
এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়াঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা ও মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের সদস্য সচিব আতিকুর রহমান মিলনসহ তিনটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৪ আগস্ট) ভোররাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ডাকাতরা মিলনের বাসা থেকে প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৬ লাখ টাকা ও অন্যান্য মালামালসহ মোট আনুমানিক ২২ লাখ টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। একই রাতে ডাকাতরা আবুল হোসেন খানের বাড়ি থেকে ছয় আনা স্বর্ণালংকার ও নগদ ৬ হাজার টাকা এবং মহিউদ্দিনের বাড়ি থেকে আট আনা স্বর্ণালংকার ও ২৫’শ টাকা নিয়ে যায়।
স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে মহিপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা আতিকুর রহমান মিলন জানান, “আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। পরিবারও বাড়িতে ছিল না। এই সুযোগে আমার বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে।”
এ বিষয়ে মহিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মাহামুদ হাসান বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
###
কলাপাড়ায় ছিনতাইকারীর গ্রেপ্তার: যুবদল নেতা মামুন শিকদারের দৃঢ় ভূমিকা
এস এম আলমগীর হোসেন, কলাপাড়াঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বহুল আলোচিত ১৯ আগস্টের দিনের আলোয় সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ল মূল অভিযুক্ত রুবেল। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) এক দুস্থ নারী ব্যাংক থেকে ৩০ হাজার টাকা লোন নিয়ে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন। ওই নারী প্রতিদিন যুবদলের প্রভাবশালী উপজেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক মোঃ মামুন শিকদারের ফেরিঘাট অফিসে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অসহায় অবস্থার কথা বলতেন।
সিসিটিভি ফুটেজেও প্রথমে চোরকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে মামুন শিকদার বিভিন্ন মাধ্যমে ছবি প্রচারের নির্দেশ দেন এবং ব্যক্তিগতভাবে নিরলসভাবে খুঁজে যান ছিনতাইকারীকে। তিনি ভুক্তভোগী নারীকে প্রতিনিয়ত সান্ত্বনা দিয়ে আশ্বাস দেন-“চোরকে ধরতে না পারলেও যেকোনোভাবে টাকা ম্যানেজ করে দেবো ইনশাআল্লাহ।” ছিনতাই হওয়ার পরপরই ঘটনাটি আপন নিউজে প্রকাশিত হয়েছিল। এর পরই অনেকের নজরে আসে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
অবশেষে নানা প্রচেষ্টা ও অনুসন্ধানের পর রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল ৮টায় মোঃ মামুন শিকদারের নেতৃত্বে ও স্থানীয় সাইফুল আজিম সহযোগিতায় ছিনতাইকারীকে পার্শ্ববর্তী উপজেলা আমতলীর ছোনাউটা এলাকা থেকে আটক করে কলাপাড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে সাইফুল আজিম জানান, ছিনতাইকারী রুবেলকে রোববার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে চারেরখাল সাহাদাতের বাসা থেকে ধরা হয়। রুবেলের বাবার নাম হারুন, বাড়ি দফাদার ব্রিজ এলাকায়।
স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগীর জন্য মাত্র ৩০ হাজার টাকা হলেও এর গুরুত্ব ছিল ত্রিশ লক্ষ টাকার সমান। মামুন শিকদারের নিরলস প্রচেষ্টায় ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে কলাপাড়া থানার এসআই মোঃ জাকির হোসেন বলেন, “ছিনতাই অভিযোগ পেয়ে আমরা ব্যাংকে গিয়ে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। এরপর থেকেই ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করে ধরতে শুরু করি। তবে আজ সকালে স্থানীয়রা তাকে ধরে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।”
জনগণ মনে করছে, এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে সত্যিকার অর্থে জনগণের পাশে দাঁড়ানো নেতাদের প্রতি আস্থা রাখাই সঠিক পথ। মামুন শিকদারকে তারা চাকামইয়ার “অতন্দ্র প্রহরী” ও “কান্ডারী” হিসেবে অভিহিত করছেন।