
রুবেল চক্রবর্তী, তজুমদ্দিন
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে পরিচালিত অভিযানে ২১ জেলেকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। এ সময় তিনটি মাছ ধরার ট্রলার ও জাল জব্দ করা হয়। পরে আটক জেলেদের মধ্যে ১৮ জনকে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাকি তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরিবারের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে উপজেলার মহিষখালী মাছঘাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বনি আমিনের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের একটি দল এ অভিযান চালায়। এ সময় নদীতে মাছ ধরারত অবস্থায় ২১ জেলেকে আটক করা হয়। জব্দ করা জাল শশীগঞ্জ মৎস্যঘাটে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। তিনটি ট্রলার মৎস্য অফিসের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বনি আমিন আটক জেলেদের মধ্যে ১৮ জনকে সাত দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক তিনজনকে পরিবারের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন- মো. শিপন (৩২), মো. সজিব (১৯), মো. কাশেম (৩৩), মো. ফয়সাল (২৫), মো. সোহাগ (২৫), নুর ইসলাম (২৫), আকবর (২০), মো. রাশেদ (২ে০), মনির (২৮), মো. আইয়ুব (২৮), ইব্রাহীম মাঝি (৫২), মো. রফিক (৪০), মো. শরীফ (২৮), মো. হাফিজ (৩৪), মো. মাকসুদ (৪৮), মো. শাহাদাত (২০), মো. ফারুক (৬৫) ও মো. কামাল (৬২)। এসব জেলেদের বাড়ি তজুমদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বলে জানা গেছে।
জানা যায়, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময়ে সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এক শ্রেণির অসাধু জেলে রাতের আঁধারে নদীতে মাছ শিকার করছিল।এসময় মৎস্য বিভাগের নিয়মিত অভিযানে ২১ জন জেলেকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তাদের ইলিশ শিকারে ব্যবহারিত অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩টি মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)মো.বনি আমিন বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের নিয়মিত অভিযান চলছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যারাই নদীতে মাছ ধরবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে মামলা দায়ের হয়েছে ।