
হিজরী সন হলো ইসলামিক পঞ্জিকা সাল। এটা শুরু হয়েছিল ৬২২ খ্রিস্টাব্দে। হিজরীসালের প্রথম বছর বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ ও তার সাহাবীরা পবিত্র মক্কা থেকে ইয়াসরিব তথা মদিনায় হিজরত করেন। যাকে আমরা হিজরত বলে থাকি। হিজরি সনের প্রথম মাস হলো পবিত্র মুহররম মাস। আর এটার তারিখ গণনা করা হয় সন্ধ্যার পর থেকে। পবিত্র কোরআন ও হাদিস শরীফে এ মাসকে অত্যন্ত ফজিলত পূর্ণ বলা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের ভাষায় এই মাসটি হলো “আরবাআতুন হুরুম” বা সম্মানিত চার মাসের অন্যতম। হাদিস শরীফে পবিত্র রমজান মাসের পর পবিত্র মুহররম মাসের রোজা রাখার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন পবিত্র রমজানের পর মহান আল্লাহর নিকট পবিত্র মুহররমের রোজা শ্রেষ্ঠ। (সহীহ মুসলিম – ৩৬৮)। পবিত্র কোরআনে এ মাসটিকে শাহরুল্লাহ তথা আল্লাহর মাস বলা হয়েছে এবং ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনার কারণে পবিত্র মুহররম মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
*হিজরী সনের ইতিহাস: আমাদের প্রিয় নবী হযরত রাসূলে কারীম সা.এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই মূলত পবিত্র মুহররম মাসকে হিজরীসনের প্রথম মাস ধরে গণনা শুরু করা হয়েছে। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক রা. এর শাসনামলে ইরাক ও কুফার গভর্নর ছিলেন সাহাবী হযরত আবু মুসা আশয়ারী রাঃ , সংগত কারণেই খলিফা এবং গভর্নরের মাঝে চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ হত। হযরত আবু মুসা আশহারী রা. হযরত ওমর ফারুক রা. এর নিকট পত্র লিখলেন এই মর্মে , আমিরুল মুমেনীন , আপনার নিকট থেকে কোন পরামর্শ বা নির্দেশ সম্বলিত কোন চিঠি আমাদের কাছে পৌঁছালে তার দিন,তারিখ, মাস,কাল ইত্যাদি না থাকার কারণে কোন চিঠি কোনদিনের উহা নিরূপণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না যারফলে আপনার নির্দেশ কার্যকর করতে আমাদের সমস্যা হয়। অনেক সময় চিঠির ধারাবাহিকতা না পেয়ে আমরা বিব্রত বোধ করি। গভর্নর হযরত আবু মুসা আশহারী রা.এর চিঠি পেয়ে হযরত ওমর ফারুক রা. একটি সভার আহ্বান করেন,এ সভায় বলা হয়,এখন থেকে একটি ইসলামি সন নির্ধারণ করা হবে।উক্ত সভায় হযরত ওসমান রা., হযরত আলী রাঃ সহ অনেক বিশিষ্ট সাহাবী উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সবার মতামতের ভিত্তিতে হযরত ওমর ফারুক রা.ওই সভায় একটি ইসলামী সন প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত দেন। তবে কোন মাস থেকে বর্ষ সূচনা হবে তা নিয়ে মতবেদ দেখা দেয়। কেউ বলেন হযরত রাসূলে কারীম সা. এর জন্মের মাস তথা রবিউল আউয়াল মাস থেকে আবার কেউ বলেন রাসূল সা. এর ওফাত তথা মৃত্যুর মাস থেকে গণনা শুরু হবে। দীর্ঘ আলোচনার পর হযরত ওমর ফারক রা. বলেন রাসুল সা. এর জন্মের মাস থেকে গণনা করা যাবেনা কারণ হযরত ঈসা আঃ এর জন্মের দিন থেকে খ্রিস্টানরা গণনা শুরু করেছিল আর রাসূল সা.বলেছেন তোমরা ইহুদী ,খ্রিস্টানদের বিরোধিতা কর, তাই আমরা যদি উহা করি তাহলে ইহুদি,খ্রিস্টানদের অনুসরণ করা হবে। অপরদিকে রাসূল কারীম সা.এর ওফাত তথা মৃত্যুর সময় থেকে বর্ষ গণনার শুরু করলে তাঁর মৃত্যুর শোক আমাদের মাঝে বারবার উদিত হবে। তাই বর্ষগণনা শুরু হবে হিজরতের মাস থেকে তথা যেটা ছিল পবিত্র মুহররম মাস এবং হযরত ওমর ফারুক রা. এর এই বক্তব্যকে হযরত আলী রা. ও হযরত ওসমান রা. সহ সকল বিশিষ্ট সাহাবীগন স্বাগত জানান। সেখান থেকেই হযরত ওমর ফারুক রা.এর মাধ্যমেই হিজরী সন গণনা শুরু হয়। পরিশেষে আমরা বলতে পারি , আরবি সকল মাসই অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে আরবি মাস সমূহের মর্যাদা ধরে রাখার তৌফিক দান করুন -( আমীন)।
লেখক: আতাউর রহমান খান আলম, ঝালকাঠি, শিক্ষক -বৈদারাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়