
পটুয়াখালী প্রতিনিধি॥
পটুয়াখালীর দুমকিতে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে মাদকের আগ্রাসন। গাঁজা ও ইয়াবার সহজলভ্যতায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে তরুণ প্রজন্ম। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত গড়ে উঠেছে ‘মাদকের হাট’। একাধিক এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রি চলছে অনেকটা প্রকাশ্যে। হাত বাড়ালেই মিলছে মরণ নেশার গাঁজা ও ইয়াবা।
সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুমকি উপজেলা শহরের হলপট্টি, পবিপ্রবি গেট, খামারবাড়ি, নতুন বাজার, সরকারি জনতা কলেজ গেট, হাসপাতাল সড়ক, টিএন্ডটি, গার্লস স্কুল ও একে স্কুলের পেছনের রোড, আনন্দ বাজার, মাদ্রাসা ব্রিজ, পাতাবুনিয়া বাজার, লাল খা ব্রিজ, তালতলির হাট, মুরাদিয়ার বোর্ড অফিস বাজার,সাবেক চেয়ারম্যান মিজান শিকদার এর বাড়ির পিছনে সঃ প্রাঃ বিদ্যালের সামনে মুদি দোকানের পাশে, কলবাড়ি হাট (মহিলা মাদ্রাসার কাছে) কদমতলা বাজার ও ব্রিজ, চরগরবদি ফেরীঘাট, লেবুখালী পুরাতন ফেরীঘাট পাইলিং এর মাথায় , পাগলা, বুদ্ধিজীবির মোড়, মৌকরণ ব্রিজের ঢাল, পাঙ্গাশিয়ার খান মার্কেট, হাজিরহাট, ধোপারহাট, তেতুলবাড়িয়া খেয়াঘাটসহ অন্তত: শতাধিক স্পটে চলে মাদকের ব্যবসা। মাদক পাচারে নৌ ও সড়ক পথে গড়ে উঠেছে একাধিক নিরাপদ রুট। সড়ক পথে বরিশাল হয়ে উপজেলা পায়রা সেতু পার হয়ে এবং ঢাকা-চরগরবদি নৌপথে গাঁজা আসে সদরঘাট, ফতুল্লা ও চাঁদপুর থেকে। এসব চালান ভোর রাতে চরগরবদি লঞ্চঘাটে পৌঁছায়। সেখান থেকে সড়ক পথে দুমকি ঢোকে। নির্দিষ্ট ডিলারের কাছে চালান পৌঁছার পর তা ভাগ হয়ে যায় পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের হাতে। হোম ডেলিভারি, মোবাইল কল এবং ‘হাতে হাতে’ পদ্ধতিতে চলছে বিক্রি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবনকারী জানান, ২৫গ্রাম গাঁজা বিক্রি হয় ১হাজার টাকায়, একটি ইয়াবা বিক্রি হয় ৩০০-৩৫০ টাকায়। উঠতি বয়সি তরুণরাই এর প্রধান ক্রেতা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ বা প্রশাসন যখনই অভিযানে যায়, তার আগেই মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে খবর পৌঁছে যায়। ফলে তারা সরে পড়ে বা মজুদ গোপন করে রাখে। যে কারণে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় ম‚ল হোতারা। উপজেলা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির প্রতিটি সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বার বার কথা ওঠলেও প্রতিকারে পুলিশের দায়সারা তৎপড়তায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের একাংশ এবং রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া এত বড় মাদক চেইন চলতে পারে না। তাই মাদক নির্ম‚লে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয় দরকার সামাজিক আন্দোলন এবং জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভ‚মিকা।
এ প্রসঙ্গে দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জাকির হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। বহু মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করেছি। আমাদের কাছে তথ্য এলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেই। তিনি আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তবে সমাজের সচেতন মানুষদের সাহস করে তথ্য দিতে হবে। পরিচয় গোপন রাখা হবে।