
ইব্রাহিম আকতার আকাশ,ভোলা:
ভোলা সদর উপজেলা রাজাপুর ইউনিয়নে আলোচিত তারেক মাহমুদ বাবু হত্যার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। এ মামলায় যাদেরকে অভিযুক্ত করে আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ আসামিই বাবু হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্যের ইন্ধনে তাদেরকে এ ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি তাদের।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে রাজাপুর ইউনিয়নের ক্লোজার বাজারে মানববন্ধনে এ দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
মানববন্ধনে তারা তারেক মাহমুদ বাবু হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নির্দোষদের মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া আসামিরা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তারেক মাহমুদ বাবুকে চলতি বছরের ২৭ মার্চ রাতে কে বা কারা রাজাপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে পথ গতিরোধ করে তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কয়েক ঘন্টা স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলালের বাড়িতে রাখা হয়। এরপর ২৮ মার্চ ভোররাতে বাবু মারা যায়।
বাবুর মৃত্যুর পর স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল নিহতের বোন ও মামলার বাদী শিখা বেগমকে ফুসলিয়ে নির্দোষী বেশ কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সে মামলায় পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। যাদের মধ্যে ১০ জন উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়েছে।
মানববন্ধনে মামলার ৩ নম্বর আসামি কালাম সিকদার, ৪ নম্বর আসামি কবির উদ্দিন আহমেদ, ৫ নম্বর আসামি নাজিম উদ্দীন ও ৮ নম্বর আসামি আনোয়ার গাজী উপস্থিত ছিলেন।
৩ নম্বর আসামি কালাম সিকদারের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলালের সঙ্গে পূর্ব থেকে তাদের বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদেরকে ঘায়েল করতে বাবুর বোনকে ফুসলিয়ে তাদেরকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যে মামলা করা হয়েছে।
মামলার ৪ নম্বর আসামি কবির উদ্দিন আহমেদ জানান, ইউপি সদস্য হেলাল শ্যামপুর গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। এলাকায় তিনি বেশ আলোচিত একজন মেম্বার। তার ইন্ধনে বাদী তাদেরকে আসামি করে মামলা করেছে। এছাড়াও এ মামলার আসামিরা জেল হাজতে থাকাবস্থায় হেলাল মেম্বার আসামিদের জায়গা জমি জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে।
এ মামলায় উল্লেখিত ১২ আসামির মধ্যে পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বের হয়েছে ১০ জন। মামলার দুই নম্বর আসামি সিফাতকে ১৭ নভেম্বর তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বরিশাল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি এখনো জামিন পাননি। এছাড়াও মামলার এক নম্বর আসামি পলাতক রয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেয়া ভুক্তভোগী আসামিদের দাবি, মামলার দুই নম্বর আসামি সিফাত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। সিফাত এ ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং বেশ কয়েকজনের নাম বলেছে। সিফাত যাদের নাম বলেছে তারা নিহতের বোনের দায়ের করা মামলার এজাহারে নেই। যদিও ৩০ নভেম্বর সিফাতের জবানবন্দির ভিত্তিতে আকবর শিয়ালী নামে একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলালের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন। সে অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাজাপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হেলালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং মানববন্ধনের রিপোর্ট প্রকাশ না করতে এই রিপোর্টারকে একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে ফোন করেন।
তারেক মাহমুদ বাবু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভোলা সদর মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম উদ্দিন জানান, বাবু হত্যার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কে কে জড়িত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আমি এ পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেফতার করেছি। তাদের মধ্যে ১০ জন উচ্চ আদালতের মাধ্যমে কারাগার থেকে বের হয়েছে। ১৭ নভেম্বর মামলার দুই নম্বর আসামি সিফাতকে বরিশাল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আকবর শিয়ালী নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত করছি। পুরো তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ ঘটনার প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব না।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন ফকির জানান, তারেক মাহমুদ বাবু হত্যার তদন্ত এখনো চলছে। যেহেতু ঘটনাটি রাতের আঁধারে ঘটেছে। সেহেতু তদন্ত কার্যক্রম শেষ হতে সময় লাগবে। মামলার চার্জশিট হওয়ার পর এ ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।