
এস এম আলমগীর হোসেন , কলাপাড়া
কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের ম্যারেজ রেজিস্ট্রার মোঃ নেছার উদ্দিনের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নেছার উদ্দিনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কলাপাড়া ক্যাম্প কমান্ডার বরাবর অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগী মোঃ নিয়াজ মাহমুদ (৩৩)।
লিখিত অভিযোগে মোঃ নিয়াজ মাহমুদ বলেন, তার ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে পাচ লক্ষ টাকা দরকার। তার পিতা মোঃ ওবায়দুর রহমানও আমাকে একই বিষয়ে অনুরোধ করেন। ‘আমি যেন তার বড় ছেলে নেছার কে ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা প্রদান করি। পিতা-পুত্র উভয়ই আমাকে মুঠোফোনে অনুরোধ করে এবং আমাকে প্রতিমাসে তাদের ব্যবসা থেকে অর্জিত মুনাফার ৫০% প্রদান করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এবং আমাকে এটাও জানায় যে আমার প্রয়োজন হওয়া মাত্রই তারা আমার সমূদয় টাকা ফেরৎ দিবে। তার ও তার পিতার অনুরোধে গত ২৬.০৯.২০১৯ ইং তারিখে বেসিক ব্যাংকের সাথে নেছারের ব্যাংক এ্যাকাউন্ট নং 6914010002862-এ আমার শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির এ্যাকাউন্ট নং 405712100000176 থেকে উল্লিখিত জনাব নেছারকে RTGS করে পাঁচ লক্ষ) টাকা প্রদান করেছি।
আমাকে নেছার ২মাসে ২০ হাজার টাকা দেন, আর কোন টাকা অদ্যাবধি দেননি। তার কথা ও কাজে মিল না পাওয়ায় এবং আমার বিশেষ প্রয়োজনে দুই মাসের মাথায়ই আমি আমার সমুদয় ৫ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে অনুরোধ জানালে নেছার শুধু সময় ক্ষেপন করেই যাচ্ছেন কিন্তু টাকা দিচ্ছেন না।
তিনি অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, নেছার উদ্দিন আমার ছোটভাই মোঃ অলি উল্লাহর আপন মামা শ্বশুর হওয়ায় আমার ছোট ভাই মোঃ অলি উল্লাহকে নেছার’র কাছে পাঠাই। অবশেষে নেছারের পরিবারের সাথে একটি ঘরোয়া বৈঠকের আয়োজনপূর্বক নেছার সিদ্ধান্ত নেন যে, আমার ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পুরোটাই ৩০.০৮.২০২০ ইং তারিখে প্রদান করবেন যা আমাকে নেছার নিজে মুঠো ফোনে অবহিত করেন। কিন্তু সে তার দেয়া তারিখ অনুযায়ী কোন টাকাই অদ্যবধি আমাকে দেননি। পরবর্তীতে কলাপাড়ায় আমার ও নেছারের পরিবার নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এক পর্যায়ে সবাই যখন নেছারকে টাকা পরিশোধ করার জন্য লিখিতভাবে অঙ্গিকার করতে বলে, তখন সে ফোন রিসিভ করার ভান করে মোবাইলে কথা বলতে বলতে বৈঠক স্থল থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান। এভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আমার টাকা ৫ বছর ধরে অবৈধভাবে আটকিয়ে রেখে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে আমার বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। তিনি আরো বলেন, নেছার উদ্দিন সবসময় ওরা বেপরোয়া আচরণ করে এবং আওয়ামী লীগের সাবেক প্রতিমন্ত্রীর লোক, যদিও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তার কোনো অন্যায় কাজের প্রশ্রয় দেয়নি। কিন্তু ও তাকে ব্যবহার করতো যা সে জানতোও না। আর এই দোহাই দিয়ে সে কাজীর চাকরিটাও হাসিল করেছে। এভাবেই ও বিভিন্ন প্রতারণা করেই চলছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নেছার উদ্দিন বলেন, তিনি টাকা দিয়েছে সত্য, কিন্তু আমাকে নয় ব্যবসা করতে মাছের মাছের আড়তে দিয়েছে। ব্যবসায় লস হওয়ায় আমার কাছে চাচ্ছে।