1. admin@dipkanthonews24.com : admin :
বাউফলের ততুলিয়া নদীর ভাঙ্গনে দিশেহারা মানুষ - দ্বীপকন্ঠ নিউজ ২৪
রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যেন্নয়নে কাজ করছেন-এমপি শাওন লালমোহনে ইলিশের অভয়াশ্রম এলাকায় জনসচেতনতা সভা বোরহানউদ্দিন হাসপাতাল দালালদের খপ্পরে, প্রতারিত সাধারন রোগীরা ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক সন্ত্রাস উগ্রবাদ নিরসন প্রশিক্ষণ কর্মশালা বাউফলে সেতু আছে রাস্তা নেই ভোলার আলোচিত মাদক কারবারি বিয়ারসহ আটক মনপুরা কলাতলী ইউপি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় চেয়ারম্যান পদে আলাউদ্দিন হাওলাদার নির্বাচিত আজিজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা পদক ও সাংস্কৃতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত এমপি শাওনকে লালমোহন পৌরসভার পক্ষ থেকে নাগরিক সংবর্ধনা চরফ্যাশনে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় শিক্ষকসহ ১৭ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার

বাউফলের ততুলিয়া নদীর ভাঙ্গনে দিশেহারা মানুষ

দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্ক:
  • প্রকাশিত : শনিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২২
  • ১৩৭ বার পঠিত
Spread the love

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ভয়াল তেতুলিয়ার কড়াল গ্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত শতবছর বয়সী নারী রোকেয়া বেগম। সব হারিয়ে তেতুলিয়ার পাড়ে ঝুপড়িতে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তার।

নেই স্বামী, ছেলে মেয়ে ও আত্মীয় স্বজন। শনিবার (৮ অক্টোবর) সকালে হাতে লেখা একটি প্ল্যাকার্ড নিয়ে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসনের দাবীতে প্রায় এক কিলোমিটার প্রতীকী মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে কথা বলে। বিভিন্ন কথার মধ্যে একটি বাক্য বেশ জোর দিয়ে বলেন শতবর্ষী রোকেয়া। জন্মের পর থেকে বহু কষ্ট করেছেন তিনি। মরার আগে তাই একটু শান্তি পেতে চান।রোকেয়া বলেন, আমরা কেউ নাই। একটা নাতী নিয়ে নদীর পাড়ে ঝুপড়িতে থাকি। ভিক্ষা করে খাই। দুইবার ঘরবাড়ি নদীতে নিয়ে গেছে। আমারে একটা ঘর দেন, মরার আগে একটু শান্তি দেন। আমি জন্ম থেকে কষ্ট করছি।

সকালে নদী ভাঙ্গনের শিকার নাজিরপুর ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের ভিটাবাড়ি হারানো সাধারণ মানুষ তেতুলিয়া নদীর পাড়ে প্রতীকী মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এতে যোগ দেন নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মহসিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সেলিম মাতুব্বর, আবুল হোসেন মীর ও বিএনপি নেতা প্রফেসর জসীম উদ্দিনসহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা। জানা যায়, রোকেয়া বেগমই শুধু নন, নাজিরপুর ইউনিয়নের ওই ৫টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ আজ উদ্বাস্তু। স্থানীয়দের প্রশ্ন, আজও তারা কেন অবহেলিত? তাদের নিয়ে কি কেউ কখনও ভেবেছে?

নাজিরপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত নারী রুপা (৬৩)। তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, প্রতিবছরই তারা নদী ভাঙনের শিকার হন। আর্থিকভাবে সচ্ছল না হওয়ায় তারা নদীর আশপাশেই ছাপড়া ঘর তৈরি করে থাকেন। তারা কি এদেশের মানুষ নন? তাদের কি শান্তিতে বসবাসের অধিকার নেই, প্রশ্ন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, আপনি আমাদের অভিভাবক, আমাদের দিকে তাকান।

মো. সাকিব হোসেন নামে এক তরুণ জানান, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও তার এলাকার বহু তরুণ-যুবক শতভাগ শিক্ষিত। কিন্তু এর কোনো সুফল তারা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, আমাদের পরিবার নিয়ে থাকার মতো ঘর নেই। কয়েক বছর পর পরই ঘর ভাঙে আমাদের। এখন আমরা টেকসই বেরি বাঁধ ও পুনর্বাসন চাই।

মানবন্ধনে নাজিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মহসিন বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনের শিকার ৫ গ্রামের মানুষ আজ নিঃস্ব। তারা বসতভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তু জীবন যাপন করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও পুনর্বাসনে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অঃদাঃ) রেজা আহমেদ বলেন, নাজিরপুর ইউনিয়নের ভাঙন এলাকার জন্য স্থায়ী বাঁধ তৈরিতে এখনও কোনো প্রস্তাবনা পাঠানো হয়নি। তবে জরুরি জিও ব্যাগের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু অনুমোদন হয়নি। অনুমোদন হলে, আমরা ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করবো।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!