দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ
হটলাইন ৯৯৯ নম্বরে পাওয়া একটি ফোন কলের ভিত্তিতে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে গতকাল সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানের সময় উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদসহ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী এবং স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতাদের উপস্থিতি নিয়ে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে বাউফল পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন জামায়াত নেতা-কর্মীরা।
এদিকে আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াত মনোনীত পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, আগামী শুক্রবার বাউফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই জনসভা বানচাল করার উদ্দেশ্যেই বাউফল থানার ওসি ও ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের নেতৃত্বে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মধ্যরাতে জামায়াতের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ৯৯৯ নম্বরে ফোনের ভিত্তিতে যদি অভিযান হয়ে থাকে, তবে সেই অভিযানে ছাত্রদলের সভাপতি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কেন উপস্থিত ছিলেন—তা প্রশ্নবিদ্ধ। এ সময় ভুল তথ্যদাতাকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ওসি সরাসরি একটি দলের পক্ষাবলম্বন করছেন। তাঁর মাধ্যমে এলাকায় সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন সম্ভব নয়। বিষয়টি তাঁরা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাবেন বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ওসির পক্ষপাতমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযানের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। কার্যালয় থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত দাঁড়িপাল্লার বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা কারো পক্ষাবলম্বন করে অভিযান চালানো হয়নি। ৯৯৯ নম্বরের ফোনের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় ছাত্রদলের সভাপতি কিভাবে উপস্থিত ছিলেন, তা তিনি জানেন না। দুপুর দুইটা পর্যন্ত ভুল তথ্যদাতাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তবে শনাক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।