1. admin@dipkanthonews24.com : admin :
বাউফলে স্বর্নিভর এনজিও ৫০ পরিবারের সাথে প্রতারনার অভিযোগ - দ্বীপকন্ঠ নিউজ ২৪
রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যেন্নয়নে কাজ করছেন-এমপি শাওন লালমোহনে ইলিশের অভয়াশ্রম এলাকায় জনসচেতনতা সভা বোরহানউদ্দিন হাসপাতাল দালালদের খপ্পরে, প্রতারিত সাধারন রোগীরা ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক সন্ত্রাস উগ্রবাদ নিরসন প্রশিক্ষণ কর্মশালা বাউফলে সেতু আছে রাস্তা নেই ভোলার আলোচিত মাদক কারবারি বিয়ারসহ আটক মনপুরা কলাতলী ইউপি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় চেয়ারম্যান পদে আলাউদ্দিন হাওলাদার নির্বাচিত আজিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা পদক ও সাংস্কৃতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত এমপি শাওনকে লালমোহন পৌরসভার পক্ষ থেকে নাগরিক সংবর্ধনা চরফ্যাশনে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় শিক্ষকসহ ১৭ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

বাউফলে স্বর্নিভর এনজিও ৫০ পরিবারের সাথে প্রতারনার অভিযোগ

তৌহিদ হোসেন উজ্জ্বল, বাউফল
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ১৮৯ বার পঠিত
Spread the love
তৌহিদ হোসেন উজ্জ্বল ,বাউফল
পটুয়াখালীর বাউফলে বেসরকারী সংস্থা স্বনির্ভর বাংলাদেশ নামের এনজিওর মাধ্যমে অগ্রনী ব্যাংক বাউফল শাখার দেয়া লোনের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে পথে বসেছে ৫০ পরিবার। নির্ধারিত টাকা পরিশোধ করলেও দীর্ঘ বছর পর নতুন করে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে ভয় দেখানো হচ্ছে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে।  উপজেলার সদর ইউনিয়নের হোসনাবাদ কেন্দ্রে লোন বিতরণের ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটেছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে অগ্রণী ব্যাংকের বাউফল শাখা স্বনির্র্র্ভর বাংলাদেশ এনজিওকে লোনের জন্য অর্থায়ন করে। এই অর্থ দিয়ে স্বনির্ভরের ক্ষুদ্র লোন দেওয়ার কথা ছিল অসহায় শতাধিক পরিবারকে। সেই পরিবারগুলো লোনের টাকা সম্পুর্ন হাতে না পেলেও দলিল দস্তাবেজে লোনের সম্পুর্ন টাকা উত্তোলনের প্রমান মিলেছে। উপকারভোগীদের কাছ থেকে কিস্তির টাকা আদায় করা হলেও জমা পরেনি ব্যাংকে। গ্রাহকদের স্বাক্ষর ছবি জাল করে ভুয়া নামে ঋণ উত্তোলনের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগ সাজসে স্বনির্ভর কর্মসূচির দুই কর্মচারী ঘটনার সাথে জড়িত থাকলেও নেওয়া যাচ্ছানা তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা। সম্প্রতি সেই লোন পরিশোধের জন্য অগ্রনী ব্যাংক বাউফল শাখা চাপ প্রয়োগ করলে বিপাকে পরে যায় মানবেতর জীবনযাপন করা পরিবারগুলো। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্বনির্ভরের ততকালীন মাঠকর্মী নাজমা বেগম তাদেরকে সদস্য করেন এবং লোন দেয়ার কথা বলে জাতীয় পরিচয় পত্রের ছায়ালিপি ও ছবি জমা নেয়। কিছুদিন বাদে ওই ব্যাংকের নিচে আসতে বলেন এবং সেখানে তাদের স্বাক্ষর রেখে পাঠিয়ে দেন। প্রথমবারে স্বল্প সংখ্যক সদস্য একবার লোন পেয়ে পরিশোধ করলেও ২য় বার পুনরায় তাদের নামে লোন নেয়া হয়েছে বলে ব্যাংকের কাগজ পত্রে প্রমান মিলে। কিš‘ লোন গৃহীতাদের অভিযোগ, দ্বিতীয়বারে তারা কোন লোন আনেননি এবং প্রথম বারের লোন পরিশোধ করার পরে মাঠকর্মী লোনের পাশ বইও জমা নিয়ে যায়। ঘটনার দীর্ঘ বছর পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে চাপ সৃষ্টি করলে তারা জানতে পারে তাদের নামে পুনরায় লোন আনা হয়েছিলো। অভিযোগ রয়েছে অধিকাংশ সদস্যকে এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নে নিয়ে সদস্য করা হয়েছে। সদস্যের তালিকায় নাম রয়েছে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদেরও। যাদের অধিকাংশদের নামের সাথে ছবি ও স্বাক্ষরের মিল নেই। ভুক্তভোগী মদনপুরা ইউপির রওশনআরাকে সদর ইউপির হোসনাবাদ কেন্দ্রে সদস্য করা হয়। তিনি জানান, মাঠকর্মী নাজমা বেগম তাকে সদস্য করার কথা বলেন এবং লোন দেয়ার আশ্বাস দেন। এরপর তার থেকে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি নেন। এর কিছুদিন পরে নাজমা বেগম তাকে বাউফল অগ্রণী ব্যাংকের নিচে ডাকেন। সেখানে গেলে একটি স্বাক্ষর রেখে অপেক্ষা করতে বলেন। সকাল গড়িয়ে বিকেল হলে তাদেরকে বলেন চলে যেতে, কাজ হবে না। এর দীর্ঘ বছর পরে কিছুদিন আগে তিনি জানতে পারেন ব্যাংক টাকা পাবেন তার কাছে। তাও আবার যে টাকা তিনি নেননি সেই টাকার পরিমাণের সুদে আসলে তিনগুন অর্থাৎ ত্রিশ থেকে আশি হাজার দিতে হবে বলে দাবী করছে অগ্রনী ব্যাংক। দীর্ঘ সময় লোন পরিশোধ না করায় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সুদ যোগ হয়েছে। একই অভিযোগ করে ভুক্তভোগী হানিফ হাওলাদার বলেন, আমার বাড়িতে স্বনির্ভরের কেন্দ্র ছিল। লোন নেওয়ার পরে সেটি পরিশোধ করে দিয়েছি। সম্প্রতি অগ্রণী ব্যাংক বাউফল শাখায় দায়িত্বরত স্বনির্ভরের লোন বিতরণ কর্মকর্তা আব্বাস সাহেব আমাকে ফোন দিয়ে জানায় আমার নামে লোন আছে, টাকা দিতে হবে। আমি তাকে জানাই টাকা পরিশোধ করেছি। তখন আমাকে বলেন, “ আপনার নামেই লোন আছে এবং অনেক বছর হয়ে গেছে। টাকা না দিলে আপনার নামে মামলা হবে।” আমি এই লোনের বিষয় আদৌ কিছু জানিনা। পুলিশ আতংকে এখন এলাকা ছেড়ে অন্যত্র দিনমজুরী কাজ করছি। মদনপুরা ইউপির লিপি বেগম জানান, আমার নামে ১০ হাজার টাকার লোন দেখানো হয়েছে। কিš‘ লোনের বিষয় কোন কিছু না জানলেও ব্যাংক এখন আমার কাছে তিনগুন টাকা দাবী করছে। এবিষয়ে স্বনির্ভরে দায়িত্বরত নাজমা বেগম জানান, এসব ঘটনার বিষয়ে আমি (নাজমা) কিছু জানিনা। অফিসের আদেশে আমি কাজ করছি। অগ্রনী ব্যাংক বাউফল শাখা ব্যব¯’াপক আরিফ রশিদ জানান, স্বনির্ভরের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠিকে সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে স্বল্প সুদে লোন দেওয়া হয়েছিল; আমরা শুধু সরকারের নির্দেশ মতো কাজ পরিচালনা করেছি। তবে সারাদেশেই স্বনির্ভর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!