন তিনি। উচ্চ শিক্ষা অর্জনের পর তিনি ভিয়েনায় চলে যান। সেখানে থেকেই সাংবাদিকতা শুরু করেন। দেশের জন্য তার অবদান অবিস্মরণীয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর
%d bloggers like this: