
ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের উত্তর পশ্চিম চরমোল্লাজী গ্রামের এক নিরিহ দিনমজুরের ভোগদখলীয় জমি জবর দখল করে রাতের আধারে ঘর উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার প্রভাবশালী মৃত মো. মুজাম্মেল হকের ছেলে মোঃ মজিবল হক (৫০) তার ছেলে মোঃ আল আমিন (৩০) স্ত্রী কুলছুম (৪৫) এর বিরুদ্ধে।
অসহায় দিনমজুর ইব্রাহিম অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চতলা এলাকার হাজী সেরাজল হক ১৯৬৫ইং সনে ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের, জেএল-৫১, চরমোল্লাজী মৌজার এসএ ২২৮ নম্বর খতিয়ান এবং জমাখারিজ খতিয়ান ৪৮৩ এর ২৫৪ নম্বর দাগ ভূক্ত ৭৪ শতাংশ জমি খরিদ সুত্রে মালিক হয়ে ভোগ দখল করে আসছি। উক্ত জমির খরিদ সূত্রে মালীক হাজী সেরাজল হকের মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশ সুত্রে মালিক হয়ে বড় ছেলে মো. কাজল মিয়া উক্ত খতিয়ান ও দাগ ভূক্ত ৪০ শতাংশ জমি ভোগ দখল করে আসছেন এবং ওই জমি কাজল মিয়া তার ছেলে মো. ইব্রাহিমের নামে নামজারী, জমাখারিজ ও খাজনা পরিষদ করেন। আমি ইব্রাহিম ওই জমি দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ ভোগদখল করে শান্তি পূর্ন ভাবে বসবাস করে আসছি। কিন্তু আমার সামান্য জমিটুকুর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পরে জমির পাশ্ববর্তী বসবাসরত প্রভাবশালী ভূমি দস্যু মো. মজিবল হক গংদের।
ওই দখলীয় জমিতে গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারী) গভীর রাতে সকলে ঘুমিয়ে পড়লে মজিবল অবৈধ ভাবে ঘর উত্তোলনের চেষ্টা করলে আমি মো. ইব্রাহিম জানতে পেরে ওই রাতেই লালমোহন থানায় অভিযোগ দায়ের করলে রাতে পুলিশ এসে অবৈধ ঘর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়।
মো. ইব্রাহিম আরো বলেন, উক্ত জমির বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গণ্যমান্যব্যক্তিবর্গ একাধিকবার ফয়সালায় বসলে মজিবল কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায়, তাকে জবর দখল থেকে বিরত থাকতে ফয়সালা করে দেন। মজিবল তা উপেক্ষা করে জবর দখলের চেষ্টা করছেন এবং সোমবার গভীর রাতে পুলিশের বাধা সত্বেও ঘর উত্তেলন করেন। আমি আসহায় গ গরীব মানুষ তাই বিষয়টি প্রশাসনের নিকট জুলুমকারী মজিবল গংদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক সঠিক বিচার দাবী করছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. মজিবল হক গভীর রাতে ঘর উত্তোলনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার কাছে উক্ত জমির কোন কাগজপত্র নেই, তবে মোস্তফা বেপারীর নামে ওই জমির ডিসিআর আছে সে আমাকে স্ট্যাম্প দিবে।
উক্ত বিষয়ে লালমোহন থানার এএস আই মো. রাকিব বলেন,, শুক্রবার রাতে অবৈধ ভাবে ঘর উত্তোলন সংক্রান্ত বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তি। সে অভিযোগের আলোকে আমরা সরেজমিনে যায় এবং ঘর উত্তোলনের কাজ বন্ধ করে দিই। গতকাল রাতে আবার ঘর উঠিয়েছে বিষয়টি শুনে ওসি স্যারকে বলেছি। ওসি স্যার বলেছে জায়গা জমির সমস্যার বিষয়টি আদলতের কাজ। ইব্রাহিমকে বলেছি আদালতের মাধ্যমে ১৪৪/১৪৫ নিষেধাজ্ঞা জারী করে নিয়ে আসতে। আদালত যে নির্দেশ দিবে আমরা সে মোতাবেক কাজ করবো।