
দ্বীপকন্ঠ নিউজ ডেস্কঃ
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের (২য় সংশোধিত) আওতায় জাজিরা উপজেলায় নিবন্ধিত ও ক্ষতিগ্রস্ত ইলিশ জেলেদের মাঝে বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গো-বাছুর বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিমের তত্ত্বাবধানে গত ২১ ও ২২ জুন (রবিবার ও সোমবার) উপজেলা পরিষদ চত্বরে ৭৫ জন ইলিশ জেলের মাঝে এই বাছুর বিতরণ করা হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী বাছুরের নির্ধারিত ওজন ও মূল্যের চেয়ে কম ওজনের এবং নিম্নমানের বাছুর পাওয়ায় জেলেরা চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বিতরণ কার্যক্রম ও উদ্দেশ্য:
বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জেলেদের আর্থিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি করা এবং ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকারের লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করা। তিনি বলেন, “সরকার ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে বদ্ধপরিকর এবং জেলেদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে।”
জেলেদের অভিযোগ:
তবে মৎস্য কর্মকর্তার এই আশাব্যঞ্জক বক্তব্যের সঙ্গে বিতরণকৃত বাছুরের বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতিটি বাছুরের ওজন ৭০ কেজি এবং সরকার নির্ধারিত মূল্য ৩০ হাজার টাকা। অথচ, মৎস্য দপ্তর থেকে বিতরণকৃত বাছুরগুলো ছিল রোগা ও পাতলা, যার ওজন ৩০ কেজির বেশি নয়। স্থানীয় বাজার মূল্য অনুযায়ী, এই ধরনের বাছুরের দাম ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সরকারি সহায়তায় কিছুটা স্বস্তি পাবো ভেবেছিলাম। কিন্তু এই ধরনের নিম্নমানের বাছুর পেয়ে আমাদের উল্টো লোকসানের আশঙ্কা হচ্ছে। এই বাছুরগুলোকে সুস্থ করে তুলতে আমাদের আরও অনেক টাকা খরচ করতে হবে।” তারা আশঙ্কা করছেন, এতে তাদের আর্থিক ব্যয় সংক্রান্ত জটিলতা বাড়বে এবং তারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
ঠিকাদার ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া:
এ বিষয়ে ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার আজাদ কনট্রাক্টারের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবেরী রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “বাছুরের কোয়ালিটি ভালো না।”