
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে ১১৩ পটুয়াখালী ৩ গলাচিপা-দশমিনা নির্বাচনী আসনে নির্বাচনী লরাই জমে ঊঠেছে। এ আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিন্দীতার মাঠে সরব থাকলেও এলাকার সাধারন ভোটারদের ধারনা মুল লরাই হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সমার্থিত প্রার্থী নুরুল হক নুর ও বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের সাথে। এ আসনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সমার্থিত প্রার্থী হয়ে ট্রাক মার্কা নিয়ে লরছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশ গন অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে লরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তারাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল শাখার সাবেক সভাপতি মোঃ হাসান মামুন। ভোটের মাঠে দুজনেই রয়েছেন শক্ত অবস্থানে।
বিগত দুইযুগ হাসান মামুন এ আসনে বিএনপিকে সংগঠিত করাসহ নেতাকর্মিদের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার কারনে এলাকার বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মিদের মধ্যে রয়েছে তার ব্যাপক গ্রহন যোগ্যতা। সে সুবাদে এ নিবাচর্নী আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্তির অগ্র দাবীদার ছিলেন তিনি। কিন্তু বিএনপি গন অধিকার পরিষদের সাথে নিবাচর্নী জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ আসনটি গন অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় এ সিদ্ধান্ত স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের সামান্য সংখ্যক নেতাকর্মি মেনে নিতে পারলেও দশমিনা উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি আব্দুল আলীম তালুকদার এবং গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারন সম্পাদক আব্দুস সত্তার হাওলাদারসহ বেশির ভাগ নেতাকর্মি স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিবাচর্নী প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে।
২৯ ডিসেম্বর হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পত্র জমা দিলে ৩০ ডিসেম্বর এক চিঠির মাধ্যমে হাসান মামুনকে বহিস্কার করেন কেন্দ্রীয় বিএনপি। কিন্তু স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের দাবী,২৭ ডিসেম্বর তিনি নিজেই বিএনপির নিবার্হী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন । তিনি বলেন, এ আসনের বিএনপির নেতাকর্মি ও সর্মাথদের মতামতের ভিত্তিতেই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। দুই উপজেলার বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মিদের দলীয় সমার্থীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করানোর উদ্দিশ্যে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন,পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি বাবু ¯েœহাংশু সরকার কুট্টি,সাধারন সম্পাদক এডঃমজিবুর রহমান টোটন ১১জানুয়ারী গলাচিপায় এবং ১২ জানুয়ারী দশমিনায় স্থানীয় বিএনপির সাথে দুটি সমযোতা বৈঠক করে বিলকিস জাহান শিরিন নেতাকর্মিদের উদ্দিশ্যে বলেন, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধন্ত মেনে সকলের কাজ করতে হবে। ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৭ জানুয়ারী কেন্দ্রীয় বিএনপি এক চিঠির মাধ্যমে দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করলেও দলীয় নেতাকর্মিদের অবস্থনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি। অপর দিকে নুরুল হক নুর দুই উপজেলা বিএনপির কিছু সংখ্যক নেতাকর্মি ও তার নিজ দল গন অধিকার পরিষদের নেতাকর্মিদের নিয়ে নিবার্চনী প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে।
২০১৯ সালে ভিপি হওয়ার পর থেকেই এ এলাকায় যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে শুরু করে নুরুল হক নুর। এতে এলাকায় তার পরিচিতি বৃদ্ধি পায়। বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসাবে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মিদের নুরুল হক নুরুর পক্ষে কাজ করার কথা থাকলেও দুই উপজেলার বেশির ভাগ বিএনপি দলীয় নেতাকর্মি স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে এ আসনে তুমুল প্রচার-প্রচারনায় ব্যাস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এখানে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত হিসাবে প্রতিন্দীতা করছেন অধ্যাপক শাহ আলম এবং ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে লরছেন মুফতি আবু বকর সিদ্দিক
গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি মো: সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ”সুখে দু:খে হাসান মামুনকে কাছে পেয়েছি,তাই তাকে ছেড়ে যাইনি। আমরা হাসান মামুনের পক্ষে আছি এবং শেষ পযর্ন্ত থাকবো। ১২ই ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসানমামুনের ঘোড় ামার্কার বিজয় সুনিশ্চিত ইনশাআল্লাহ।
দশমিনা উপজেলা বিএপির সদ্য সাবেক সাধারন সম্পাদক শাহ আলম শানু বলেন,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি পটুয়াখালী ৩ দশমিনা-গলাচিপা আসনটি জোট প্রার্থী হিসাবে গন অধিকার পরিষদ সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরকে ছেড়ে দিয়েছে এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমান স্থানীয় বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মিদের নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সুবাদে আমরা নুরুল হক নুরের ট্রাক র্মাকার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি। ট্রাক র্মাকা বিজয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী।