1. admin@dipkanthonews24.com : admin :
  2. sajidahmed848000@gmail.com : Sahol Ahmed : Sahol Ahmed
বাউফলে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কার্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ - দ্বীপকন্ঠ নিউজ || Dipkantho news বাউফলে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কার্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ - দ্বীপকন্ঠ নিউজ || Dipkantho news
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে চ্যাম্পিয়ন লালমোহনের হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মনপুরা মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজে সবক ও দোয়া- মিলাদ অনুষ্ঠিত। মনপুরায় জাল পাতা নিয়ে সংঘর্ষ, ১০ জেলে আহত কলাপাড়ায় বন্দোবস্ত পাওয়া জমিজমার দখল ঠেকাতে ভূমিহীনসহ স্থানীয়দের মানববন্ধন লালমোহনে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণ শ্রমিক নিহত কালাইয়া বিএনপির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে জমি দখল ও বসতবাড়িতে হামলার অভিযোগ জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র গেলন যুবদল সম্পাদক এমপি নয়ন তজুমদ্দিনে অস্ত্রসহ তিনজনকে আটক লালমোহনে জমি নিয়ে বিরোধে হামলার অভিযোগ, আহত ১ বাউফলে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

বাউফলে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কার্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

তৌহিদ হোসেন উজ্জ্বল , বাউফল 
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ২০২ বার পঠিত
Spread the love
তৌহিদ হোসেন উজ্জ্বল , বাউফল 
পটুয়াখালীর বাউফলের  মমিনপুর আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে  একাধিক কর্মচারী নিয়োগ  বাছাই পরীক্ষা ছাড়াই ফলাফল প্রকাশ,  চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ বানিজ্য সহ ব্যাপক অনিয়ম- জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।   এসব অভিযোগ ওই বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।  এঘটনায়  গতকাল   উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক ভুক্তভোগী নারী।
জালিয়াতি করে ফল প্রকাশের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক। তিনি বলছেন এসব ষড়যন্ত্র। তবে সভাপতির বক্তব্যে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য ও ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছর ১২ আগস্ট   মমিনপুর আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক, আয়া, নৈশপ্রহরী ও পরিছন্নতাকর্মী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন প্রধান শিক্ষক। ওই সব পদে   চাকরি দেওয়ার কথা বলে একাধিক চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা নেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক হুমায়ন কবির। ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা চুক্তিতে আয়া, নৈশপ্রহরী ও পরিছন্নতাকর্মী পদে একজন করে  প্রার্থী চুড়ান্ত করেন  তারা। একজন অফিস সহায়ক পদের বিপরীতে  তিনজনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়। যার মধ্যে স্থানীয়  ইউপি সদস্য কাওসার
সিকদারের স্ত্রী মুক্তা আক্তার জন্য ৬লাখ,  বিদ্যালয়ের জমিদাতা সাইফলু ইসলামের পূত্রবধু সাথী আক্তারের জন্য ৩লাখ টাকার চুক্তি হয় ও এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার স্ত্রীর জন্য ৬লাখ টাকা চুক্তি হয়।  ২০২৩ সালের  ২ডিসেম্বর পটুয়াখালী  সরকারি জুবলী উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে চাকরি  প্রত্যাশীদের প্রবেশপত্র দেন বিদ্যালয় প্রধান হুমায়ন কবির। তবে নিয়োগ পরীক্ষার দিন  (২ ডিসেম্বর) সকালে প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে ৪র্থ শ্রেণির সকল পদের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত  করা হয়েছে জানিয়ে  চাকরি প্রত্যাশীদের ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়।
