1. admin@dipkanthonews24.com : admin :
সিন্ডিকেট দৌড়াত্বে জিম্মি বরগুনার স্বাস্থ্যসেবা মৃত্যুর অভিযোগ একাধিক - দ্বীপকন্ঠ নিউজ ২৪
শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ০৪:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাঠালিয়ায় সাপের কামড়ে নারীর মৃত্যু বাউফলে ছাগল চোর আটক, এলাকাবাসীর গনধোলাই ‘লঞ্চে সন্তান প্রসব, মা-শিশুর আজীবন ভাড়া ফ্রি’ ভোলা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ মাহবুব-উল-আলম- শ্রেষ্ঠ থানা লালমোহন লালমোহনে অটোরিকশার চাকায় পৃষ্ট হয়ে ৫ বছরের শিশু নিহত মনপুরায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্ট ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত মনপুরায় ঘূর্ণীঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে এমপি জ্যাকবের নগদ অর্থ বিতরন বাউফল উপজেলা প্রসাশনের আয়োজনে উপজেলা চেয়ারম্যানদের বরন অনুষ্ঠান বোরহানউদ্দিনে ভিক্ষুককে পিটিয়ে জখম, হামলাকারী যুবক আটক কলাপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্থ্য ৩৬০০ পরিবার পেলো জাপানের খাদ্য সহায়তা

সিন্ডিকেট দৌড়াত্বে জিম্মি বরগুনার স্বাস্থ্যসেবা মৃত্যুর অভিযোগ একাধিক

মোঃ সানাউল্লাহ, বরগুনা 
  • প্রকাশিত : সোমবার, ৬ মার্চ, ২০২৩
  • ১১০ বার পঠিত
Spread the love

মোঃ সানাউল্লাহ, বরগুনা 

চিকিৎসা যেমন প্রাণ বাঁচায়, তেমনি ভুল হলে হতে পারে মৃত্যু। বরগুনার কুয়েত প্রবাসী হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ একাধিক। গত ২১ ফেব্রুয়ারী তানজিলা আক্তার পুতুল (২৭) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেলে বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারী) ঐ হাসপাতালটি সীলগালা করে প্রশাসন। বরগুনা জেলায় ২৭টি প্রাইভেট হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ একাধিক। অভিযোগ উঠলেও বিচার হচ্ছে না অদৃশ্য কারণে। ভুক্তভোগী পরিবারদের কৌশলে ম্যানেজ করে চলছে রমরমা এসব হাসপাতাল বানিজ্য। কর্তৃপক্ষের উদাসিনতাকে দায়ী করছে সাধারণ মানুষের।

বরগুনা কুয়েত প্রবাসী হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। ২০২২ সনের ২৮ আগষ্ট বরগুনা সদর উপজেলার কুলসুম নামের এক রোগীর মৃত্যু হয় বরগুনা কুয়েত প্রবাসী হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের ভুলের কারণে। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে তদন্ত শুরু করে সিভিল সার্জন। কিন্তু সাত মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তদন্তের ফলাফল প্রকাশ পায়নি। এরই মধ্যে চলতি বছরের ২১ ফেরুয়ারী তানজিলা আক্তার পুতুল নামের এক প্রসূতির ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয় একই হাসপাতালে। মৃত্যুর অভিযোগ উঠলে হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও মালিকসহ সকল কর্মচারীরা আত্মগোপনে চলে যায়। ২২ ফেব্রুয়ারী পুতুলের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে আনে পুলিশ। পরের দিন ঐ হাসপাতালে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপস্থিত হইলে কাউকে না পেয়ে সীলগালা করেন। এছাড়াও বরগুনার প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে ভুল চিকিৎসা ও অপ-চিকিৎসার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

গত বছরে মৃত কুলসুমের স্বামী ইব্রাহিম বলেন- আমার স্ত্রী কুয়েত প্রবাসী হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মারা যায়। আমরা এখন পর্যন্ত এর কোন বিচার পাইনি। এদিকে তানজিলা আক্তার পুতুলের পরিবারকে মামলা না করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩ লাখ টাকা দিয়ে ম্যানেজ চালাচ্ছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন- পুতুলের পরিবার হাসপাতালের ম্যানেজারের নিকট ক্ষতিপূরনবাবদ ৪ লাখ টাকা দাবী করে, পরে ৩ লাখ টাকায় রফাদফা করার প্রচেষ্টা চলছে।

সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে বরগুনা জেলায় ১১৫টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনেস্টিক সেন্টার রয়েছে, লাইসেন্সধারী ৯৩টি, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে লাইসেন্স নবায়ন প্রাপ্ত ১৬টি, আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ২৪টি। এইসব হাসপাতালের সিন্ডিকেট দৌড়াত্বে জিম্মি সাধারণ মানুষ। যার কারণে ভুল চিকিৎসা ও অপ-চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ একাধিক। সাধারণ মানুষের দাবী বরগুনার স্বাস্থ্য সেবা একাধিক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে।  তদারকি না থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে বলে দাবী সচেতন মহলের।

ভূক্তভোগী ও সাধারণ মানুষ আমার সংবাদের প্রতিবেদককে জানান- কুয়েত প্রবাসী হাসপাতালে ইতিপূর্বে নবজাতক চুরি, প্রসূতির মৃত্যু ছাড়াও অনেক অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বরগুনার একাধিক বেসরকারী হাসপাতালগুলোয় জনচক্ষুর আড়ালে ভুল চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয় ল্যাবেগুলোর ভুল রিপোর্ট প্রদানসহ নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ উঠলেও কোন দৃশ্যমান বিচার না হয়ে ম্যানেজ মহলের কারণে সব ম্যানেজ হয় বলেও দাবী তাদের।

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সোহেল হাফিজ বলেন- বেসরকারি হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মনিটরিং বাড়াতে হবে। স্বাস্থ্য প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব ক্লিনিকগুলো রয়েছে এবং অনেক সনদবিহীন অনভিজ্ঞ চিকিৎসকও রয়েছে। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের মনিটরিং আরও বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনেষ্টিক মালিক সমিতির বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি নূরুল আলম বলেন- আমরা বেসরকারী হাসপাতাল সবসময়ে নির্ভুল চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি। সেবা দিতে গিয়ে একটু আধটু ভুল হতেই পারে। আমরা ইতিমধ্যে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়ে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সার্জারী, এনেস্থাসিয়া বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ সনোলোজিষ্ট ছাড়াই এসব প্রাইভেট হাসপাতালে চলছে অস্ত্রোপচারের মত গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা। বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ মোঃ হুমায়ুন শাহীন খান বলেন- সুযোগ সুবিধা ও প্রয়োজনীয় জনবলের স্বল্পতার কারণে ভুল চিকিৎসা হয়। সেই জন্য পর্যাপ্ত সাপোর্ট থাকাটা জরুরি।
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ফজলুল হক বলেন- একটি ডায়াগনেস্টিক সেন্টার চলার জন্য যে জনবল থাকা দরকার তা নেই। আমরা সাধ্যমত তদারকি করছি। তিনি আরও বলেন পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় কিছু ত্রুটি হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো পড়ুন
error: Content is protected !!