
এইচ. এম. এরশাদ,বোরহানউদ্দিন
ভোলার মেঘনা ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, অবৈধ ড্রেজার ও বালুবাহী নৌযান জব্দ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংশ্লিষ্ট ১০টি সরকারি দপ্তরে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহিবুল্লাহ খোকন এ নোটিশ প্রেরণ করেন।
নোটিশের প্রাপকরা হলেন—বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর চেয়ারম্যান, ভোলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, তজুমুদ্দিন ও চরফ্যাশন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা এবং বিআইডব্লিউটিএর ভোলা কার্যালয়।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর বিধান লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে ড্রেজার ও বালুবাহী নৌযানের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভয়াবহ নদীভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে, যা জেলার পরিবেশ, জনজীবন ও অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১ আগস্ট দৈনিক আমাদের সময়-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে ভোলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণের বিষয়টি উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার বসতবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কবরস্থান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪ ধারা অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া সরকারি বা খাসজমি, নদীর তলদেশ কিংবা চরাঞ্চল থেকে বালু, মাটি বা পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এরপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে সব ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, ব্যবহৃত ড্রেজার, বালুবাহী নৌযান ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ, জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীতীর রক্ষায় নিয়মিত নজরদারি জোরদার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে। নোটিশে প্রাপ্তির তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় উচ্চ আদালতে রিট আবেদনসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে নোটিশ প্রেরক অ্যাডভোকেট মোহিবুল্লাহ খোকন বলেন, “ভোলার মানুষ বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আইন অনুযায়ী দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে পরিবেশ ও জনস্বার্থে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হব। অন্যদিকে ভোলার মেঘনা ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেতুলিয়া নদীর হাসের চর ও উত্তোর মাথায় চর বাগমারা এলাকায় থেকে অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলনের ফলে তিব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হাজারো একর কৃষি জমি নদীগর্ভে বিলিন হতে চলেছে। এর মধ্যেই বোরহানউদ্দিন তেতুলীয়ায় বালু মহাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে । মেঘনা ও তেতুলিয়ার গঙ্গাপুরে বালু মহাল হলে ভোলার কয়েক লাখ মানুষ অসহায় হয়ে পড়বে। বালু উত্তোলন প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক ” বালু উত্তোলন বন্ধ করো ভোলা ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা রক্ষাকরো স্লোগানে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এছাড়াও বোরহানউদ্দিন তেতুলিয়ায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করায় তীব্র ভাঙন শিরোনামে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমার সংবাদ ও বরিশাল থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের পরিবর্তন পত্রিকাসহ একাধিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। বালু উত্তোলন প্রতিরোধে আইনি নোটিশ করায় এডভোকেট মহিবুল্লাহ খোকন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক সহকারী এর্টর্নি জেনারেল ইব্রাহীম খলিলসহ সাংবাদিক তকি খানের প্রসংশা করেন লাখো মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও চায়ের দোকানসহ পাড়া মহল্লায় তাদের প্রসংশা করছেন অসহায় হাজারো পরিবারসহ ফেইসবুক ব্যবহারকারী লাখো মানুষ।