এঘটনার ২৭দিন পর  (২৯ ডিসেম্বর)  কোনো পরীক্ষা ছাড়াই   আয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নৈশপ্রহরী পদে বাছাই পরীক্ষার   ফলাফল প্রকাশ করা হয়।  ফলাফল পত্রে  দেখা যায়, আয়া নৈশপ্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে তিনজন করে পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ২জনই  নামমাত্র প্রার্থী ( ডামি)।  অফিস সহায়ক পদে তিনজন প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় ওই পদে কোনো ফলাফল প্রকাশ করে নি।  বাছাই পরীক্ষার ফলাফল পত্রে বিদ্যালয় ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক ও সদস্য সচিব হুমায়ন কবির ও ভরিপাশা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও নিয়োগ কমিটির সদস্য  মোহাম্মাদ মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষর  ও সীল  থাকলেও  শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ডিজির কোনো প্রতিনিধির  স্বাক্ষর ও সীল নেই। জালিয়াতি করা ফলাফলের কাগজপত্র নিয়ে নিয়োগ    স্থায়ী  করতে  সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে  তদবির শুরু করেন প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি। বিষয়টি  জানাজানি হলে  বঞ্চিত চাকরিপ্রত্যাশীদের তোপের মুখে পড়েন  প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি।  এঘটনার পর থেকে এলাকা ছেড়ে ঢাকা চলে যান সভাপতি।
স্থানীয়  ইউপি সদস্য  কাওসার সিকদার বলেন,  আমার স্ত্রীকে  অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি আমার কাছে ৬লাখ টাকা নেন।  পরে জানতে পারি  আরও  সভাপতি আর দুইজনকে ওই একপদে চাকরি দেয়ার কথা  হলে মোটা অংকের টাকা নেয়। এনিয়ে দ্ব›দ্ব দেখা দিলে অফিস সহায়ক পদ বাদ রেখে বাকি তিনপদে  গোপনে জালিয়াতি করে বাছাই পরীক্ষার  ফলাফল প্রকাশ করে।
আরেক ভুক্তভোগী ও  বিদ্যালয় সভাপতির আপন ভাই মো. সাইফুল ইসলাম বলেন,  বিদ্যালয়ের জমিদাতা আমাদের পরিবার। আমার ভাই ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি। তিনি আমার পূত্রবধুকে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দিতে ৩লাখ টাকা চুক্তিতে রাজি হন। ১লাখ টাকা অগ্রিম নিয়েছেন। চাকরি দেওয়ার পর বাকি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিš‘ সভাপতি আরও দুই জনকে একই পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৬লাখ করে টাকা নেন। আরও অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তিনি ঢাকা চলে গেছেন বলে জানতে পারি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে  স্থানীয়  এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বলেন, আমার স্ত্রী চাকরির  সভাপতিকে টাকা দিয়েছি। তিনি কথা দিয়েছেন চাকরি  হলে আমার স্ত্রীরই হবে। তাই আমি চুপ আছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ও নিয়াগ কমিটির সদস্য সচিব মো. হুমায়ন কবির সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন,  নিয়োগ স্থগিত  রয়েছেন। কোনো পদেই পরীক্ষা হয়নি।  এমনকি তার স্বাক্ষরিত ফলাফলের কাগজও বানোয়াট বলে দাবি করেন তিনি।  আর  চাকরি দেওয়ার কথা কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কারো কাছ থেকে আমি টাকা নেইনি। এমন প্রমান কেউ দিতে পারবে না।  নিয়োগ কমিটির আরেক সদস্য ও ভরিপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক টাকা নেওয়ার বিষয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
নিয়োগ বাছাই পরীক্ষা স্বগিত থাকার পরেও জালিয়াতি করে পরীক্ষা ছাড়া ফল প্রকাশ করার বিষয়টি প্রধান শিক্ষক হুমায়ন কবির, নিয়োগ কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান অস্বীকার  করলেও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কথায় জালিয়াতির সত্যতা পাওয়া গেছে।  সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রথমে আমি স্বাক্ষর দিতে চাইনি।  ‘আমি স্বাক্ষর দিলে সবাই ( ডিজির প্রতিনিধি) স্বাক্ষর দিবেন’ এমন কথা বলে আমার কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক  ওই ফলাফল পত্রে স্বাক্ষর নিয়েছেন।
একপ্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমি অসুস্থ ঢাকাতে আছি। কিছু দিনের মধ্যে বাড়িতে আসব। তারপর সব কিছুর সমাধান হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার  নাজমুল হক বলেন,   কোনো নিয়োগ বাছাই পরীক্ষা হয়নি।  নিয়োগ পরীক্ষা  স্থগিত  করে রাখা হয়েছে। তিনপদে ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু নিয়োগ পরীক্ষা হয়নি এবং শিক্ষা অফিস ও মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না ও স্বাক্ষর নেই তাই ওই  ফলাফল পত্রের কোনো মূল্য নেই।
জেলা শিক্ষা অফিসার  মুহা. মজিবুর রহমান বলেন, নিয়োগ বাছাই পরীক্ষার ফলাফল পত্রে যদি ডিজির প্রতিনিধির স্বাক্ষর না থাকে  তাহলে সেটা বৈধ নয়। এটা নিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। তারপরেও বিষয়টি তদন্ত করে  ব্যবস্থা নিব।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এবিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো পড়ুন